যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২৪ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
আপিল শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল
নূর হোসেন নাটের গুরু তাকে ছাড়া যায় না
নিম্ন আদালতের সাজা সঠিক * ৭ খুনের ঘটনা অপরাধ জগতের মাইলফলক

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ৭ খুনের ঘটনাকে অপরাধ জগতের মাইলফলক বলে উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেছেন, টাকার বিনিময়ে মানুষ খুন করানো জঘন্য অপরাধ। নব্য ধনী ও কন্ট্রাক্টর নূর হোসেন সম্পর্কে মাহবুবে আলম বলেন, এ লোকটি হচ্ছে নাটের গুরু, তাকে কোনোভাবেই ছাড়া যায় না। তিনি বলেন, ‘নূর হোসেনদের মতো যারা অতি তাড়াতাড়ি বড়লোক হয়ে যাচ্ছে এরা নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে নানা অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকার জন্য অঢেল টাকা ঢালে। এ মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণে এসেছে, একজন ঠিকাদার এ হত্যাকাণ্ড ঘটানোর জন্য সব টাকা-পয়সা দিয়েছে।’
সেভেন মার্ডারকে অপরাধের মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করার কারণ ব্যাখ্যা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ হচ্ছে আমাদের রক্ষা করা এবং এ হত্যাকাণ্ডে সেই বাহিনীর যুক্ত থাকার পাশাপাশি বাইরের লোকের প্ররোচনা বা টাকার বিনিমিয়ে এ জঘন্য কাজ করা দুর্ভাগ্যজনক। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে নিম্ন আদালতের দেয়া রায় উচ্চ আদালতে বহাল থাকবে বলে আশা করছি। রোববার ৭ খুনের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনকালে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এসব বলেন। পরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে আদালতে দেয়া বক্তব্য তুলে ধরেন অ্যাটর্নি জেনারেল। আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে সহযোগিতা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারোয়ার কাজল। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এহসান উল্লাহ ও এসএম শাহজাহান। জাহিদ সারোয়ার কাজল যুগান্তরকে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। আজ আসামিপক্ষ যুক্তি উপস্থাপন করবে। বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি চলছে। রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে মাঝখানে ১ ঘণ্টার বিরতি দিয়ে বিকাল পর্যন্ত শুনানি চলে। পরে সোমবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেছেন আদালত।

অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপিল শুনানি বেশ কিছুদিন আগেই শুরু হয়েছে। আজ (রোববার) আমি আমার সমাপনী বক্তব্য শেষ করেছি। তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি, এটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। এর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য যুক্ত থাকায় জনমনে বিষণ্ণতা দেখা দিয়েছে। তাই বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে নিম্ন আদালত আসামিদের উপযুক্ত শাস্তি দিয়েছেন। এ সাজা বহাল রাখা উচিত বলেও আমি বক্তব্য রেখেছি। কেননা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ হল আমাদের রক্ষা করা। এ বাহিনীর কেউ যদি হত্যাকাণ্ডের মতো জঘন্য কাজে যুক্ত হয়ে যায় তার চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। এ ঘটনার পেছনে যারা আছে অর্থাৎ নূর হোসেন, কর্নেল তারেককে সরাসরি হত্যাকাণ্ডের স্থানে না দেখা গেলেও তাদের আদেশ-নির্দেশ এবং প্ররোচনায় এ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটেছে।’ তিনি বলেন, ‘নিম্ন আদালত যে সাজা দিয়েছেন তা সঠিক। এ সাজা বহাল রাখার জন্যই আমি বক্তব্য দিয়েছি। এখন আসামিপক্ষ তাদের যদি প্রত্যুত্তর দেয়ার থাকে তা তারা দেবে। শিগগিরই মামলার শুনানি শেষ হয়ে যাবে বলে আমি আশা করি।’ এক প্রশ্নের উত্তরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমি বলেছি, দেশে যত অপরাধ ঘটেছে তার পরিসংখ্যান যদি নেয়া হয় তার মধ্যে এটি অপরাধ জগতের মাইলফলক হয়ে থাকবে।’
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘সাত খুনের ঘটনার পর থেকেই আমাদের উচ্চ আদালত জুডিশিয়াল নোটিশ দিয়েছিলেন এবং মামলা সঠিকভাবে যাতে তদন্ত হয় তার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালতের উদ্দেশ্য ছিল এখানে যাতে কেউ অপরাধ করে পার না পেয়ে যায়। আজকে যদি কোনো অজুহাতে কারও সাজা কমানো হয় তাহলে আইন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আদালতের যে ভূমিকা সেটা ব্যাহত হবে বলে আমি মনে করি।’
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ফতুল্লার লামাপাড়া থেকে অপহরণ করা হয়। ৩ দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ পাওয়া যায়। নিহত নজরুলের স্ত্রী বিউটি ও চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল মামলা করেন। একসঙ্গে দুই মামলার বিচার শেষে ১৬ জানুয়ারি রায় দেন নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন। সেনাবাহিনীর বরখাস্তকৃত লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় রায়ে। বাকি ৯ জনকে দেয়া হয় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড।
 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত