যুগান্তর ডেস্ক    |    
প্রকাশ : ২৬ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
কক্সবাজারে ফের পাহাড় ধস
মৃত্যুর মিছিলে ২ শিশুসহ আরও ৪
বান্দরবানে নিখোঁজ মুন্নির লাশ বাঁশখালী নদী থেকে উদ্ধার, সড়ক যোগাযোগ বিপর্যস্ত
কক্সবাজারে লাইট হাউস এলাকায় মঙ্গলবার ভোরে পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়েন তিন যুবক। পরে তাদের জীবিত উদ্ধার করা হয় -যুগান্তর

টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে মৃত্যুর মিছিলে এবার কক্সবাজারে যুক্ত হল আরও চারজন। মঙ্গলবার ভোরে কক্সবাজার শহরের লাইট হাউস এলাকায় পাহাড় ধসে দুই ব্যক্তি এবং রামুর চেইন্দা এলাকায় দুই শিশু ঘুমন্ত অবস্থায় মারা যায়। মাটিচাপা পড়ে আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। এদিকে চকরিয়ার মিরিঞ্জা পর্যটন স্পটের কাছে বদুঝিরি এলাকার পাহাড় ধসে সোমবার রাত থেকেই বন্ধ হয়ে গেছে চকরিয়া-লামার সড়ক যোগাযোগ। এছাড়া কয়েকদিনের টানা বর্ষণের ফলে মঙ্গলবার ভোর থেকে বান্দরবান জেলা সদরের সঙ্গে লামা ও আলীকদম উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে বান্দরবান জেলা সদরের সঙ্গে চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটির সড়ক যোগাযোগ। খবর কক্সবাজার, বান্দরবান ও চকরিয়ার প্রতিনিধিদের।

কক্সবাজার : কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল মালেক জানান, রামুর চেইন্দা এলাকায় পাহাড় ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় একই পরিবারের সায়মা (৫) ও জিহান (৭) নামের দুই শিশু মারা যায়। মাটির নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় তাদের বাবা জিয়াউর রহমান (৩৫) ও মা আনার কলিকে (২৯)। পরে তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি জানান, এছাড়া মঙ্গলবার কক্সবাজার শহরের লাইট হাউস এলাকায় পাহাড় ধসে মোহাম্মদ শাহেদ (১৮) ও সাদ্দাম হোসেন (২৮) নামে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় দেলোয়ার হোসেন (২৫) ও আরফাত হোসেন (৩০) নামের দুই ব্যক্তিকে মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জেলার ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা জানান, তিন দিন ধরে অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে জোয়ার ও পাহাড়ি ঢল। কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলী, উখিয়া, টেকনাফেও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৬ ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আলী হোসেন পাহাড় ধসে চার ব্যক্তির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, প্রাণহানি ঠেকানোর চেষ্টার ত্রুটি করা হচ্ছে না। ঝুঁকিপূর্ণদের সরানোর চেষ্টা কাজেই আসছে না। পাহাড়ের ওপর, পাদদেশে বসবাসকারীরা মরতে প্রস্তুত তবুও আবাস ছাড়তে চান না। আর এ কারণেই অনাকাক্সিক্ষত এ মৃত্যু।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা একেএম নাজমুল হক জানান, শনিবার থেকে ভারি বর্ষণ হচ্ছে। আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিন বলেন, ফের পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

বান্দরবান : চার দিনের টানা ভারি বর্ষণে বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের বাজালিয়া নামক স্থানটি কোমর পানির নিচে। বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের পাইনছড়া এলাকায় বেইলি সেতু ১০ ফুট পানির নিচে চলে যাওয়ায় তিন দিন ধরে এই পথে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে চকরিয়া-লামা সড়কের মিরিঞ্জা এলাকায় সড়কের ওপর পাহাড় ধসে পড়ায় লামা ও আলীকদম উপজেলা সদরের সঙ্গেও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে জেলার সঙ্গে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে বান্দরবান-রুমা সড়কের দৌলিয়ানপাড়া এলাকায় পাহাড়ি ঢলে রোববার উঁচু পাহাড়ের অংশ ধসে পড়ার পর থেকে নিখোঁজ হন রুমা উপজেলা পোস্টমাস্টার জবিউল হোসেন, কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা গৌতম নন্দী, স্বাস্থ্যকর্মী মুন্নি বড়–য়া এবং রুমার কারবারী মংশৈ মারমার কন্যা ১৮ বছর বয়সী ছাত্রী চিংমে সিং মারমা। এর মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী নদী থেকে সোমবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করা হয় মুন্নি বড়–য়ার লাশ। ধারণা করা হচ্ছে, প্রবল সে াতের কারণে মুন্নির লাশ এতদূর চলে গেছে। পুলিশ প্রথমে অজ্ঞাত হিসেবে লাশটি উদ্ধার করে। পরে থানা পুলিশ লাশের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করলে মুন্নির লাশ শনাক্ত করে তার পরিবার। নিখোঁজ বাকিদের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে মেজর মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের জানান, রুমা পাহাড় ধসের পরপরই সেনা সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতায় নেমে পড়েন। নিখোঁজদের উদ্ধারে ব্যবহার করা হচ্ছে এক্সাবেটরসহ বিভিন্ন ভারি সরঞ্জাম। ৪০ সেনাসদস্য উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত রয়েছে।

চকরিয়া (কক্সবাজার) : সোমবার গভীর রাতে অতি বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে পড়লে সোমবার রাত থেকে চকরিয়া-লামার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। অপরদিকে মঙ্গলবার সকালে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যানপাড়ায় দুটি বসতঘরের ওপর পাহাড় ধসে পড়ে।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খিন ওয়ান নু জানান, চকরিয়া-লামা সড়কে মঙ্গলবার সকাল থেকে ধসে পড়া পাহাড়ের মাটি সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় মাটি সরাতে মঙ্গলবার সারাদিন লেগে যেতে পারে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত