কৃষ্ণকুমার দাস, কলকাতা থেকে    |    
প্রকাশ : ২৬ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
শপথ নিলেন ভারতের নতুন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ
ভারতের ১৪তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিচ্ছেন রামনাথ কোবিন্দ

ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির মেয়াদ শেষ, নতুন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের অধ্যয় শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার ভারতীয় পার্লামেন্টের সেন্ট্রাল হলে এক অনুষ্ঠানে ১৪তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিজেপি মতাদর্শের কট্টর সমর্থক কোবিন্দ। ৭১ বছর বয়সী কোবিন্দ বিহারের গভর্নর ছিলেন। তিনি ভারতের দ্বিতীয় দলিত রাষ্ট্রপতি। এর আগে দলিত শ্রেণী থেকে রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন কেআর নারায়াণন।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে কোবিন্দের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছাড়াও বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও আইনপ্রণেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টায় শপথ নেন কোবিন্দ। আর এর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের সুহৃদ প্রণব মুখার্জির অধ্যায় শেষ হয়। দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবন রাইসিনায় ফেরেন তিনি।

সন্ধ্যায় চা-পানের পর বর্তমান রাষ্ট্রপতি তাকে অবসর সময়ের নতুন ঠিকানা দিল্লির ১০ রাজাজি মার্গে পৌঁছে দেন। এই বাড়িতে বিশেষভাবে একটা বড় লাইব্রেরি তৈরি করা হয়েছে। কারণ প্রণব মুখার্জি প্রচুর বই পড়েন। অবসর সময়ে বই পেতে যাতে অসুবিধা না হয় সেজন্য এ ব্যবস্থা। তবে প্রণব মুখার্জি ক্ষমতার বৃত্ত থেকে সরে যাওয়ার পর কিছুটা হলেও বাংলাদেশ অভিভাবকহীন হয়ে পড়ল। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া, সবসময় নানা পদে থেকে ভারত সরকারকে বাংলাদেশের পাশে পৌঁছে দিয়েছিলেন প্রণব মুখার্জি। ইন্দিরা গান্ধীর দূত হিসেবে বারবার ঢাকা সফর করেছেন তিনি। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে দিল্লিতে নিরাপত্তা দিয়ে রেখেছিলেন তিনি। সেই প্রণববাবুর সংসদীয় ও সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ায় বাংলাদেশ ভারতে একজন বন্ধুহারা হল।

উত্তরপ্রদেশের গ্রামের ছেলে রামনাথ কোবিন্দ সেন্ট্রাল হলে শপথের পর ডিজিটাল ভারত নির্মাণের কথা বলেন। ভারতের প্রধান বিচারপতি জেএস খেহর তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্রপ্রসাদ, প্রথম উপ-রাষ্ট্রপতি ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. এপিজে আবদুল কালাম ও সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির আদর্শ মেনেই তিনি কাজ করতে চান বলে জানান সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। প্রত্যন্ত গ্রামে মাটির ঘর থেকে যাত্রা শুরু করে রাইসিনা হিলস। দীর্ঘ যাত্রাপথের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করলেন রামনাথ। সারা বিশ্বকে এক পরিবার মনে করে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সমস্যা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় প্রবাসী ভারতীয়দের পাশে থাকার অনুরোধও করেন কোবিন্দ। সন্ত্রাসবাদ ও সীমান্ত সমস্যা মোকাবেলায় ভারতীয় জওয়ানদের জরুরি ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি। মহাত্মা গান্ধী, দীনদয়াল উপাধ্যায়, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ও ভীমরাও রামজি আম্বেদকরের আদর্শের কথাও বক্তৃতায় উল্লেখ করেন রামনাথ। শপথগ্রহণের আগে রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান রামনাথ। সাড়ে ১২টায় তিনি নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। এদিন রাষ্ট্রপতির শপথের আগেই সংসদ চত্বরে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে কংগ্রেস।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার জন্য সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে পৌঁছান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, তামিলনাড়–র মুখ্যমন্ত্রী পন্নিরসেলভামসহ অনেকে। এদিন সকালে আকবর রোড থেকে রামনাথ কোবিন্দ প্রথমে যান রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে। বিদায়ী রাষ্ট্রপতিকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে ভারতীয় সময় বেলা ১২.০৩ মিনিটে যান সংসদ ভবনে। সংসদে তাদের স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং উপ-রাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি। এরপর তারা কোবিন্দ এবং প্রণব মুখার্জিকে নিয়ে যান সংসদের সেন্ট্রাল হলে। সেখানেই হয় শপথগ্রহণের মূল অনুষ্ঠান। এরপরেই আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন কোবিন্দ। নতুন রাষ্ট্রপতির সম্মানে এরপর ২১টি গান স্যালুট দেয়া হয়। সংক্ষিপ্ত বৈঠকের পর নতুন রাষ্ট্রপতি ১০ রাজাজি মার্গে অবস্থিত নতুন সরকারি বাসভবনে বিদায়ী রাষ্ট্রপতিকে পৌঁছে দিতে যান।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজসহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, বিভিন্ন রাজ্যের রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী ও বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও দূতাবাসের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিলও উপস্থিত ছিলেন।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত