• বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯
কূটনৈতিক রিপোর্টার    |    
প্রকাশ : ২৬ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
৩০ জুলাই ঢাকায় আসছেন লিসা কার্টিস
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশের আমন্ত্রণে হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা লিসা কার্টিস ৩০ জুলাই ঢাকায় আসছেন। কার্টিস যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক। এ সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হলেও তাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।
ট্রাম্প চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহ ব্যক্ত করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে স্ত্রী মেলানিয়াসহ বাংলাদেশ সফরে আমন্ত্রণ জানান। তারপর সৌদি আরবে আরব-ইসলামিক-আমেরিকান সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সময়ে ট্রাম্পকে বাংলাদেশ সফরে আমন্ত্রণ জানান শেখ হাসিনা। ট্রাম্প সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফর করবেন বলে জানান।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে শেখ হাসিনার সরকারের সরকারি পর্যায়ে কার্যকর যোগাযোগ সৃষ্টি হয় পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময়। পররাষ্ট্র সচিব জুনে ওয়াশিংটন সফরকালে রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি টমাস শ্যাননের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা সেখানে উন্নয়ন সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সন্ত্রাস ও সহিংসতা দমন এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বৈশ্বিক ইস্যুতে আলোচনা করেন। মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি ওই সময় আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রশাসনের সময়ে ঢাকা-ওয়াশিংটন অংশদারিত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে। পররাষ্ট্র সচিব এ সময় চলতি বছরের শেষদিকে দু’দেশের মধ্যে ষষ্ঠ অংশীদারি সংলাপে আমন্ত্রণ জানান। শ্যানন এ সময় আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সফরের সময় নির্ধারণ করা হবে বলে জানান।
পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক ওই সময়েই ট্রাম্পের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট লিসা কার্টিসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা তখন বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বিশেষ করে সন্ত্রাস ও সহিংসতা দমনের বিষয়ে আলোচনা করেন। লিসা কার্টিস বাংলাদেশের বৈচিত্র্যপূর্ণ গণতন্ত্রকে স্বাগত জানান। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন কার্টিস। পররাষ্ট্র সচিব তখনই লিসা কার্টিসকে বাংলাদেশ সফরে আমন্ত্রণ জানান। লিসা কার্টিস আমন্ত্রণ গ্রহণ করে শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসবেন বলে জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ওই আমন্ত্রণের অংশ হিসেবে লিসা কার্টিস বাংলাদেশ সফরে আসছেন। তিনি ভারত সফর শেষ করে বাংলাদেশে আসবেন। লিসা কার্টিসের সফরের প্রস্তুতির বিষয় নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। হোয়াইট হাউসের এই কর্মকর্তার আসন্ন বাংলাদেশ সফরকে নতুন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ড. ইউনূস ইস্যুকে ঘিরে শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে বিগত ওবামা প্রশাসনের সম্পর্কে রাজনৈতিক পর্যায়ে আস্থার ঘাটতি ছিল। বিশেষ করে হিলারি ক্লিনটন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করেছেন বলে বাংলাদেশ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে ক্ষোভ ছিল। ফলে ট্রাম্পের আমলে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কে রাজনৈতিক পর্যায়ে আস্থা ফেরানোর চেষ্টা চলবে বলে আশা করা হচ্ছে। লিসা কার্টিসের সফর সেদিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এই সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে কার্টিসের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক এবং সরকারের সন্ত্রাস দমন সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ে কার্টিসের বৈঠক হতে পারে। এসব বৈঠকে সন্ত্রাস দমন প্রাধান্য পাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ট্রাম্পের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট লিসা কার্টিসের সফরের মূল ফোকাস হবে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন। বিশেষ করে গত বছরের পহেলা জুলাই হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার পর এ ব্যাপারে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারে বিশেষ আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে তাই সফরকালে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল হ্যারি বি হ্যারিস বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। তিনি সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তারপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাবিষয়ক পার্লামেন্টারি কমিটি বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও মিয়ানমারের সঙ্গে মেরিটাইম সহযোগিতা জোরদারে পদক্ষেপ নিতে পেন্টাগনের প্রতি সুপারিশ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধকে ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে চলমান সহযোগিতা জোরদারে জোর দিচ্ছে।
বাংলাদেশে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে গণতন্ত্র জোরদার করার লক্ষ্যে লিসা কার্টিস বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা করবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিগত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র হতাশ ছিল। মার্কিন প্রশাসন আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলহ হোক সেটি চায়। কেননা মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট ইতিমধ্যে বলেছেন, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্র দেখতে চায় না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বর্তমানে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ সফরের আগে লিসা কার্টিস ভারতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন কিনা স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতায় বাংলাদেশ তৃতীয় পক্ষের অংশ নেয়া দেখতে চায় না। বাংলাদেশ চায় সব বিষয়ে ওয়াশিংটন যেন সরাসরি ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ করে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য লিসা কার্টিসের সঙ্গে বৈঠককালে অনুরোধ জানানো হতে পারে বলেও জানায় সংশ্লিষ্টরা।   
 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত