• বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯
যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২৭ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
ভবিষ্যতে অপেক্ষা করছে মহাদুর্যোগ
-ড. একেএম সাইফুল ইসলাম

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় দৈনিক যে আবর্জনা তৈরি হয়, তার ৪০ শতাংশ চলে যায় গভীর-অগভীর ড্রেন ও নালায়। ফলে পানি নামতে পারছে না। এটাই নগরের জলাবদ্ধতার মূল কারণ। ভারি বৃষ্টির পানি কিছুটা ভূ-অভ্যন্তরে যাবে। বাকিটা ড্রেনের মাধ্যমে জলাভূমি, পুকুর-ডোবা, নদীনালায় যাবে। কিন্তু জলাভূমি ভরাট করে নির্বিচারে নগরায়ন হয়েছে। খোদ রাজউক নিন্মভূমিতে প্রজেক্ট করছে। নগরের কোথায় জলাভূমি থাকবে, কিংবা পুকুর-নিন্মভূমি, খাল ইত্যাদি থাকবে- তার পরিকল্পনা কেতাবে আছে, বাস্তবে নয়। ড্যাপ করা হয়েছে, তার বাস্তবায়ন নেই। যে পথে (ড্রেন-খাল) পানি যাবে, সেটি ঠিক নেই। ড. সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, রাজধানীর ১৮ খালের মধ্যে এখন ২/১টি হয়তো আছে। বাকিগুলো দখলদারের বেশির ভাগই ব্যক্তি। কিন্তু তা উদ্ধারের উদ্যোগ নেই। নগরের ড্রেনগুলোর ধারণা ক্ষমতা সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ অবশিষ্ট আছে। ৮০ শতাংশ নানাভাবে ভরাট হয়ে গেছে। আমরা বাড়ি নির্মাণ করি। এর ইট-পাথর-বালু রাস্তায় রাখি। পায়ে পায়ে এর একটি অংশ ড্রেনে চলে যায়। এতে ড্রেনের ধারণ ক্ষমতা কমতে থাকে। পলিথিনসহ প্লাস্টিক দ্রব্য এই সময়ে ঢাকার সবচেয়ে বড় শত্রু। শুধু রাস্তার পাশের ড্রেন নয়, মূল সড়কের নিচে যে গভীর ড্রেন, নালা ও খাল আছে, তাও ভরাট হয়ে গেছে। আরেকটি সমস্যা হচ্ছে, এসব ড্রেন পরিষ্কার করার উদ্যোগ যেমন কম, তেমনি পরিষ্কার করার কর্তৃপক্ষও নেই। ঢাকার ড্রেনগুলোর মালিক ওয়াসা। তারা সম্প্রতি বলছে, এগুলো সিটি কর্পোরেশনের কাছে তুলে দেবে। আবার ঢাকার নদীগুলোর তীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের। এভাবে নগর ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার ওপর সিটি মেয়রের যেমন কর্তৃত্ব নেই, তেমনি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও নেই। তার হাতে কেবল মশা মারার কাজ আছে। এভাবে চলতে পারে না।

ড. ইসলাম বলেন, ঢাকায় যে হারে জনসংখ্যা, ব্যক্তি পরিবহন, পলিথিনের ব্যবহার আর নগরায়ন বাড়ছে তাতে ভবিষ্যতে মহাদুর্যোগ অপেক্ষা করছে। কেবল বিপদে পড়ার পর এভাবে তৎপর না হয়ে নগরকে বসবাসের উপযোগী রাখতে শক্ত হাতে বিদ্যমান আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। এজন্য যদি আরও নতুন আইন প্রয়োজন হয়, সেটা তৈরি করতে হবে। নইলে তাৎক্ষণিক সমস্যা সামনে রেখে প্রতি বছর ড্রেন পরিষ্কার ও ভাঙাগড়ায় জনগণের অর্থ ব্যয় করলে তাকে অপচয় ছাড়া আর কিছুই বলা যাবে না। পানি নেমে যাওয়ার স্থায়ী ব্যবস্থা করে দিলে বা নির্বিঘœ রাখলে বছর বছর মোটা অংকের অর্থ অপচয় হবে না। ফলে রক্ষা পাবে জাতীয় সম্পদ।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত