সিলেট ব্যুরো    |    
প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
আলোচনায় মিসবাহ-হান্নান
আসামি নিয়ে আইন কর্মকর্তার ভারত সফরে তোলপাড়
‘হাজার কোটি টাকার’ মামলার পলাতক আসামিকে নিয়ে আইন কর্মকর্তার (পিপি) ভারত সফরে যাওয়ার ঘটনা বৃহস্পতিবার সিলেটে টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছিল। পলাতক আসামি ও যুবলীগ নেতা আবদুল হান্নানকে নিয়ে সিলেট জেলা পিপি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ মঙ্গলবার ভারতে যান। ‘আসামি হান্নানকে নিয়ে সরকারি আইন কর্মকর্তার ভারত সফর’ শিরোনামে বৃহস্পতিবার দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ নিয়ে সিলেটজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এমন খবরে বিস্মিত-হতবাক হয়েছেন অনেকে।
এদিকে হাওর রক্ষাবাঁধ নির্মাণ দুর্নীতি মামলার অন্যতম ‘পলাতক’ আসামি হান্নানকে নিয়ে আইন কর্মকর্তার বিদেশ সফরের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। বিষয়টিকে সিরিয়াস ঘটনা বলে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। পরে এ ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান।
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, খবরটি তিনি জানেন না। তবে তিনি বলেন, এ রকম ঘটনা ঘটে থাকলে নিঃসন্দেহে তা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করবে। এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম বলেন, এ ঘটনা সত্য হলে আইন মন্ত্রণালয়ের উচিত সেই পিপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা। আইন মন্ত্রণালয় তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি আশা করেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুদকের লোকবল কম, মামলার সংখ্যা অনেক বেশি। অনেক আসামি তাই এই অল্প জনবল দিয়ে সবাইকে গ্রেফতার করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে অতিরিক্ত কমিশনার রুকন উদ্দিন যুগান্তরকে জানান, তিনি প্রগতিশীল মানুষ। নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেন। কে কখন তার সঙ্গে ছবি তুলে তা তো খেয়াল রাখা যায় না। এছাড়া হান্নানের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা নেই। সিলেটের বিশিষ্ট আইনজীবী বেদানন্দ ভট্টাচার্য বলেন, একজন পলাতক আসামিকে নিয়ে আইন কর্মকর্তার বিদেশে সফর দুঃখজনক। আইনের শাসনের পরিপন্থী। তিনি বলেন, এটা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পরিপন্থী। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, এটি দলের জন্য দুঃখজনক।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এটা জঘন্য অপরাধ। সরকারি দলের লোকজন যেসব অপকর্ম করছেন তা গণমাধ্যম তুলে ধরলেও কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সে কারণেই এমন কর্মকাণ্ড করতে দ্বিধাবোধ করছেন না তারা। এখনই এসব থামাতে না পারলে, এসব কর্মকাণ্ডের শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে আগামী নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে। আইন কর্মকর্তা (পাবলিক প্রসিকিউটর) মিসবাহর সঙ্গে সস্ত্রীক ভারত ভ্রমণের ছবি কিছুক্ষণ পরপর ফেসবুকে আপলোড করেন পলাতক আসামি হান্নান। হাওরে বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের মামলায় অন্যতম পলাতক আসামি হলেন হান্নান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবদুল হান্নান। ক্ষমতাধরদের পাশে থাকতেই বেশি পছন্দ করনে হান্নান। রাজনীতিবিদ কিংবা পুলিশের বড় কর্মকর্তা সবার সঙ্গেই তিনি সখ্য। দুদকের মামলায় আসামি হওয়ার পরও বীরদর্পে তিনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আর ছবি তুলে নিজের ফেসবুক ওয়ালে দিয়ে তার ক্ষমতার দাপট দেখাতে ভুল করছেন না তিনি। এ বছরের ২ জুলাই তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। কিন্তু মামলা করার পরও তিনি আত্মগোপন করেননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সিরাজের আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ায় হান্নানকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। মঙ্গলবার পিপি সিরাজের সঙ্গে হান্নান ভারত সফরে যাওয়ার পর এ নিয়ে সমালোচনা চলছে। এ খবর প্রকাশের পর ফেসবুক ওয়াল থেকে বড় নেতা ও পুলিশের বড় কর্মকর্তাদের সঙ্গে থাকা সাম্প্রতিক ছবি সরিয়ে নিয়েছেন হান্নান। তবে এর আগেই তার ওয়াল থেকে সংগ্রহ করা কিছু ছবি সংরক্ষণ করে যুগান্তর। ১২ নভেম্বর রাতে পোস্ট করা তার একটি ছবিতে দেখা যায় একটি গানের আসরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার রুকন উদ্দিন আহমেদকে তিনি ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। এই কর্মকর্তার সঙ্গে এর আগেও তার অনেক ছবি পাওয়া গেছে। ২২ জুন হান্নানের বাসায় ইফতার মাহফিলে যান ওই কর্মকর্তা। ১৮ মার্চের আরেকটি ছবিতে কোনো এক হোটেলে তার সঙ্গে মুখোমুখি আড্ডারত অবস্থায় দেখা যায় পুলিশের ওই বড় কর্মকর্তাকে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত