মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো    |    
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
আগামীতে জাতীয় পার্টি রাজনীতিতে বড় ফ্যাক্টর
এরশাদ
রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিপুল ভোটে পরাজয় নৌকার বা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরাজয় নয়। এ পরাজয় ব্যক্তি সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টুর। মেয়র থাকাকালীন তার সীমাহীন দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, মানুষের প্রতি অসম্মানেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ভোটের ফলাফলে। আর এই নির্বাচনে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তার রংপুরের বাসভবন পল্লী নিবাসে যুগান্তরের সঙ্গে শুক্রবার একান্ত আলাপচারিতায় এ সব কথা বলেন।
তিনি বিগত সময়ের বিভিন্ন নির্বাচনের বিষয়ে আলোকপাত করে বলেন, রসিক নির্বাচন ছিল ইসির (নির্বাচন কমিশন) অগ্নিপরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় ইসি উত্তীর্ণ হয়েছে বলে আমি মনে করি। জাতীয় পার্টির প্রতি রংপুরের মানুষের যে ভালোবাসা তার প্রতিফলন ঘটেছে এ নির্বাচনে। ঝন্টুর প্রতি ক্ষোভের কারণে রংপুরবাসী একজন ভালো মানুষকে মেয়র নির্বাচিত করার যে স্বপ্ন দেখেছিল তার বাস্তবায়ন হয়েছে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার মেয়র হিসেবে বিজয়ে। প্রায় ১ লাখ ভোটের ব্যবধানে মেয়র নির্বাচিত হয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তফা প্রমাণ করেছে মানুষের ভালোবাসা পেলে কিনা হয়। আমরা সঠিক প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছিলাম। মোস্তফা শুধু জাতীয় পার্টির নেতা নয়, সে একজন সাধারণ মানুষের নেতা। সে মাটি ও মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে আছে বলেই রংপুরের মানুষ তাকে নির্বাচিত করেছে। যারা এতদিন ভেবেছিল জাতীয় পার্টি ক্ষয়িষ্ণু হতে চলেছে তাদের কাছে আজ প্রমাণিত হল- শেষ হয়নি, জাতীয় পার্টি নতুন উদ্যমে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। আগামীতে জাতীয় পার্টি দেশের রাজনীতিতে বড় ফ্যাক্টর।
তিনি আরও বলেন, রসিক নির্বাচনের এই ফলাফলের মধ্য দিয়েই ইসি প্রমাণ করেছে, তারা নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের যোগ্যতা অর্জন করেছে। তারা তাদের প্রথম পরীক্ষায় শতভাগ উত্তীর্ণ হয়েছে। রসিক নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর বিজয়কে আমি মনে করি গণতন্ত্রের বিজয়। এ বিজয় আমাদের ধরে রাখতে হবে। আমাদের দেশের মানুষ যে শান্তিপূর্ণ ভোট চায়, রংপুরের মানুষ যে শান্তি চায়, রংপুরের মানুষ পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতা দেখাতে পারে ও ভালোবাসতে পারে- এ নির্বাচনে সুষ্ঠু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠানের ঘটনা তা-ই প্রমাণ করে।
তিনি এ সময় কিছুটা আবেগতাড়িত হয়ে বলেন, আমি গণতন্ত্রের স্বার্থে ক্ষমতা ছেড়ে দিলাম। আমার সঙ্গে সে সময়ে বড় দুই রাজনৈতিক দলসহ ২২ দলীয় জোট অঙ্গীকার করল আমাকে ভোট করতে দেয়া হবে। কিন্তু আমি ক্ষমতা হস্তান্তর করার মাত্র ৬ দিন পর কারারুদ্ধ করল। তত্ত্বাবধায়ক ও বিএনপি সরকার আমাকে ৬ বছর কারাগারের অন্ধকারে রাখে। আমাকে কারাগারে অসুস্থ অবস্থায় বিনা চিকিৎসায় হত্যা করার চেষ্টা করা হল। আমাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দিতে নানা অপকৌশল গ্রহণ করল সে সময়ের সরকার। আমার সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু রংপুরের মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছিল। রংপুরের লাখো মানুষ ডিসি অফিস ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানাল। সরকার বাধ্য হল আমার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করতে। আমিসহ আমার জাতীয় পার্টির ৩৫ জন সংসদ সদস্য সারা দেশে নির্বাচিত হল। রংপুরের মানুষ আমাকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করে নতুন জীবন দিল। আমার পার্টি আজও টিকে আছে। আগামীতেও টিকে থাকবে। যারা জাতীয় পার্টিকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল তারাই আজ ধ্বংস হতে চলেছে। আমি রংপুরের মানুষের কাছে আজীবন ঋণী। আগামীতে রংপুরের মানুষের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হয়ে মরতে চাই। আমি রংপুরের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে থাকতে চাই।
তার প্রতি বিভিন্ন সরকার আমলে নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাকে কারারুদ্ধ অবস্থায় স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয়নি। আমার ব্যক্তি গোপনীয়তাও তারা রক্ষা করতে দেয়নি। কারাগারে আমার কক্ষে সিসি ক্যামেরা রাখা ছিল। আমাকে বিএনপি এক নির্বাচনে তাদের পক্ষে জোটে থাকার প্রস্তাব দিয়েছিল। আমাকে রাষ্ট্রপতির প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। আমি সে প্রস্তাবে যাইনি। আমি আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিলাম। কিন্তু কী হল, আওয়ামী লীগ আমার দল ভাঙল। আমার দলের নেতা আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে মন্ত্রী করল। জাতীয় পার্টিকে ভাগ করে দিল। কিন্তু তবুও জাতীয় পার্টি এখন দেশের রাজনীতিতে বড় শক্তি হিসেবে টিকে আছে। আজও আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে মেজর মঞ্জুর হত্যা মামলা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। বিএনপি নেত্রী স্বামী জিয়া হত্যার বিচার চান না। কিন্তু মঞ্জুর হত্যার ১৪ বছর পর আমাকে সে হত্যা মামলার আসামি বানানো হল। এটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।
সাবেক এ রাষ্ট্রপতি দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, আজকে যারা নূর হোসেন আর ডা. মিলন হত্যা নিয়ে আমাকে অভিযুক্ত করেন, আমাকে স্বৈরাচার বলেন, তাদের প্রশ্ন করতে চাই- আমি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে ছিলাম এটাই কি আমার অপরাধ? আমি গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়েছি এটাই কি ভুল ছিল? তিনি আরও বলেন, যারা ওইসব নিয়ে কথা বলেন, তাদের বলি- বিএনপি আমলে সারের দাবি করা কৃষকের মিছিলে গুলি করে যে ১২ জন কৃষক হত্যা করা হল, আবার কানসাটে বিদ্যুতের দাবিতে মানুষের মিছিলে নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যা করা হল। এখন যে মানুষ নিত্যদিন নিখোঁজ হচ্ছে, গুম হচ্ছে, খুন হচ্ছে তা নিয়ে কেন কথা বলেন না। এ হত্যাকাণ্ডকে কি বলে আখ্যায়িত করবেন তারা।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত