যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
অপহরণ ও গুম
সিজার ফিরেছেন, তিনিও কিছু জানেন না!
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় নিখোঁজরা ফিরে আসছেন -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী * ফিরে আসা ব্যক্তিরা অজানা আতঙ্কে মুখ খোলেন না * নিখোঁজদের অনেকেরই এখনও হদিস নেই

দেশে একের পর এক অপহরণ ও গুমের ঘটনা ঘটছে। ‘রহস্যজনক’ নিখোঁজ হচ্ছেন কেউ কেউ। অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে এসব ঘটনা ঘটায় অপহরণকারীরা। অপহরণের পর কেউ ফিরে আসেন, আবার কেউ ফেরেন না। নিখোঁজের দেড় মাস পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ফিরে এসেছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোবাশ্বর হাসান সিজার। তবে কারা, কী কারণে তাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল তা তিনি স্পষ্ট করে বলতে পারেননি। ফিরে এসে সিজার বলেছেন, হয়তো টাকার জন্য অপহরণ করা হয়েছিল। দেড় মাস একটি অন্ধকার ঘরে আমাকে আটকে রাখা হয়। সেই কক্ষেই দেয়া হতো হোটেল থেকে আনা ঠাণ্ডা খাবার। অপহরণকারীদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা হতো, ‘ওরে ছাড়ব না, মেরে ফেলব।’ ৭ নভেম্বর থেকে কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না সিজারের। বৃহস্পতিবার রাত একটার দিকে ‘নিখোঁজ’ সিজার বাসায় ফিরে আসেন। সাম্প্রতিক সময়ে নিখোঁজদের মধ্যে মঙ্গলবার রাতে ফিরে আসেন সাংবাদিক উৎপল দাস। তিনিও দাবি করেছিলেন, টাকার জন্য তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। সিজারের মতো তিনিও অপহরণকারীদের বিষয়ে কোনো ধারণা দিতে পারেননি। তাকেও একটি অন্ধকার কক্ষে দুই মাস ১০ দিন আটকে রাখা হয়েছিল বলে উৎপল জানিয়েছেন।

যারা দীর্ঘদিন ধরে গুম, অপহরণ নিয়ে কাজ করছেন তারা বলছেন, রহস্যজনক নিখোঁজের পর ফিরে আসা ব্যক্তিরা অজানা আতঙ্কে মুখ খোলেন না। ‘ঝামেলা’ এড়াতে তাদের পরিবারও এ নিয়ে আর কথা বলতে চায় না।

পরিসংখ্যান বলছে, গত চার মাসে শুধু ঢাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন ১২ জন। তাদের মধ্যে ৪ জন ফিরেছেন, দু’জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বাকি ৬ জনের কোনো হদিস নেই। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে কোনো ধারণা দিতে পারছে না। গত আট বছরে রহস্যজনক নিখোঁজের পর যাদের হদিস নেই তাদের মধ্যে একটা বড় অংশ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। গুম হয়েছেন এমন নেতাকর্মীদের একটি তালিকা চলতি বছরের ১১ জুলাই বিএনপি প্রকাশ করেছে। দলটি বলছে, শুধু ঢাকা থেকে গুম হয়েছেন ২৫ নেতাকর্মী। জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবিরের দাবি, তাদের ২৯ জন নেতাকর্মী নিখোঁজ আছেন।

এদিকে হংকংভিত্তিক এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন (এএইচআরসি) ও দেশীয় মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৯৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে ৫২ জনের লাশ পাওয়া গেছে। ফিরে এসেছেন ১৯৫ জন। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ১৪৮ জন।

সিজার যা বললেন : রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় নিজ বাসার সামনে মোবাশ্বর হাসান সিজার সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। বাসার নিচে নেমে চারপাশে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক দিন পর দিনের আলো!’ সংবাদকর্মীদের সঙ্গে ছয় মিনিটের মতো কথা বলেন সিজার। সঙ্গে ছিলেন তার বাবা, বোন ও চাচা।

কান্না চেপে রহস্যজনক নিখোঁজ থাকার সময়ের অভিজ্ঞতার কথা জানান সিজার। তিনি বলেন, ‘ঢাকার আগারগাঁওয়ে একটা বৈঠক শেষে ইউএনডিপি ভবন থেকে বাসায় ফেরার জন্য উবার ডাকি। গাড়িতে ওঠার পর মোবাইল ফোন ব্রাউজ করছিলাম। যতটুকু মনে পড়ে রোকেয়া সরণিতে কয়েকজন ব্যক্তি এসে গাড়িটি থামায়। তারা বলে, ‘এটি চোরাই গাড়ি, নামতে হবে।’ নামার পর আরেকটা গাড়ি খুঁজতে যাব, তখন পেছন থেকে চোখে মলম লাগানো হয়। চোখ জ্বলছিল। পেছনে থাকা একটি মাইক্রোবাসে ধাক্কা দিয়ে তোলা হয়। তোলার পর তারা মুখ চেপে ধরে। তখন জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। ঘুম থেকে জেগে দেখি আমি একটি ঘরে বন্দি। পেছনে হাত-পা বাঁধা। ঘরে একটি ময়লা তোষক। জানালা আছে, তবে সেটি সিল করা। ওখানেই এতদিন ছিলাম।’

দেড় মাসের বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে সিজার জানান, তিনি যে ঘরটিতে বন্দি ছিলেন সেটি ছিল অন্ধকার। পাশেই আরেকটা ঘর ছিল। সেখান থেকে অন্য মানুষের কথাবার্তা শুনতে পাওয়া যেত। হোটেলের ঠাণ্ডা খাবার দেয়া হতো তাকে।

সিজার সংবাদকর্মীদের জানান, অপহরণকারীরা বিভিন্ন সময় টাকা-পয়সা নিয়ে কথা বলত। তার সঙ্গে থাকা ২৭ হাজার টাকাও অপহরণকারীরা নিয়ে নেয়। কিছুদিন ধরে অপহরণকারীরা নিজেদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছিল। তারা বলত, ‘ওরে (সিজার) ছাড়ব না, মেরে ফেলব।’ কিছুদিন পর মনে হতো অপহরণকারীদের কেউ ‘মিসিং’ হয়েছে। অপহরণকারীরা সিজারের বন্ধু-বান্ধবের মধ্যে বড় কেউ (উচ্চ পর্যায়ের) আছে কিনা জানতে চাইত।

ফিরে আসার বর্ণনা দিতে গিয়ে সিজার বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে চোখ বেঁধে একটা গাড়িতে তুলে বিমানবন্দর সড়কের কোনো এক জায়গায় অপহরণকারীরা আমাকে নামিয়ে দিয়ে বলে, ‘তুই চলে যা, পেছনে তাকালে মেরে ফেলব।’ পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ডেকে বাসায় ফিরি। অটোরিকশা চালকের মোবাইল ফোন দিয়ে আব্বাকে বলি, ৫০০ টাকা নিয়ে নামতে। তিনি চালকের ভাড়া মিটিয়ে দেন।’

‘নিখোঁজ’ থাকার সময় গণমাধ্যমের ভূমিকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান সিজার। তার বাবা মোতাহার হোসেন বলেন, ‘আমাদের মনে হচ্ছে আমরা নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি। আমরা খুব খুশি।’

সিজার বছরখানেক আগে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করেন। এরপর কিছুদিন সাংবাদিকতাও করেন। পরে তিনি যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ঢাকায় ফিরে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফামে যোগ দেন। বছর দেড়েক সেখানে কাজ করার পর তিনি অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামের প্রভাব কতটা ভূমিকা রাখছে, সেটি ছিল তার পিএইচডি থিসিসের বিষয়বস্তু।

যারা ফেরেন, মুখ খোলেন না : রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ বা অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনরা বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফিরে আসার পর অধিকাংশ ব্যক্তি বলছেন, চোখ বেঁধে তাদের মাইক্রোবাসে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এর বাইরে তারা কেউ বিস্তারিত আর কিছু বলেননি। আড়াই মাসেরও বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পর ১৭ নভেম্বর বাসায় ফিরেছেন ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ রায়।

গত কয়েক বছরে নিখোঁজ অবস্থা থেকে ফিরেছেন এমন ১৫ জন ব্যক্তিকে নিয়ে গণমাধ্যম সরগরম ছিল। ২০১৪ সালের ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী ব্যবসায়ী আবু বকর সিদ্দিক ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন। ৩৪ ঘণ্টা পর তাকে চোখ বাঁধা অবস্থায় কে বা কারা মিরপুরে ফেলে যায়। তার পকেটে তিনশ’ টাকাও গুঁজে দেয় অপহরণকারীরা। ২০১৫ সালের ১০ মার্চ উত্তরার একটি বাসা থেকে নিখোঁজ হন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ। ৬২ দিন পর ভারতের মেঘালয়ের শিলং থেকে উদ্ধার হন তিনি। ১২ মে তিনি মেঘালয় ইন্সটিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতাল থেকে তার স্ত্রী হাসিনা খানকে ফোন করেন। ভারতীয় পুলিশের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, মেঘালয়ের গলফ গ্রিন এলাকায় ঘোরাঘুরির সময় সে দেশের পুলিশ তাকে আটক করে। ওই সময় তাকে অপ্রকৃতিস্থ মনে হচ্ছিল। তখন সালাউদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তিনি নিজে ভারতে আসেননি। যারা তাকে অপহরণ করেছিল, তারাই তাকে ভারতে রেখে গেছে। তিনি এর বেশি কিছু আর বলতে চাননি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার পর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন তানভীর আহমেদ। ২০১৬ সালের ১৬ মার্চ রাতে তিনি নিখোঁজ হন। পাঁচ দিন পর তাকে উদভ্রান্ত অবস্থায় বিমানবন্দর সড়কে হাঁটতে দেখে পুলিশ বাড়ি পৌঁছে দেয়। একই বছরের ৪ আগস্ট সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী পুরান ঢাকার আদালতপাড়া থেকে নিখোঁজ হন। সাত মাস অজ্ঞাত স্থানে থাকার পর তিনি বাড়ি ফেরেন।

হদিস নেই অনেকের : গত আট বছরে গুম হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনা ব্যাপক আলোচিত ছিল। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল তিনি ঢাকা থেকে নিখোঁজ হন। ২০১২ সালের ৩ এপ্রিল রাজধানীর উত্তরা থেকে সাদা পোশাকে একদল লোক সিলেটের ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমেদ ও জুনেদ আহমেদকে তুলে নিয়ে যায়। ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তেজগাঁও থানার ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলামসহ ৬ জনকে র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। একইদিন রাজধানীর শাহীনবাগের বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় আরও ২ জনকে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় নিখোঁজ ব্যক্তিরা ফিরে আসছেন : রাজধানীর হাতিরঝিলে এক অনুষ্ঠানে শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে নিখোঁজদের ফিরে আসা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণেই নিখোঁজ ব্যক্তিরা ফিরে আসছেন। যারা ফিরে এসেছেন তারা কেন, কীভাবে নিখোঁজ হয়েছিলেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানানো হবে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও মানবাধিকার কর্মী নূর খান অপহরণ ও গুমের ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনাগুলোর সঙ্গে এমন শক্তিশালী চক্র জড়িত যাদের বিরুদ্ধে স্পষ্টত কথা বলা একজন নাগরিকের পক্ষে এ মুহূর্তে সম্ভব নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত একজন নাগরিক নিজেকে নিরাপদ ভাববেন না ততক্ষণ তিনি এ বিষয়ে কোনো কথাই বলবেন না। যারা অপহরণের শিকার হচ্ছেন তারা জানেন এটাই শেষ নয়। তিনি যে আবার নিখোঁজ হবেন না বা অন্য কোনো ধরনের বিপদের মুখোমুখি হবেন না এ নিশ্চয়তা এ মুহূর্তে নেই। আমার মনে হচ্ছে, ভবিষ্যতেও ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা ফিরে এসে শিখিয়ে দেয়া বক্তব্য দেবে। এসব ঘটনার সঙ্গে সাধারণ মানুষ সরকারি বাহিনীকে সন্দেহের চোখে দেখেন। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এই সন্দেহ দূর করা, নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করে বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করা।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত