মাহবুব হাসান ও হাবিবুর রহমান খান    |    
প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
নির্বাচনী উত্তাপের বছর ২০১৮
সরকার গঠনই শেষ কথা
দরজায় কড়া নাড়ছে নতুন বছর ২০১৮। বিশ্লেষকরা বলছেন, বছরজুড়ে থাকবে রাজনৈতিক উত্তাপ। একাদশ জাতীয় নির্বাচন ছাড়াও ইতিহাসে জায়গা করে নিতে পারে নানা ঘটনা। তবে ক্ষমতায় যাওয়ার একমাত্র লক্ষ্য প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির। মাঝখানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ট্রাম্পকার্ডটি এবার হয়ে উঠতে পারে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ

উন্নয়নের প্রচারই প্রধান এজেন্ডা আ’লীগের
বছরের শুরুতেই মাঠে নামছে প্রেসিডিয়ামের নেতৃত্বে ১৫ টিম


বিএনপি এবং জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং সরকারের উন্নয়ন পদক্ষেপে ভর করে আগামী নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াও সহিংস আন্দোলনের দুঃসহ স্মৃতি সামনে এনে জনগণের মন জয় করতে চায় দলটি। আর বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন থেকে শুরু করে দেশ ও জাতি গঠনে দলটির ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এ বার্তাই দিতে চাইবে যে, এসব বিবেচনায় উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পুনরায় সরকার গঠনে আওয়ামী লীগ দাবি রাখে। এ উদ্দেশ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণায় মাঠে নামছে দলটি। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আগামী নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে বিএনপির দুর্নীতির আমলনামা ও সরকারের উন্নয়ন প্রচারণাকে প্রধান এজেন্ডা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক যুগান্তরকে বলেন, ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণার এ পলিসি গ্রহণের সিদ্ধান্ত সঠিক। যে কোনো দল এটিই করবে। তারা জনগণের কাছে নিজেদের সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর খারাপ দিকগুলো তুলে ধরতে চাইবে। তবে এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, রাজপথের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপিও একই পথে হাঁটবে। সে ক্ষেত্রে সরকারের দুই মেয়াদের শাসনকালের ইমেজ যদি ক্লিন হয়ে থাকে তাহলে বিএনপি বেশিদূর এগোতে পারবে না। কিন্তু ভোটের আগে জনগণের সামনে যদি তথ্য-প্রমাণ দিয়ে বিশ্বাসযোগ্য কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের নজির হাজির করতে পারে, তাহলে সরকারি দলকে কিছুটা বেগ পেতে হবে। এ ছাড়া সবচেয়ে যে বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা হল- সরকার যেভাবে সংবিধান অনুযায়ী আগামী জাতীয় নির্বাচন করতে চায়, শেষমেশ যদি সেভাবে না পারে সে ক্ষেত্রে আরও কিছু চ্যালেঞ্জ সামনে চলে আসবে। বিশেষ করে তফসিল ঘোষণার পর মাঠে একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হবে বা করতে হবে। তাই সে সময়গুলোয় ভোটের রাজনীতি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা কেবল সময়ই বলে দিতে পারবে। তিনি মনে করেন, পরিস্থিতি সে রকম হলে দুই প্রধান দল একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মুখোমুখি হয়ে কঠিন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে পারে।

সূত্র জানায়, ক্ষমতাসীন দলের হাইকমান্ড থেকে ইতিমধ্যে নেতাকর্মীদের জনগণের ঘরে ঘরে গিয়ে এ সরকারের আমলে কি কি কাজ হয়েছে তা তুলে ধরতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমানের বিদেশে সম্পদ থাকার তথ্য, খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলা, কালো টাকা সাদা করা, তারেক রহমানের মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় সাজা পাওয়াসহ এ ধরনের অন্য বিষয়গুলো জনগণের কাছে উপস্থাপন করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ক্ষমতাসীনরা মনে করছে, জনগণকে এ দুটি বিষয় সঠিকভাবে বোঝাতে পারলে তারা আগামী নির্বাচনে বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করবে। তাছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারে এসে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছে। দেশকে নিন্মমধ্যম আয়ের দেশে তুলে আনতে সক্ষম হয়েছে। দেশব্যাপী ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, মানুষের আয় বেড়েছে এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। তাই তাদের বিশ্বাস মানুষ আওয়ামী লীগকেই বেছে নেবে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য সবার কিছু কৌশল এবং প্রস্তুতি থাকে। আওয়ামী লীগ যেসব ওয়াদা দিয়ে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করেছিল তার অধিকাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে, বাকিগুলোও পূরণের পথে। এই কয়েক বছরে দেশ উন্নয়নের পথে অনেকদূর এগিয়ে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মানুষের বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান এ সরকারই করেছে। নিজের টাকায় পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়নের পথে।’ তিনি বলেন, ‘অন্যদিকে বিএনপির আমলে হাওয়া ভবন তৈরি করে কমিশন খাওয়া হতো, লুটপাট চলত। নিজেরা দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা বানিয়ে বিদেশে পাচার করেছে। আমরা মানুষের সামনে এই বিষয়গুলো তুলে ধরব। আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ এই অপশক্তিকে আর ভোট দেবে না, বরং আওয়ামী লীগকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে আবারও সরকার গঠনের সুযোগ দেবে।’

আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে প্রচারণার কৌশল নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন সংশ্লিষ্টরা। দলের গত শনিবারের প্রেসিডিয়ামের বৈঠকেও এ বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে। দলের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বিভাগওয়ারি দায়িত্ব নিয়ে দলকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নের প্রচার ঘরে ঘরে পৌঁছানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তাছাড়া জিয়া পরিবারের সব অপকর্ম জনগণের সামনে তুলে ধরতে বলেছেন। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ১৫টি টিম গঠন করা হয়েছে। জানুয়ারিতে একেকজন প্রেসিডিয়াম সদস্যের নেতৃত্বে এ টিমগুলো দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফর করবে। এসব সফরে সমাবেশ, বর্ধিত সভা, উঠান বৈঠক, পথসভায় দেশের জন্য আওয়ামী লীগের অবদান বিপরীতে বিএনপির ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরা হবে।

আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাংগঠনিক সফর দিয়ে শুরু করে নির্বাচনের এ বছরে পুরোটা সময় মাঠে থাকবেন তারা। বছরের প্রথম তিন মাস থাকবে মূলত দিবসভিত্তিক কর্মসূচি। ৫ জানুয়ারি সরকারের চার বছর পূর্তি, ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস, ফেব্রুয়ারিতে শহীদ দিবস, মার্চে বঙ্গবন্ধুর সাত মার্চের ভাষণ দিবস, তার জন্মদিন, স্বাধীনতা দিবসসহ নানা কর্মসূচিতে রাজধানী ঢাকার রাজপথসহ সারা দেশের রাস্তাঘাট, পাড়া-মহল্লা, অলি-গলিতে উপস্থিত থাকবে দলটি। চলতে থাকবে জনসংযোগ। উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি বিএনপির লুটপাট, দুর্নীতি, জিয়া পরিবারের সম্পদের তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। এভাবে চলবে আগামী আগস্ট পর্যন্ত। আর এরপর তো আনুষ্ঠানিকভাবেই শুরু হবে নির্বাচনী প্রচারণা।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ যুগান্তরকে বলেন, জাতীয় নির্বাচন একটি রাজনৈতিক দলের পরীক্ষা। এর জন্য নানা গ্রাউন্ডওয়ার্ক করতে হয়। আমরা সেগুলো শুরু করেছি। জানুয়ারি থেকেই সাংগঠনিক সফর শুরু হচ্ছে। সাংগঠনিক কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা প্রচারণা জোরদার করব, যা চলবে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত। মানুষকে মনে করিয়ে দিতে হবে আওয়ামী লীগ আর বিএনপির মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। আওয়ামী লীগ দেশের উন্নয়ন করে, মর্যাদা বাড়ায়; বিপরীতে বিএনপি নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নে ব্যস্ত থাকে, দেশকে ভিক্ষুদের জাতি হিসেবে উপস্থাপন করে। আমরা জনগণের সামনে তুলনামূলক সেই চিত্রগুলোই তুলে ধরব। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে এ দেশের অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে। দেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। এ সরকারের আমলে জনগণের আয় এবং জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। বিপরীতে বিএনপির সময় ছিল হাহাকার। বিদ্যুৎ আর সার চাইতে গিয়ে সাধারণ মানুষ এবং কৃষকদের গুলি খেয়ে প্রাণ দিতে হয়েছে। জঙ্গিবাদ আর সন্ত্রাসে জনজীবন ছিল অস্থির, আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ছিল দেশ। তাছাড়া খালেদা জিয়া নিজে দুর্নীতি করেছেন। তার বড় ছেলে মানি লন্ডারিংয়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি। ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোও একই দোষে দুষ্ট ছিলেন। আর এ সরকারের আমলে তারা আন্দোলনের নামে পেট্রলবোমা ও আগুন নিয়ে নাগরিকদের পুড়িয়ে মেরেছেন। সহিংসতা, অরাজকতা ও নাশকতা করে জনগণের জীবন করে তুলেছিলেন অস্থির। তাই আমি মনে করি, এ দেশের মানুষ আর কখনও বিএনপিকে ভোট দেবে না। আওয়ামী লীগেরও ভুলত্রুটি থাকতে পারে কিন্তু দেশের উন্নয়নে আমরা কাজ করি সেটা প্রমাণিত। আর এ কারণেই আগামী নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে।


নতুন রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি বিএনপির
চেয়ারপারসনের বার্তা পৌঁছে দিতে তৃণমূলে ঝটিকা সফরে কেন্দ্রীয় নেতারা * উসকানিতে পা না দিয়ে পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ চেয়ারপারসনের

নতুন বছরে নতুন রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি (কৌশল) নিয়ে আসছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। নির্বাচনের বছরকে সামনে রেখে এ স্ট্র্যাটেজি তৈরি করছেন তিনি। অতীতে ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে একেবারে নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করতে চান তিনি। আগামী বছরকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বছর হিসেবে ধরে এ কৌশল চূড়ান্ত করা হচ্ছে। যার অন্যতম পদক্ষেপ- জনসাধারণ ক্ষুব্ধ হয়, এমন কোনো পদক্ষেপ না নেয়া। বিপরীতে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতি প্রেক্ষাপট বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়া। তবে কোনো ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করে হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে না। একমাত্র দলীয় চেয়ারপারসন ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অন্য কারও বক্তব্য, সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা দেয়ার পথ বন্ধ করা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপির নতুন এক কর্মকৌশলের অন্যতম পথনির্দেশিকা হল, দলের নেতাকর্মী ও জনগণের কাছে নিজেদের অবস্থান সুসংহত রেখে ঠাণ্ডা মাথায় চুপচাপ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিনক্ষণ পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে নানা রকম ফাঁদ তৈরি করা হবে। কিন্তু ১১ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি কোনো ফাঁদে পা না দিয়ে সতর্কতার সঙ্গে কঠিন সময়টুকু পাড়ি দিতে চায়।

২০১৮ সালের জন্য দলটির চেয়ারপারসনের নতুন রাজনৈতিক কৌশলের এ বার্তা নেতাকর্মীদের কাছে পৌঁছে দিতে তৃণমূল সফরে বের হচ্ছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। আজ থেকে এক সপ্তাহের এ ঝটিকা সফরে তারা বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলা সফর করবেন। এছাড়া উদ্ভূত যে কোনো পরিস্থিতিতে তৃণমূলকে কখন কী করতে হবে, সে বিষয়েও খালেদা জিয়ার নির্দেশনা জানিয়ে দেয়া হবে। দলটির উচ্চপর্যায়ের নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি সব সময় ইতিবাচক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। উদার গণতান্ত্রিক দল হিসেবে আমাদের চেয়ারপারসন বারবার অতীত ভুলে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আগামী বছর এ দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বছর হল ২০১৮। দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার বছর হবে এটা। এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, নতুন বছরে নিশ্চয়ই আমাদের চেয়ারপারসন দেশবাসীর কাছে নতুন বার্তা দেবেন।

দলটির হাইকমান্ড মনে করে, আসছে নতুন বছরে দলকে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হতে পারে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে নানা কৌশল নিয়ে ভাবা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের কাছে নতুন ধারার রাজনীতি, নতুন কিছু প্রতিশ্রুতি নিয়ে হাজির হতে চান তারা। এমনকি খালেদা জিয়া যথাসময়ে জাতির উদ্দেশে দেশের বিভিন্ন সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সামনে বিশেষ একটি নির্বাচনী বক্তৃতাও দিতে পারেন। তবে এ বিষয়ে সূত্রটি খোলাসা করে কিছু বলতে চায়নি। এখন শুধু বলা হচ্ছে, সরকারের পাতা ফাঁদে পা না দিয়ে প্রয়োজনের সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়াকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। তাই সরকারের উসকানিতে পা না দিয়ে নেতাদের সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন দলটির চেয়ারপারসন। এক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্যের জবাবেও অনেকটা কৌশলী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। যেন কেউ দলের বিদ্যমান পলিসিরি বাইরে গিয়ে যে যার ইচ্ছেমতো কিছু না বলেন। প্রয়োজনে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি স্থান থেকে কিংবা একজন নেতা কথা বলবেন। এক ইস্যুতে জনে জনে সবাই যেন বিক্ষিপ্ত কথা না বলেন।

সূত্র জানায়, গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দলের নেতাদের প্রতিক্রিয়া দেয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। কোনো ইস্যুতে যাতে পরস্পরবিরোধী অবস্থান না হয়, সেদিকে দৃষ্টি দিতে বলা হয়েছে। সব ব্যাপারে নেতাদের প্রতিক্রিয়া না দেয়ার পক্ষে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দলের মুখপাত্রই প্রতিক্রিয়া জানাবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় যুগান্তরকে বলেন, চেয়ারপারসনের বার্তা নিয়ে আমরা তৃণমূলে যাচ্ছি। পাশাপাশি এ সফরের মধ্য দিয়ে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি ও নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করা হবে।

দলটির কয়েকজন নীতিনির্ধারক যুগান্তরকে জানান, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিএনপি। বিশেষ করে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলা ও পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে এখন থেকেই হিসাব কষতে শুরু করেছেন তারা। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। চেয়ারপারসনের মামলা নিয়ে নেতাকর্মীরা যাতে উদ্বিগ্ন না হন- এমন বার্তা নিয়ে আজ থেকে তৃণমূল সফরে যাচ্ছেন তারা। আগামী দিনের আন্দোলন ও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ সফর বলা হলেও মূলত চেয়ারপারসনের মামলা এবং নতুন বছরে তার রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি তুলে ধরাই মূল উদ্দেশ্য। কেন্দ্রের যে কোনো সিদ্ধান্ত যাতে একযোগে পালন করা হয়, সে ব্যাপারে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়া হবে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সবাইকে দলের চেয়ারপারসনের সিদ্ধান্তের বাইরে অন্য কারও নির্দেশ না মানতে কঠোর বার্তা দেয়া হবে। নতুন বছরে রাজনীতিতে নানা মেরুকরণ হতে পারে। যে কোনো পরিস্থিতিতে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যাতে বিভ্রান্ত না হন, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই এমন বার্তা দেয়া হবে। পাশাপাশি চেয়ারপারসনের মামলা নিয়ে নেতাকর্মীরা যাতে উদ্বিগ্ন না হন, সেটিও পরিষ্কার করা হবে এ সফরে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা মনে করেন, সবকিছু বিবেচনা করে বিচারক রায় দিলে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বেকসুর খালাস পাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তারপরও অন্য কিছু হলে সে ব্যাপারে তাদের আইনগত প্রস্তুতি রয়েছে। আইনের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে বেশ সতর্ক দলটির হাইকমান্ড। মামলার রায়কে কেন্দ্র করে তৃতীয় পক্ষ যাতে ফায়দা নিতে না পারে, সে দিকটিও ভাবা হচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলার নামে রাজপথে ভাংচুর, জ্বালাও-পোড়াও না করে ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করে শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে চায় দলটি।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার নতুন বছরে রাজনৈতিক নতুন স্ট্র্যাটেজি ও কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা নিয়ে একযুগে জেলা সফরে বের হচ্ছেন নেতারা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন আজ যাচ্ছেন বরিশাল। সেখানে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি। আজ মহানগর ও দক্ষিণ এবং আগামীকাল উত্তর জেলার নেতাকর্মীগের সঙ্গে মতবিনিমিয় করবেন। চেয়ারপারসনের মামলা, আগামীদিনের আন্দোলন ও নির্বাচন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেবেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য আজ বরিশালে আসবেন। তৃণমূলকে উজ্জীবিত করতেই মূলত তার এ সফর। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করবেন। আগামী দিনের আন্দোলন ও নির্বাচন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। পাশাপাশি চেয়ারপারসনের বিশেষ বার্তাও থাকবে বলে মনে হচ্ছে।

জানা গেছে, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় যাচ্ছেন সিলেট জেলায়। বৃহস্পতিবার সেখানে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে হাইকমান্ডের বার্তা পৌঁছে দেবেন তিনি। এছাড়া দলের ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ গোপালগঞ্জ, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী নেত্রকোনা যাচ্ছেন। অন্য সিনিয়র নেতাদেরও নির্দিষ্ট জেলার দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হচ্ছে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত