শেখ মামুনূর রশীদ    |    
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে তৎপর জাতীয় পার্টি
রাজপথ ও সংসদে সোচ্চার বিরোধী দল
বছরজুড়েই দল গোছাতে সময় ব্যয় করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত পার্টিকে ঢেলে সাজাতে তিনি নিয়েছেন নানা উদ্যোগ। পাশাপাশি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন আসনে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজটিও আগেভাগেই সম্পন্ন করে রেখেছেন সাবেক এ রাষ্ট্রপতি। এসব কারণে দলটি অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন আরও অনেক বেশি সুসংহত এবং শক্তিশালী। বছরের শেষ দিকে রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিশাল বিজয় জাতীয় পার্টির এ শক্তিশালী অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।
২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকঢোল পিটিয়ে দলের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করে জাতীয় পার্টি। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লক্ষাধিক মানুষের মহাসমাবেশ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নিজেদের সামর্থ্যরে জানান দেয় দলটি। আগের বছরের সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠে এ মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টি দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দৃঢ় নেতৃত্বে পথ চলা শুরু করে। বছরের প্রথম থেকেই মান-অভিমান ভুলে এরশাদের পাশে দাঁড়ান পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। এ সময় কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে জাতীয় পার্টির ঐক্য সুসংহত করতে নেতৃত্ব দেন দলটির মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি।
জাতীয় পার্টি সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে বছরের প্রথম থেকেই একগুচ্ছ পরিকল্পনা হাতে নেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এর অংশ হিসেবে প্রথমে তিনি দল ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নিজেই রংপুর, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, বরিশালসহ একাধিক জেলা সফরে যান। পার্টি চেয়ারম্যানের নির্দেশে কাউন্সিলের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে জাতীয় পার্টিকে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে ঢেলে সাজানো হয়। একই সঙ্গে দলকে সু-সংগঠিত করতে পার্টির শীর্ষ নেতাদের এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব দেয়া হয়। তারা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সফর করেন। দলের সাংগঠনিক অবস্থা ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনপ্রিয়তার বিষয়ে পার্টি চেয়ারম্যান এবং মহাসচিবের কাছে লিখিতভাবে তুলে ধরেন।
দল ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি এ সময়ে বেশিরভাগ আসনেই প্রার্থী তালিকার একটি খসড়া তৈরি করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। অনেক আসনেই সম্ভাব্য প্রার্র্থীকে চিঠি দিয়ে দল গোছানো এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দেন তিনি। মাঝখানে দু’দফায় সিঙ্গাপুরে মেডিকেল চেকআপের জন্য যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ব্যক্তিগত সফরে দু’দফা যান ভারত। বাকি পুরো বছরই তিনি দল গোছানোর কাজে ব্যয় করেন। মাঠপর্যায়ে সভা-সমাবেশে অংশ নেয়া ছাড়াও একাধিক যৌথসভা, প্রতিনিধি সভা, প্রেসিডিয়াম সভা, সংসদ সদস্যদের নিয়ে সভা, জেলা ও উপজেলা নেতাদের নিয়ে সভা, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম বেগবান করাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে সক্রিয় ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
বছরের শেষ দিকে এসে রোহিঙ্গা সংকট দেখা দিলে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে সবার আগে এগিয়ে যান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। দু’দফা তিনি কক্সবাজারের টেকনাফ এবং উখিয়া সফর করেন এবং অসহায় রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ান। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে পুরো বছর সংসদে সক্রিয় ছিল জাতীয় পার্টি। এরশাদ এবং রওশন এরশাদের নেতৃত্বে দলের সংসদ সদস্যরা জাতীয় ইস্যুতে কথা বলেন সংসদে। নিত্যপ্রয়োজনী দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, গ্যাস-পানি-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদসহ নানা ইস্যুতে রাজপথেও সরব ছিল দলটি। বছরের শেষ দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে দলটি। এ বছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিয়ে একটি নতুন জোটও গঠন করে জাতীয় পার্টি। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
জাতীয় পার্টির নেতাদের মতে, সংগঠন ঘোছানোর ফলও পেয়েছে দলটি। বছরের শেষ দিকে রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বড় জয়ই এর প্রমাণ। এ জয়ের পর থেকেই উজ্জীবিত এখন জাতীয় পার্টি। দলটির নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এ জয়ের প্রভাব পড়বে আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতিতে। এমনকি রংপুরের জয় রাজনীতির পুরনো হিসাব-নিকাশও বদলে দেবে। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি এ দ্বিদলীয় ধারার বাইরে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে যে জাতীয় পার্টির আত্মপ্রকাশ ঘটতে যাচ্ছে- তারও আগাম বার্তা দিয়েছে রংপুরের এ নির্বাচন। এ জয় আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ব্যাপক ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। ইতিমধ্যে এর আলামতও শুরু হয়ে গেছে।
দলটির নেতাকর্মীদের মতে, জাতীয় পার্টির সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে- এমন ভাবনা থেকেই পিরোজপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তুম আলী ফরাজী জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়েছেন। সাবেক এবং বর্তমান আরও একাধিক সংসদ সদস্য এবং প্রভাবশালী নেতা জাতীয় পার্টিতে যোগ দেয়ার অপেক্ষায় আছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময় জাতীয় পার্টি ছেড়ে গেছেন এরকম অনেকেই দলে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ইতিমধ্যে সাবেক স্বাস্থ্য সচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের তিন শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়েছেন।
গত এক বছরের দলের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করতে গিয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার যুগান্তরকে বলেন, ‘পুরো বছরটাই ছিল আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর বছর। সময়ক্ষেপণ না করে আমরা প্রথম থেকেই দল গোছানোর কাজে মনোযোগী ছিলাম। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে জেলা-উপজেলাসহ তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি গঠন, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দিয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনসহ ঘরে-বাইরে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে সক্রিয় ছিলাম। বছরের শেষ দিকে রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে এর সফল সমাপ্তি ঘটেছে। এ বিজয় ধরে রেখে নতুন বছর থেকে আমাদের নবোদ্যমে পথ চলা শুরু হবে।’
জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, ‘সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আমাদের লক্ষ্য এ নির্বাচনে পূর্ণশক্তি নিয়ে অংশ নেয়া। নির্বাচনে জয়ী হয়ে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে সরকার গঠন করা। যে সরকার গণতন্ত্র, সুশাসন, আইনের শাসন উপহার দেবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। দেশের মানুষের উন্নয়ন এবং ভাগ্যের পরিবর্তন করবে। উন্নয়ন ও শান্তির রাজনীতি উপহার দেবে। আমরা সেই অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের পথে যাত্রা শুরু করেছি। নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে তা আরও বেগবান করা হবে।’



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত