মো. রইছ উদ্দিন. গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) থেকে    |    
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
ষাঁড়ের লড়াই গৌরীপুরের ঐতিহ্য
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বৈশাখে শতবছর ধরে চলে আসছে ষাঁড়ের লড়াই -ফাইল ফটো

‘নাড়াই-নাড়াই-নাড়াই (লড়াই) চাই, কাদের মোড়লের হাড়ডারে (ষাঁড়কে) ভাই- আরেকটা নাড়াই দেখছে চাই।’ ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এটি প্রচলিত একটি স্লোগান। আজ সেই কাদের মোড়ল আর ষাঁড় না থাকলেও আছে স্লোগানটি। এলাকাবাসী জানান, শতবছর আগে গৌরীপুর উপজেলার বোকাইননগরে কাদের মোগল নামের এক ব্যক্তি বছরের বিভিন্ন সময়ে এই নাড়াই খেলার আয়োজন করতেন। বোকাইনগর ইউনিয়নের ভাঙ্গীরমার ছনপাট, মাওহা ইউনিয়নের কুমড়ী, বীরআহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ষাঁড়ের লড়াইয়ের আয়োজন করা হতো। মাওহায় ষাঁড়ের লড়াইয়ের স্থানীয় নাম আড়ং।

ষাঁড়ের নাড়াই দেখতে আত্মীয়স্বজনদের আগমনে প্রতি বছর উপজেলার বাড়ি উৎসবমুখর হয়ে উঠে। কেউ কেউ এ উপলক্ষে নতুন পোশাকও ক্রয় করেন। আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে পাঠানো হয় মাটির তৈরি হাঁড়ির পাতিলে চিড়া-মুড়ি আর নানা রকম খেলনাসামিগ্রী। ষাঁড়ের নাড়াইকে কেন্দ্র করে মুড়ি, গুড়, খই, কেলন্না (বাঘ, ভালুক, হাতি, ঘোড়া আকৃতির মিষ্টান্ন), বাতাশা, চিড়ার মোয়া, বাঁশের তৈরি নানা প্রকার জিনিসপত্র, পাটের তৈরি মাদুর, বিছানাপত্র, শিশুদের জন্য তৈরি মাটির জিনিসপত্র, বেলুনসহ হাজারো প্রকার জিনিসের দোকান বসে। শিশুদের আনন্দ দেয়ার জন্য ষাঁড়ের নাড়াই এর পূর্বে অনুষ্ঠিত হয় লাঠি খেলা, তীর ছোড়া, মোরগের লড়াই, হাডুডু। বাবা-মার সঙ্গে আনন্দ পেতে শিশুরা আসে ষাঁড়ের নাড়াই দেখতে। ষাঁড়ের লড়াই দর্শকদের কাছে চমকপ্রদ। মুহূর্তেই নাদুসনুদুস দুটি ষাঁড় শক্তির খেলায় মেতে উঠে। এ সময় সবার চোখেমুখে থাকে উত্তেজনা।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত