ফাহাদ আল মুক্তাদির    |    
প্রকাশ : ২৩ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
হিমুর হাতে কয়েকটি চিকুনগুনিয়ার ওষুধ

গত কয়েকদিন হল বাদলের প্রচণ্ড জ্বর ও শরীর ব্যথা।

মাজেদা খালা এই জ্বরের নাম দিয়েছেন খই ফোটা জ্বর, মানে জ্বর আক্রান্ত ব্যক্তির কপালে ধান রেখে দিলে সেটা ফুটে খই হয়ে যাবে।

বাদল সেই সন্ধ্যা থেকে হিমু ভাই হিমু ভাই করে অস্থির। এদিকে হিমুকে ফোন দিয়ে কোনোক্রমেই পাওয়া যাচ্ছে না। মাজেদা খালা ফোন করতে করতে মোবাইলের চার্জ শেষ করে ফেলেছেন, কিছুক্ষণ চিৎকার চেঁচামেচি করে এখন পাওয়ার

ব্যাংক লাগিয়ে শেষ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।



আরে গাধা, তুই যে দেশেই যাস, যেখানে গিয়েই হিমুগিরি করিস, ফোনটা তো একবার রোমিং করে হলেও সঙ্গে নিয়ে যাবি বলতে বলতে রাগে গজগজ করতে করতে হিমুর পুরনো নাম্বারে একটা ফোন দিলেন তিনি। মাজেদা খালার স্বভাব হল, তিনি ফোন দিলে একবার দেন না। তার ফোন দেয়া মানেই, টোটাল তিনবার ফোন দেবেন। বেশিও না কমও না। দানে দানে তিনদান।



পুরনো নাম্বারে করা তৃতীয় এবং শেষ ফোনটা রিসিভ হল-



-হ্যালো কে?

-কে মানে? আমারে চিনিস না তুই?

-দুঃখিত জনাবা, আপনি ভুল নম্বরে চেষ্টা করছেন...

-দ্যাখ হিমু আমার সঙ্গে নাটক করতে আসবি না। আমি তোর শালাও না দুলাভাইও না যে আমার সঙ্গে মশকরা ফলাবি! তোর মতো হাজার হাজার অভিনেতা আমি আমার ভ্যানিটি ব্যাগে নিয়া ঘুরি। তুই দশ মিনিটের মধ্যে বাসায় আয়,

বাদলের সম্ভবত চিকুনগুনিয়া হয়েছে। তোর নাম্বার বন্ধ কেন?

-খালা একটা ভয়ানক কাণ্ড ঘটে গেছে। আজ দেখলাম আমার বন্ধ সিমে ২০ জিবি ইন্টারনেট আর ৩০০ মিনিট ফ্রি এসেছে। তাই বাধ্য হয়ে সিম পাল্টাতে হয়েছে...

হিমু কথাটা শেষ করতে পারল না ওপাশ থেকে পুত পুত করে লাইন কেটে গেল।



হিমু এখন মোটেও চিকুনগুনিয়া নিয়ে চিন্তিত না। তার মাথায় এখন গেইম অব থ্রোনস এর নতুন সিজন ঘুরছে। খালার বাসায় ফ্রি ওয়াইফাই, ইচ্ছামতো ডাউনলোড দেয়া যাবে। মহাপুরুষদের নেশা ধরার কিংবা মোহে পড়ার নিয়ম নেই।

কিন্তু এই গেম অব থ্রোনসের ব্যাপারটা মাথায় ঢুকে গেছে। হিমু যে অবশ্য ঠিক দেখার জন্যই দেখে, তা না। এই জিনিস অন্যদের আগে দেখে তাদের স্পয়লার দিতে হিমুর ভালো লাগে। সবচেয়ে বেশি আনন্দ, রূপাকে স্পয়লার দিতে।

সুন্দরী নারীদের বিরক্ত হলে খুব সুন্দর দেখায়। ফোনে না দেখতে পেলেও হিমুর রূপার সেই রাগী রাগী বিরক্ত চেহারাটা কল্পনা করতে ভালো লাগে!



সমস্যা একটাই আছে, পাঁচ ফুট আট ইঞ্চি লম্বা সমস্যা। খালু সাহেব। হিমু যেন বাসায় এসে কিছু ডাউনলোড না দিতে পারে, এজন্য প্রতি দিন পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করে রাখে লোকটা। বেশি মাতাল হলে অবশ্য পাসওয়ার্ড বলেও দেয়!



এই হিমু এই! কোথায় চললেন?

হিমু পেছনে তাকিয়ে দেখে, এই ভর দুপুরে রাস্তায় মিসির আলি।



-আর বলবেন না... ঝামেলা হয়ে গেছে। বাদলের তো মহাবিপদ, চিকুনগুনিয়া তে আক্রান্ত। ফু বাবার কাছে তার জন্যে ফু আনতে যাচ্ছি।



মিসির আলি অসম্ভব যুক্তিবাদী এবং তীক্ষ বুদ্ধি সম্পন্ন। হিমুকে ভালো কথা বলে ওষুধ কেনানো যাবে বলে তার মনে হয় না। তিনি অন্য কৌশল খাটালেন-

আপনি বরং এক কাজ করুন, ফু আনাচ্ছেন ভালো, সঙ্গে কিছু চিকুনগুনিয়ার ওষুধও নিয়ে যান। যদি ফু রাস্তায় কোথায় বাতাসে উড়ে যায়, তাহলে অন্তত কিছু তো নিয়ে যাওয়া হল। তাই না?



হ্যাঁ, এটা ভালো বলেছেন। ফু এর ধর্মই কিন্তু উড়ে যাওয়া। আচ্ছা, ওষুধ কোথায় পাওয়া যাবে?

রাস্তার মোড়ের ফার্মেসিতেই আছে। দাঁড়ান, ওষুধের নামটা বলি...

আচ্ছা, আমিই জিজ্ঞেস করে নেব। চলি মিসির সাহেব।



মিসির আলি সাহেবের ধারণা, হিমু তারপরও চিকুনগুনিয়ার ওষুধ কিনবে না। সে দোকানে গিয়ে অন্য যে কোনো এক ওষুধের নাম বলবে। তবে তিনি বাধা দিলেন না। তার কেন যেন মনে হচ্ছে, সেই ওষুধ খেয়ে বাদলের চিকুনগুনিয়া

দুইদিনের মধ্যে সেরে যাবে। ওষুধের কারণে সারবে না, সারবে বিশ্বাসের কারণে। বিশ্বাস অন্যরকম এক ওষুধ!



হিমু মোড়ের ফার্মেসির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এখান থেকে সে রিকশা নেবে। মাজেদা খালার বাসায় দ্রুত যাওয়া দরকার। বাদলকে সুস্থ করতে নয়, গেম অব থ্রোনস ডাউলনলোড করে দেখে ফেলতে। রূপা দেখার আগেই তাকে স্পয়লার

দিতে হবে। এটা খুব জরুরি ব্যাপার।



হিমু রিকশা নেয়ার আগে একবার তবু ফার্মেসিতে উঁকি দিয়ে জিজ্ঞেস করল, সি-ভিট আছে?


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত