ফাহাদ আল মুক্তাদির    |    
প্রকাশ : ২৩ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
শিক্ষামন্ত্রী আরও যেসব পুরস্কার পেতে পারেন

প্রশ্নফাঁস অ্যাওয়ার্ড

শিক্ষামন্ত্রীর আমলে ঘটেছে নব দিগন্তের সূচনা। শিশু-যুবক-বৃদ্ধ সবাই শুনেছে প্রশ্ন ফাঁসের নাম, দেখেছে এর হিড়িক। জাতিকে প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে একটি নবযুগের সূচনা করার জন্য এমন একটা অ্যাওয়ার্ড তিনি পেতেই পারেন।



সৃজনশীলতা অ্যাওয়ার্ড

আগে এই জাতি ছিল একদম অসৃজনশীল মানে একদম আউলা-ঝাউলা। দেশে সৃজনশীল পদ্ধতি আসার পর জাতির সব কাজ সৃজনশীল হয়ে গেছে। সৃজনশীল উপায়ে খাতায় রচনা লেখা থেকে শুরু প্রশ্ন ফাঁস পর্যন্ত, সবকিছুতেই সৃজনশীলতার ছোঁয়া। কেউ কেউ অতি সৃজনশীলতা দেখাতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করছে ব্রিজ। এরকম একটা অ্যাওয়ার্ড পেলে চমকে যাওয়ার মতো কোনো কারণ থাকবে না নিশ্চয়ই!



পাঠ্যবই উন্নয়ন অ্যাওয়ার্ড

শিক্ষামন্ত্রীকে পাঠ্যবই উন্নয়ন অ্যাওয়ার্ড দেয়া যেতেই পারে। কারণ পাঠ্যবইয়ে গাছ থেকে ছাগল ওঠানো-নামানো এবং ওড়না ব্যবহার, আদর্শ ছেলে কবিতায় এক লাইন আপডেটকরণ, ভাষাভিত্তিক কবিতা-গল্প বাদ দিয়ে ধর্মভিত্তিক কবিতা-গল্প সংযোজন ইত্যাদি যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে তার যুগেই। সুতরাং, তিনি অবশ্যই এমন অ্যাওয়ার্ডের দাবিদার।



মেশিনম্যান অ্যাওয়ার্ড

ছাত্রছাত্রীদের তিনি কচিকাঁচা থেকে পরিণত করেছেন মেশিনে। পরীক্ষা পদ্ধতি এবং প্রশ্নপত্রে নিত্যনতুন যেসব পরীক্ষামূলক পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়া হয়, কোনো মেশিন ছাড়া এসব ঠিকঠাক মেনে চলা সম্ভব না। একবার তো ঘোষণা এমনও এসেছে, বোর্ড পরীক্ষায় এক দিনে দুটি করে পরীক্ষা নেয়া হতে পারে। বলুন, কোনো মেশিন ছাড়া কি এই রকম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ সম্ভব? সুতরাং শিক্ষার্থীদের কোমল মানুষ থেকে শক্ত মেশিনে পরিণত করে তাদের জীবনের কঠিন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফিট করে তোলায় পেতেই পারেন তিনি মেশিনম্যান পুরস্কার!



জিপিএ ফাইভ অ্যাওয়ার্ড

সব থেকে মর্যাদাসম্পন্ন এই অ্যাওয়ার্ড। কারণ দেশে জিপিএ ফাইভের ফলন আগের থেকে বৈপ্লবিক হারে বৃদ্ধি করেছেন তিনি। দেশজুড়ে জিপিএ ফাইভের এই বাম্পার ফলনের পেছনে রয়েছে শিক্ষামন্ত্রীর অসামান্য অবদান। জিপিএ ফাইভ এখন আর কোনো গ্রেড নেই, মুড়ি মুড়কি হয়ে গেছে, চাইলেই তা খেতে পারে যে কোনো কোমলমতি শিক্ষার্থী। তাই এত হাজার লাখ জিপিএ ফাইভের বন্যায় দেশকে ভাসানোর অবদানের জন্য একটা জিপিএ ফাইভ অ্যাওয়ার্ড শিক্ষামন্ত্রীর অবশ্যই পাওয়া উচিত।



ফেসবুক-হোয়াটসআপ থেকে বিশেষ পুরস্কার

যেই ছেলে আগে ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করত না, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া শুরু করার পর থেকে সে-ও তা ব্যবহার করে। কারণ এসব ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র যে সামাজিক গণমাধ্যমে সহজেই পাওয়া যায়। এভাবে শিক্ষার্থীদের সামাজিক মাধ্যমে আগ্রহী করে তোলার জন্য তিনি এই মাধ্যমগুলো থেকে আয়োজিত বিশেষ পুরস্কার পেতে পারেন।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত