রাকিব আল হাসান    |    
প্রকাশ : ২৩ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
বেকার ভাই যে কারণে কোনো পুরস্কার পাননি

বাকের ভাই সমাজের প্রতিবাদী এক নাম। কিন্তু এই নামের প্রতিবাদ কমে গিয়ে ইদানীং অসহায়ত্ব বেড়ে গেছে।

বাড়ারই কথা। ইদানীং যে লোকে তাকে বেকার ভাই বলে ডাকে! যার কোনো কার নেই, অর্থাৎ কোনো কাম-কাজ নেই, তাকে বেকার বলা হয়। পদার্থবিজ্ঞানে কাজের যে সংজ্ঞা, সে হিসেবে তার কাজগুলো কাজ হলেও, তার বেশিরভাগ কাজকর্মকেই ‘কারহীন’ বলে উল্লেখ করেছে সমাজের একশ্রেণীর লোক। সে কারণে বাকের ভাইয়ের নতুন পরিচয় হয়েছে ‘বেকার ভাই’।

লোকে তাকে কী ডাকে, তাকে নিয়ে কী ভাবে কিংবা তাকে নিয়ে কী চিন্তা করে সে নিয়ে বাকের, থুক্কু, বেকার ভাইয়ের তেমন কোনো মাথাব্যথা নেই। সে তার কাজে বিশ্বাসী। কাজেই সে তার ইচ্ছা, সামর্থ্যরে প্রমাণ দিতে চায়।

বেকার ভাই দেশ নিয়ে ভাবে, রাষ্ট্র নিয়ে ভাবে। যে কোনো স্পর্শকাতর ইস্যু তাকে গভীরভাবে ছুঁয়ে যায়। তাই এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্য সে বেছে নেয় ফেসবুক। বেকার ভাই চায়, তার দ্বারা সমাজ উপকৃত হোক, রাষ্ট্র উপকৃত হোক।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বেকার ভাইয়ের ছবি, স্ট্যাটাস কপি করে বিভিন্ন অনলাইনে পোর্টালে দেয়া হয়। এজন্য তার কোনো আয় না হলেও অন্যরা সে সুযোগ নিয়ে নিচ্ছে। বেকার ভাইয়ের বিভিন্ন ভিডিও ইউটিউবে আপলোড দিয়েও অনেকেই নিমিষে হয়ে যাচ্ছে ইউটিউব সেলেব্রিটি।

লোকে বেকার ভাইকে অস্বীকার করুক, অস্বীকৃতি জানাক তাতে তার আপত্তি না থাকলেও তার অ্যাক্টিভিটিতে অন্যরা স্বীকৃতি পাবে, ডলার উপার্জন করবে এটি তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। এজন্য তিনি একটু অ্যাকশনে যেতে চান।

এই যুগে কিছু মানুষ কাজ না করেও পুরস্কার ছিনিয়ে নিচ্ছেন, এদিকে প্রতিভাবানরা প্রতিভার দাম পাচ্ছেন না এ নিয়ে বেকার ভাই প্রতিবাদমূলক কর্মসূচির আহ্বান জানালেন। ভাবলেন, এবার অন্তত দাম পাবেন।

প্রশ্ন ফাঁসের রাজপুত্র হয়েও শিক্ষাক্ষেত্রে পুরস্কৃত হচ্ছেন একজন, এ নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বেকার ভাই। রাস্তায় তার আন্দোলনমুখোর কর্মসূচি দেখে একজন প্রশ্ন করলেন, ‘এসব করে লাভ কী? আপনি তো কোনো চাকরি-বাকরি করেন না। নিজেই তো বেকার!’

বেকার ভাই বলতে যাচ্ছিলেন, ‘ঐ মিয়া... আমি বেকার হওয়াতেই তো চাকরির পোস্ট খালি হচ্ছে। অন্যরা চাকরি পাচ্ছে...’

কিন্তু বলার আগেই মনে মনে ভাবলেন, কিছুদিন আগে এইচএসসির আগে প্রশ্নপত্রের ডিলার হিসেবে একটা কাজের প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি। মুখের ওপর প্রত্যাখ্যান করেছেন। এজন্য তিনি আজ বেকার। অথচ প্রশ্ন ফাঁস হওয়া যাদের দায়িত্ব-অবহেলার কারণে, তারা পান পুরস্কার। বেকার ভাই দীর্ঘশ্বাস ফেলে শুধু বললেন, ‘আমার এই বেকার থাকাতেই আনন্দ!’


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত