সামিউল আজিজ সিয়াম    |    
প্রকাশ : ২৩ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
দীক্ষামন্ত্রী জাহিদ সাহেব পুরস্কারের সঙ্গে যে দীক্ষাটি পেলেন

দীক্ষামন্ত্রী জহুরুল ইসলাম জাহিদ হতাশ মুখে চেয়ারে বসে আছেন।

দীক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন বিশেষ পুরষ্কার। যা তা পুরস্কার নয়, প্রশ্ন ফাঁসজনিত সবচেয়ে বড় সংস্থা ‘বাংলালিকস’ থেকে পাওয়া পুরস্কার। দেশ ও জাতিকে মহাসমারোহে প্রশ্নপত্র ফাঁসের নতুন এই দীক্ষা দেয়ার মূল্যায়ন হিসেবে জাহিদ সাহেবকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

এই পুরস্কারের জন্য অনেকদিন ধরে যে লাইনঘাট কিছু করছেন না, তা নয়। তবুও পুরস্কার তো পুরস্কারই। খুশি হওয়ার কিছু ব্যাপার স্যাপার থাকেই।

জাহিদ সাহেব তবু খুশি হতে পারছেন না। ঝামেলা বেধেছে অন্য জায়গায়। পুরস্কার গ্রহণের সময় দেবেন বলে বিশাল এক কাগজে বড়সড় ‘অ্যাওয়ার্ড স্পিচ’ লিখেছিলেন তিনি। লিখেছিলেন বললে অবশ্য ভুল বলা হয়, লিখেছিলেন তার সেক্রেটারি। কিন্তু ঝামেলা হল, আজ সকাল থেকেই সেটা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। এরপর ফেসবুকে ঢুকে দেখলেন, সেই অ্যাওয়ার্ড স্পিচ ফাঁস হয়ে গেছে।

শুধু ফাঁস হলেও হতো। এমন আবেগপ্রবণ এক স্পিচ মানুষ ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে সেইরকম হাসাহাসি ঠাট্টা মশকরা করছে। এটা কোনো কথা! জাহিদ সাহেব রাগে ফেসবুক ডিঅ্যাক্টিভ করে দিয়েছেন। সবকিছু নিয়ে ইয়ার্কি মশকরা করা ঠিক না।

এমনিতেই পুরস্কার পাওয়ার পর দেয়ার জন্য লেখা ভাষণের স্ক্রিপ্ট ফাঁস হওয়াটা একটা অন্যায়। অন্যায় মানে কী, ক্রাইম! তার মধ্যে সেটা নিয়ে আবার এরা হাসাহাসি করছে! পোলাপান এত খারাপ!

জাহিদ সাহেব মনে মনে বিরক্ত হলেন। পোলাপানকে আসলে ফাঁসের দীক্ষাটা বেশি দেয়া হয়ে গেছে।

ফাঁস হওয়া স্পিচ তো আর অ্যাওয়ার্ড নেয়ার সময় দেয়া যায় না। জাহিদ সাহেব যারপরনাই চিন্তিত। নতুন স্পিচ লেখার বিশেষ সময় নেই। একটু পরেই মঞ্চে ডাকা হতে পারে। জাহিদ সাহেব তবু সেক্রেটারিকে ডাক দিলেন-

-মফিজ!

-জ্বি স্যার!

-এদিকে ওদিকে এমনে নিশ্চিন্তায় ঘুরে বেড়াইতেছো কেন? আমার অ্যাওয়ার্ড স্পিচ ফাঁস হয়ে গেছে। এই নিয়ে দেখি তোমার কোনো মাথাব্যথা নাই...

-স্যার, আমি আসলে বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত না...

-চিন্তিত না মানে? এত বড় একটা বিষয় আর তুমি চিন্তিত না?

-না, মানে স্যার দেশে তো প্রতি বছর বোর্ড পরীক্ষাগুলোতে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছেই, ফাঁস হওয়া ব্যাপারটা এত কমন হয়ে গেছে যে এখন বাজারের লিস্ট থেকে শুরু করে অবৈধ আয়ের তালিকা, যা-ই ফাঁস হোক, তেমন কিছু মনে হয় না...

-চুপ থাক। তোমার জিপিএ কত ছিল?

-স্যার, ফোর ছিল।

-এসএসসি না এইচএসসি?

-দুইটাতেই ফোর ছিল স্যার।

-এইজন্যই তোমার বুদ্ধিশুদ্ধি বাড়ে নাই। জিপিএ ফাইভ পাইলে দেখা যাইত, তুমি ব্যাপারটা সিরিয়াসলি নিতেছো। এরপর থেকে জিপিএ ফাইভের নিচে কোনো সেক্রেটারি রাখব না।

-স্যার, যেইভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হইতেছে, এরপর থেকে জিপিএ ফাইভের নিচে আর কেউ থাকবেও না!

জাহিদ সাহেব সেক্রেটারির দিকে অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন। এই সেক্রেটারিটা বেশি বেয়াদব। একে দ্রুত গাড়িতে টাকাটুকা রেখে কালো বিড়াল স্টাইলে ফাঁসিয়ে চাকরি থেকে বের করে দিতে হবে। সোজাসুজি বের করলে ঝামেলা আছে। বহুত কিছু ফাঁসের কাহিনী ফাঁস হয়ে যেতে পারে।

মফিজ বলল, ‘স্যার, ইয়ে, তবে আপনি তো আমার পুরা কথা শোনেনই নাই!’

-কী? কী বলতে চাও দ্রুত বলে বিদায় হও!’

-ইয়ে, মানে আপনার পুরস্কার গ্রহণ পরবর্তী ভাষণ আমি চার সেট লিখছিলাম। মানে ভাবলাম বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্নের মতো এইটাও যদি ফাঁস হয়ে যায়, তাহলে অল্টারনেটিভ খ সেট, গ সেট, ঘ সেট এসব থাকা জরুরি। এইজন্য ওগুলাও করা আছে। আবার মনে করেন, পুরস্কার গ্রহণের সময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন থাকে, এইটার ওপরেও তো ভাষণ নির্ভর করবে। তাই চার সেট করা। তিন সেট এখনও আছে...

জাহিদ সাহেবের অন্ধকার মুখে আশার আলো জ্বলে উঠল। এই সেক্রেটারি ছেলেটা তো ট্যালেন্ট আছে। বাহ! চার সেট স্পিচের ব্যাপারটা মাথায়ই ছিল না। ট্যালেন্টরা বোধহয় একটু বেয়াদব টাইপই হয়। জাহিদ সাহেব মনে মনে সেক্রেটারির বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন!

মফিজ এসে জাহিদ সাহেবের হাতে খ সেট স্পিচটা দিয়ে গেল। জাহিদ সাহেব তা হাতে নিয়ে প্র্যাকটিস শুরু করলেন- ‘আজ আমি ধন্যবাদ দিতে চাই...’।

২.

মঞ্চে দীক্ষামন্ত্রী জাহিদ সাহেবের নাম ঘোষণা করা হয়ে গেছে। জাহিদ সাহেব দেশ ও জাতিকে ধন্যবাদমূলক খ সেট ভাষণে আরেকবার চোখ বুলিয়ে নিলেন। সিট থেকে উঠে দাঁড়াতে যাবেন, ঠিক সেই সময় মফিজ দৌড়ে এসে কানে কানে বলল, ‘স্যার, ইয়ে, একটা ঝামেলা হয়ে গেছে...’

জাহিদ সাহেব আঁতকে উঠে বললেন, ‘কী ঝামেলা? এই সেটও ফাঁস হয়ে গেছে?’

-ইয়ে, জ্বি স্যার... এটা ফাঁস হইছে হোয়াটসঅ্যাপে... এইজন্য খেয়াল করি নাই...

-জলদি তাহলে গ সেটটা দাও, মানসম্মানের প্রশ্ন!

-মানসম্মানের গ আর ঘ সেট প্রশ্নপত্রও ফাঁস হইছে স্যার। গ-টা হইছে ইন্সটাগ্রামে, আর ঘ সেট এক ইউটিউবার মুখে বলে বলে ট্রুল করে ইউটিউবে ছেড়ে দিয়েছে...

-সর্বনাশ!

জাহিদ সাহেব টাক মাথায় একবার হাত বোলালেন! এরপর সোজা মঞ্চে উঠে গিয়ে পুরস্কার হাতে নিয়ে ‘সবাইকে ধন্যবাদ’ বলে স্টেজ থেকে নেমে পড়লেন। জাতিকে প্রশ্ন ফাঁসের দীক্ষা একটু বেশি দেয়া হয়ে গেছে, এ নিয়ে আর কিছু না বলাই ভালো!

আঁকা : মাহির


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত