কাওসার আহমেদ    |    
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
হিমু যেসব কারণে বিপিএল দেখে না

বিপিএল সেদিন শুরু হল। বাইরে থেকে মেসে ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে গেল হিমুর।

মেসে ফিরেই হিমু দেখল মেসের সব সদস্য ডাইনিং রুমে বসে টিভিতে বিপিএল খেলা দেখছে। হিমু টিভির দিকে নজর না দিয়ে ভ্রƒ কুঁচকে সরাসরি নিজের রুমে চলে গেল।

বিপিএল শুরু হয়ে গেছে, অথচ খেলার প্রতি হিমুর কোনো আগ্রহ নেই! মেসের অন্য সদস্যরা এতে করে বেশ অবাক! হঠাৎ ক্রিকেটের প্রতি হিমুর এ অনাগ্রহের কারণ কী? সে তো কিছুদিন আগেই ক্রিকেট খেলার ডাইহার্ড ফ্যান ছিল। পাড়ার গলিতে খেলা ছেলেদের খেলাও সে গভীর আগ্রহে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখত। কিন্তু ক্রিকেটের প্রতি তার এ অনীহার কারণটা তাহলে কী? তাও আবার বিপিএলের মতো একটা টুর্নামেন্ট!

হিমু রুমে ঢুকে একটু বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই হিমুর মোবাইলের রিং বেজে উঠল। বাদল কল করেছে।

- হ্যালো, হিমু ভাই?

- হু বল।

- বিপিএল খেলার কী অবস্থা ভাই? শুনলাম আজকের এ ম্যাচটা নাকি হেব্বি জমছে?

- ধুর ব্যাটা! এসব বিপিএল টিপিএল খেলার খবর বাদ রাখ তো!

- কেন ভাই, কী হইছে?

- এসব বিপিএল টিপিএল খেলা দেখলে কখনওই মহামানব হওয়া যাবে না!

- মানে ঠিক বুঝলাম না ভাই। ব্যাখ্যা করেন।

- সবকিছুর ব্যাখা নিতে হয় না। কিছু কিছু ব্যাপার ব্যাখ্যাতীত থাকা ভালো। তা না হলে বেঁচে থাকার ইচ্ছা মরে যায়।

বলেই হিমু খট করে ফোন রেখে দিল।

হিমুর এমন কথাবার্তা শুনে বাদলও অবাক হয়ে গেল। এটা কি আসলেই হিমু ভাই? হিমু ভাইয়ের হয়েছে টা কী? সে তো ক্রিকেট খেলার দারুণ ভক্ত। তবে আজ কেন এমন চরিত্র?

পরদিন হিমুর ঘুম ভাঙল রূপার কল পেয়ে। হিমু কল রিসিভ করতেই রূপা ঝাঁঝালো কণ্ঠে বলল,

- বেলা বাজে ১১টা, অথচ এখনও তুমি পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছ? ওঠো বলছি তাড়াতাড়ি!

- কেন জান, কী হয়েছে?

- তুমি ঝটপট ঘুম থেকে উঠে রেডি হয়ে নাও। আমরা আজ বের হব।

- বের হয়ে কোথায় যাব?

- আজ আমরা স্টেডিয়ামে বিপিএল খেলা দেখতে যাব। আমি টিকিট কেটে রেখেছি।

তুমি দ্রুত চলে এসো

হিমু এবারও খট করে কলটা কেটে দিল!

তার মাথা এখনও ভন ভন করে ঘুরছে! রাগে তার হাত-পা কাঁপছে। নিজের মাথার চুল টেনে ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছা করছে। এ রাগটা কার উপর? মেসের ওই টিভিটার ওপর? নাকি বাদলের ওপর? নাকি রূপার ওপর? নাকি বিপিএল ব্যাপারটার উপরই?

হিমু ঘুম থেকে উঠে রেডি হয়ে মেস থেকে বের হতে যাবে। সে কি রূপার জন্য হলেও আজকের খেলাটা দেখবে? পরক্ষণেই সে ভাবল, নাহ এ হতে পারে না। অতি আবেগে যে বড় মুখ করে সে রূপাকে বলেছিল, এবার বিপিএলে আমাদের নোয়াখালী একটা টিম নেবেই নেবে দেইখ! বিভাগ নিতে না পারলেও বিপিএলের একটা টিম নোয়াখালী এবার নেবেই!

কিন্তু না, এ রকম কিছু হয়নি। হিমুর দেশের বাড়ি নোয়াখালী এবার বিপিএলে কোনো টিম পায়নি। তাহলে কিসের জন্য এ টুর্নামেন্ট দেখবে সে? অধিকার আছে কোনো তার? আছে কোনো দরকার? আর তাছাড়া দেখা হওয়ার পর রূপা হিমুকে পচাবে নিশ্চিত। কারণ, প্রেমিকারা অনেক সময় তাদের প্রেমিককে নিয়ে নিষ্ঠুর বিদ্রƒপ করতে ভালোবাসে।

এর মধ্যে হিমুর মোবাইলে আবারও রূপার ফোন এল। হিমু বলল, ‘হ্যালো’!

রূপা বলল, ‘এই, কই তুমি? এত দেরি হচ্ছে কেন আসতে?’

‘আমি বের হচ্ছি। তুমি একটু অপেক্ষা করো’- বলেই হিমু কলটা কেটে দিল। কেটে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলটা অফ করে বিছানার ওপর ফেলে রাখা বালিশের নিচে রেখে দিল। তারপর মেস থেকে বের হয়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে রাস্তায় হাঁটা শুরু করল, অন্যদিনের মতো।

হাঁটতে হাঁটতে ইদানীং ফেসবুক চালানোর খুব বাজে অভ্যাস হয়েছে হিমুর। সে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস লিখল- ‘ভালোবাসার মানুষের খুব বেশি কাছে যেতে নেই। মাঝে মাঝে আসি বলেও তাদের থেকে দূরে থাকতে হয়।’

আঁকা : সালমান সাকিব


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত