শোহান রাহমান    |    
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
বিজি প্রেস, busy প্রেস!
১.
শফিক বিরস বদনে একটি বুথের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তবে এটা কোনো এটিএম বুথ নয়, এটা হল ‘এটিকিউ বুথ’। এনি টাইম কোশ্চেন। এই বুথ খোলার সময় কর্তৃপক্ষ বলেছিল, যে কোনো ছাত্র বুথের মেশিনে তার আইডি কার্ড প্রদর্শন করলেই অনাগত পরীক্ষার ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পেয়ে যাবেন।
বুথের সামনে প্রকাণ্ড এক লাইন। সকলেই কোশ্চেনের আশায় লাইনে দাঁড়িয়েছে। শফিক দাঁড়িয়েছে বিসিএসের প্রশ্নের জন্য। হাতে বেশি সময় নেই। কিছুদিন পরেই পাঁচশতম বিসিএস। আজ প্রশ্ন নিয়ে কাল থেকে পড়াশোনা শুরু করতে হবে। রূপার বাবা বলেছেন, বিসিএস ক্যাডার না হলে রূপাকে বিয়ের কথা চিন্তাও করবে না।
আজ হিমু হলে শফিকের প্রশ্নের জন্য লাইনে না দাঁড়ালেও চলত। কিন্তু শফিক হিমু হতে পারেনি। মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মে হিমু হওয়ার স্বপ্ন দেখতে হয় না রে পাগলা। শফিকের চোখে পানি চলে এলো।
বাঙালি ঠেলায় না পড়লে লাইনে দাঁড়ায় না। শফিক দেখল সামনে পুলিশ ডাণ্ডা পেটা করে লাইন ঠিক করছে। এর মধ্যে একটা ছেলে চিৎকার শুরু করেছে। তাকে নাকি এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন দেয়া হয়েছে। অথচ সে চেয়েছিল জেএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন।
‘মেশিনের কাজ কাম বাজান। মেশিন কি আর মানুষ হইতে পারব? পারব না।’ বুথের দারোয়ান চাচা ছেলেটাকে বোঝাতে চেষ্টা করছেন। শফিক বলল, ‘ঠিকই তো। প্রেসের প্রশ্ন বুথে ঢুকে গেলে প্রশ্নের ওপরে প্রেসের নিয়ন্ত্রণ থাকে না।’ পেছন থেকে একটা মেয়ে বলল, ‘এত সুন্দর করে কীভাবে বলেন? আমি আপনার ফেসবুক ফলোয়ার। প্লিজ অ্যাড কইরেন বাসায় গিয়ে।’ শফিক পেছনে তাকিয়ে মৃদু হাসল।
ছেলেটা শান্ত হচ্ছে না। সে বৃদ্ধ দারোয়ান চাচার সঙ্গে রীতিমতো বেয়াদবি করছে। হাঙ্গামার কারণে লাইনও এগোতে পারছে না। পরিস্থিতি অশান্ত। শফিক সামনে এগিয়ে গেল। গিয়ে ছেলেটার গালে ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিয়ে বলল, তোগো মতো বয়সে আমরা কী করতাম জানোস? স্কুলের দফতরি মামারে চা খাইতে টাকা দিতাম, মামা আমাগো খুশি হয়া প্রশ্ন দিত। আর তুই আসছোস বুথে প্রশ্ন নিতে? যা, ভাগ!
ছেলেটা চড় খেয়ে কুইকুই করতে করতে চলে গেল। সবাই শফিকের সাহসিকতায় মুগ্ধ। দারোয়ান চাচা বললেন, ‘বাজান, তোমার লাহান পোলা আছে বইলাই অহনও সম্মান পাই।’ শফিকের প্রশংসায় পঞ্চমুখ সকলেই বলল, শফিক ভাইকে সবার আগে প্রশ্ন দিয়ে দেয়া হোক। হি ডিজার্ভস ইট।
শফিক বিসিএসের প্রশ্ন হাতে বুক ফুলিয়ে বেরিয়ে এলো। সেই মেয়েটা লাজুক স্বরে বলল, ‘ভাইয়া কি ফরেন ক্যাডার হবেন?’ শফিক মৃদু হেসে বলল, ‘উহু। শিক্ষা ক্যাডার। আমি শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতি দূর করব।’

২.
শফিক অনেক ক্ষণ ধরে বিজি প্রেসের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আজ এখানে চাকরির ভাইভা। ‘সহকারী প্রশ্ন ফাঁস কর্মকর্তা’ পদে শফিক আবেদন করেছিল। রিটেনে টিকে গেছে রেকর্ড সংখ্যক মার্ক পেয়ে। অথচ এই পরীক্ষার ফাঁস হওয়া প্রশ্ন শফিক বুথ থেকে নেয়নি। সকলেই শফিকের মেধার প্রশংসা করছে। তবে আসল ঘটনা জানতে ফ্ল্যাশব্যাকে যেতে হবে।
বিসিএসে শফিক টিকতে পারেনি। কারণ ওটা পাঁচশতম বিসিএসের প্রশ্ন ছিল না। ওটা ছিল এই ‘সহকারী প্রশ্ন ফাঁস কর্মকর্তা’ নিয়োগের প্রশ্ন। পাঁচশতম বিএসিএসের প্রশ্ন ঠোঁটস্থ করেও টিকতে না পেরে অভিমানে শফিক আর কোনো প্রশ্ন সংগ্রহ করতে এটিকিউ বুথে যায়নি। তবে বিজি প্রেসের এই চাকরির পরীক্ষা দিতে গিয়ে সে দেখল, সব প্রশ্নই তার জানা। আর এতে করে রিটেনে টিকে শফিক এখন বিজি প্রেসের সামনে।
ভাইভা দিয়ে হাসিমুখে বের হয়ে এলো শফিক। বেরিয়ে বিড়বিড় করে বলল, ‘চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি রূপা শুনছো।’
সবাই অবাক। ভাইভার প্রশ্ন তো ফাঁস হয় না। সবাই জিজ্ঞেস করল, ‘ঘটনা কী ভাই?’
শফিক মুচকি হেসে বলল, ‘ভাইভার প্রশ্নও ফাঁস হয়। তবে বুথে নয়। মুখে মুখে, মানে মাউথে। হাহাহা।’
- কীভাবে ভাই?
- ভাইভা বোর্ডের হেড হলেন রূপার বাবা।
- রূপা কে ভাই?
শফিক লাজুক হেসে বলল, যেই মেয়েটা আমার সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছিল।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত