• বৃহস্পতিবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৮
হামিদ-উজ-জামান    |    
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
নদীর ভাঙন ঠেকাতে ৫১০ কোটি টাকা
প্রস্তাবিত সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল

সিরাজগঞ্জে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এজন্য একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। ‘সিরাজগঞ্জ জেলায় যমুনা নদী হতে পুনরুদ্ধারকৃত ভূমির উন্নয়ন এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল রক্ষা’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এটি বাস্তবায়িত হলে সিরাজগঞ্জ হার্ডপয়েন্টের ভাটি হতে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম গাইড বাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে পুনরুদ্ধার করা ভূমির উন্নয়ন করা যাবে। এছাড়া প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষাসহ প্রকল্প এলাকার কৃষিজমি, বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ইত্যাদি রক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। অনুমোদন পেলে আগামী জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য এ.এন.সামসুদ্দিন আজাদ চৌধুরী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর (এমটিবিএফ) আওতায় বরাদ্দ প্রদানের নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। তাছাড়া গুরুত্বের দিক বিবেচনা করে পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্বে যমুনা নদীর ডান তীর বরাবর অবস্থিত। প্রকল্প এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০১০ সাল থেকে ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে ক্যাপিটাল (পাইলট) ড্রেজিং অব রিভার সিস্টেম ইন বাংলাদেশ শীর্ষক একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ৪টি ক্রসবার নির্মাণের কারণে প্রায় ১৬ বর্গ কিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার হয়েছে। এই জমি ব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) চাহিদা রয়েছে। ক্রসবার ৩ ও ৪ এর মধ্যবর্তী স্থানে পুনরুদ্ধার করা জমির উন্নয়ন করা হবে। তাছাড়া প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল রক্ষার জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০১৪ সালে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, ৩২ হাজার মিটার নদীর তীর সংরক্ষণ, ৪ দশমিক ৬৮ বর্গ কিলোমিটার ড্রেজিংয়ের মাটি দিয়ে পুনরুদ্ধার করা জমি ভরাট, ৩২ হাজার মিটার মাটির বাঁধ নির্মাণ এবং ৫০ মিটার ড্রেনেজ আউটলেট কাম ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর গত ২৯ অক্টোবর পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ দেয়া হয়েছে। এসব সুপারিশের জবাব দিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। সুপারিশে বলা হয়েছিল প্রকল্পের আওতায় নদীর তীর সংরক্ষণ কাজের মূল্যতালিকা ও নকশা পরিবর্তের বিষয়ে কারিগরি সুপারিশসহ বাপাউবোর প্রধান প্রকৌশলীর (নকশা) মতামত পুনর্গঠিত প্রকল্প প্রস্তাবে (আরডিপি) যুক্ত করতে হবে। এর উত্তরে মন্ত্রণালয় থেকে লিখিতভাবে বলা হয়, প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় বাপাউবোর বগুড়া পওর সার্কেলের হালনাগাদ অর্থাৎ ২০১৬-১৭ অর্থবছরের রেট সিডিউল অনুযায়ী নদীর তীর সংরক্ষণ কাজের ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের প্রথম পিইসি সভায় নদীর তীর সংরক্ষণে ৪০ শতাংশ সিসি ব্লক ও ৬০ শতাংশ জিও ব্যাগ ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়। কিন্তু তীর সংরক্ষণের কাজটি নদীর তীর থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার ভেতরে অবস্থিত। এ এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। তাই এখানে সিসি ব্লকের পরিমাণ কমানো হলে প্রতিরক্ষা কাজটি টেকসই নাও হতে পারে। ফলে স্থাপিতব্য শিল্পকারখানার অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ পরিপ্রেক্ষিতে নদীর তীর সংরক্ষণে ৫০ শতাংশ সিসি ব্লক ও ৫০ শতাংশ জিও ব্যাগ ধরে নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। কমিশনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয় বলেছে, সেতু বিভাগ বঙ্গবন্ধু সেতুর উজান ও ভাটিতে ৬ কিলোমিটারের মধ্যে নদীর ড্রেজিংয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তাই প্রকল্প স্থান থেকে ০-৫ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ এবং ৫-১৫ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ মাটি ড্রেজিং করে তা ভলগেটের মাধ্যমে বহন করে প্রকল্প এলাকার ভূমি উন্নয়ন করা হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ০-৫ কিলোমিটারের মধ্যে প্রতি ঘনমিটার মাটি ১৫৪ টাকা এবং ৫-১৫ কিলোমিটারের মধ্যে প্রতি ঘনমিটার মাটি ২১২ টাকা হিসেবে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত