বেলাল আল জাবের    |    
প্রকাশ : ২১ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
প্রযুক্তির ডানায় ছড়িয়ে দিন দাওয়াত

আল্লাহতায়ালা মানব সৃষ্টির শুরুতেই তার উদ্দেশ্য ব্যক্ত করে বলেন- ইন্নি জায়িলুন ফিল আরদি খলিফা (সূরা বাকারাহ, আয়াত-৩০) নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে খলিফা পাঠাব। আল্লাহর পাঠানো এ খলিফার মিশন কী হবে? আল্লাহ পাক তার উদ্দেশ্য বলে দিয়েছেন এই আয়াতে- কুনতুম খাইরা উম্মাতিন উখরিজাত লিন্নাসি তা মুরুনা বিল মারুফি অতান হাওনা আনিল মুনকার (সূরা আল-ইমরান, আয়াত-১১০)। তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানব জাতির কল্যাণের জন্যই তোমাদের উদ্ভাবন করা হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দেবে, অন্যায় কাজের নিষেধ করবে। আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেছিলেন, খলিফার একমাত্র মিশন হল সৎ কাজের নির্দেশ ও অন্যায় কাজের নিষেধ করা।

জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত মানুষ তার দায়ী ইলাল্লাহর দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে। আজ সর্বত্র দেখা যাচ্ছে তার উল্টো চিত্র। কিছুসংখ্যক ব্যক্তি নির্দিষ্ট কিছু সময় এবং নির্দিষ্ট কিছু স্থানের সঙ্গে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছে দ্বীন প্রচারকে। আল্লাহর পথে আহ্বান আজ মসজিদ-মাদ্রাসার মধ্যে সীমাবদ্ধ। অন্যদিকে রমজান মাস ও হজের মৌসুম ছাড়া তেমন কোনো দ্বীনের প্রচার চোখে পড়ে না। এমন যখন অবস্থা তখন বিশ্বের ইসলাম প্রচারের মাধ্যমগুলোর অবস্থা আরও করুণ। এ মাধ্যমগুলো অধিকাংশই ইসলামবিরোধীদের হাতের মুঠোয়। অন্যদিকে ধর্মের ধারক-বাহক আলেম সমাজ তো ফতোয়াবাজির জায়েজ-নাজায়েজের গ্যাঁড়াকলে আবদ্ধ রেখেছেন নিজেদের। অথচ আল্লাহতায়ালার আদেশ- উদয়ু ইলা সাবিলি রাব্বিকা বিল হিকমাতি ওয়াল মাওইজাতিল হাসানাহ (সূরা নাহল, আয়াত-১২৫)। আপনি মানুষকে আপনার রবের পথে আহ্বান করুন হিকমত ও সদুপদেশ দিয়ে এবং তাদের সঙ্গে আলোচনা করুন মিষ্টি কথায়। আপনার রব, তার পথ ছেড়ে কে বিপদগামী এবং কে সৎ পথে আছে তাও তিনি অবহিত। আয়াতে আল্লাহ পাক মানুষকে ইসলামের দিকে আহ্বান করার মাধ্যম বলে দিয়েছেন, আমাদের বুঝা দরকার হিকমত কী? হিকমত অর্থ কৌশল। আল্লাহর রাসূল (সা.) সর্বপ্রথম দ্বীন প্রচার করলেন ব্যক্তিগত দাওয়াতের মাধ্যমে। প্রথমেই তিনি আম্মাজান খাদিজাতুল কোবরা (রা.)কে দ্বীনের প্রতি আহ্বান জানালেন। তারপর এক এক করে মক্কা ও মদিনার অন্যদের কাছে দ্বীনি দাওয়াত পৌঁছান। হিজরতের পর নবী (সা.) দাওয়াতের নতুন একটি মাধ্যম গ্রহণ করেন পত্র। নবী (সা.) এক এক করে হাবসা বাদশাহ নাজ্জাশী, রোমের বাদশাহ কায়সার, পারস্য বাদশাহ কিসরাসহ সব রাষ্ট্র প্রধানের কাছে পত্র পাঠিয়ে দ্বীনের দাওয়াত দিলেন। আল্লাহর রাসূল দ্বীন প্রচারে যোগাযোগ মাধ্যমের সর্বোচ্চ সময়োপযোগী ও বৈপ্লবিক কৌশলটি ব্যবহার করে ইসলামের মহান অগ্রযাত্রাকে অগ্রসর করেছিলেন। নবীজীর দ্বীন প্রচারের এ নতুন মাধ্যম আমাদের শিক্ষা দেয় কিয়ামত পর্যন্ত যোগাযোগের যতগুলো পদ্ধতিই আবিষ্কার হবে সব মাধ্যমেই দ্বীনের প্রচার করা মুসলমানদের ওপর অবশ্য কর্তব্য। প্রযুক্তির উৎকর্ষের এই যুগে এসে মানুষ যখন ক্রমাগত আকর্ষিত হচ্ছে ইন্টারনেটের ছায়াতলে ঠিক তখন এ ধারায় যুক্ত হল চমকপ্রদ এক নাম সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। আর এখন মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসের মতো সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলো সৃষ্টি করেছে নতুন এক ধরনের সামাজিক বাস্তবতা। আগেকার দিনে সামাজিক যোগাযোগ বলতে বুঝানো হতো আত্মীয়তার সম্পর্ক, ধর্মীয় সম্পর্ক, মানবিক সম্পর্ক, সামাজিক ও জাতীয় সম্পর্ক অটুট রাখতে মানবীয় যোগাযোগ। কিন্তু বর্তমানে মানবীয় যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যান্ত্রিকতার দ্বৈতসংস্করণ। যে সংস্করণের এক দিকে ভার্চুয়াল রূপ আর অন্যদিকে সামাজিক রূপ। এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বলতে বুঝায় একটি অনলাইন সেবা, প্লাটফর্ম তথা ওয়েবসাইট। যা মানুষে মানুষে গড়ে ওঠা সামাজিক সম্পর্কের নেটওয়ার্ক। যেখানে ব্যক্তি তার বিশ্বাস, চিন্তাচেতনা, ধ্যান-ধারণা, আবেগ-অনুভূতি ও মানবীয় বিষয়গুলো নিজস্ব নেটওয়ার্কে তুলে ধরার মাধ্যমে সামাজিক সম্পর্কে একত্রিত হয়। প্রেক্ষাপট যখন এমন তখন আমরা এই যান্ত্রিক মাধ্যমটিতে দেখতে পাই ব্যক্তি প্রথমত ব্যক্তিগত একক ভার্চুয়াল আইডিতে পরিচিত হন, এরপর একটি পরিবার, সমাজ, জাতি আবার একটি ভার্চুয়াল বিশ্বের মধ্যে বিচরণ করে। এই ভার্চুয়াল জগতে ইসলাম প্রচার করা প্রত্যেকটি মুসলমানের এখন দায়িত্ব। আমি আগেই উল্লেখ করেছি কোথায় ইসলাম প্রচার করতে হবে। বয়ে চলা এ উর্বর সময়ে দ্বীন প্রচারের জন্য আমাদের তৎপর হতে হবে মাধ্যমটিতে। এ ক্ষেত্রে আলেম সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। যদিও কিছু আলেম এগিয়ে এসেছেন। অন্যথা অনেক দেরি হয়ে যাবে। যেহেতু আমরা আল্লাহর খলিফা, তাই খেলাফতের মহান দায়িত্ব পালনের দাওয়াতের জ্ঞান রাজ্যে চলুন সবাই আজই এখনই প্রবেশ করি।

লেখক : প্রাবন্ধিক

ইমেইল : [email protected]


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত