মোহাম্মদ ইয়াছিন মজুমদার    |    
প্রকাশ : ২১ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
পাঠক কলাম
ধর্মে বিয়ে প্রসঙ্গ
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঘোষণা করেছেন- ‘অতঃপর তার নিদর্শনসমূহের অন্যতম হল তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা তার সঙ্গে বসবাস করতে পার এবং তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও অনুগ্রহ সৃষ্টি করেছেন নিশ্চয় এতে রয়েছে চিন্তাবিদদের জন্য নিদর্শন (আল কোরআন, সূরা-রুম, আয়াত- ২২)।’ আল্লাহ পাক আরও বলেন- ‘হে মানব জাতি তোমরা তোমাদের প্রভুকে ভয় কর যিনি তোমাদেরকে এক সত্ত্বা (আদম আ.) থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে এর মাধ্যমে তিনি অনেক নারী-পুরুষ ছড়িয়ে দিয়েছেন (সূরা- নিসা, আয়াত- ১)।’
একদা তিনজনের একটি দল নবী (সা.)-এর স্ত্রীর কাছে নবী (সা.)-এর ইবাদত সম্পর্কে জানতে এলো। জানার পর রাসূল (সা.) যত বেশি সময় ইবাদতে অতিবাহিত করেন ভেবেছিল তার থেকে কম মনে হল তাদের। অতঃপর তারা নিজেরা আবার বলল- কোথায় আমরা আর কোথায় নবী (সা.)। নবী (সা.)-এর সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। তখন তাদের একজন বলল, আমি সর্বদা রাত জেগে নামাজ আদায় করব, ঘুমাব না। আরেকজন বলল, আমি আজীবন রোজা রাখব, কখনও রোজাহীন থাকব না। অপরজন বলল, আমি নারী সম্ভোগ থেকে বিরত থাকব, কখনও বিবাহে আবদ্ধ হব না। অতঃপর নবী (সা.) তাদেরকে বললেন তোমরা এ ধরনের কথা বলছ অথচ আমি তোমাদের চেয়ে আল্লাহকে বেশি ভয় করি। আমি রোজা রাখি আবার রোজা রাখা থেকে বিরতি দেই, আমি রাত জেগে নামাজ পড়ি আবার নিদ্রা যাই, আমি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি। মনে রাখবে যে আমার সুন্নত অনুসরণ করবে না সে আমার দলভুক্ত নয় (বোখারি)। নবী (সা.) অন্যত্র বলেছেন, হে যুবকরা যাদের দৈহিক সক্ষমতা, স্ত্রীর ভরণ-পোষণের সক্ষমতা আছে সে যেন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। কেননা তা দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে পবিত্র রাখে। যার সক্ষমতা নেই সে যেন রোজা রাখে, কেননা রোজা কাম রিপুকে দমিয়ে রাখে (তিরমিজি)। যদি তা না কর (এ দুটি গুণকে প্রধান্য না দাও) তবে পৃথিবীতে বিপর্যয় নেমে আসবে (তিরমিজি)। উল্লিখিত আয়াত ও হাদিসে বুঝা যায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা করা পৃথিবীতে মানব বংশের ধারা অব্যাহত রাখা, জেনা-ব্যভিচার থেকে রক্ষা করা, পারিবারিক দায়িত্ব পালনের জন্য বৈবাহিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়েছেন। ইসলাম স্বামীকে স্ত্রীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব দিয়েছে। আয় রোজগারের কঠিন সংগ্রাম স্ত্রীর কাঁধে চাপায়নি। স্ত্রীকে দিয়েছে গৃহের দায়িত্ব। সন্তানরা স্ত্রীর তদারকিতে মানুষ হয়ে ওঠে। আবার কর্ম ক্লান্ত স্বামী ঘরে এসে খাদ্য পানীয় সামনে পায়, মানসিক প্রশান্তি লাভ করে। বৃদ্ধাবস্থায় পিতা-মাতার সেবা সন্তানের ওপর আবশ্যক করে দিয়েছে। এর চেয়ে উত্তম ব্যবস্থা আর কী হতে পারে? আমাদের দেশে বিবাহের সর্বনিন্ম বয়স ছেলেদের ২১ মেয়েদের ১৮ বছর। সম্প্রতি বিশেষ ক্ষেত্রে বয়সের ছাড় দিয়ে আইন করা হয়েছে। ইউরোপের অনেক দেশে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৩-১৪ বছরও রয়েছে।’
যেমন কবি জসীমউদ্দীনের বিখ্যাত কবর কবিতায়- ‘এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মত মুখ, পুতুলের বিয়ে ভেঙ্গে যেতো বলে কাঁদিয়া ভাসাইত বুক।’ আমার মা খালারা চারজন তাদের সবার বিয়ে ১৪-১৫ বছর বয়সে হয়েছিল বলে জানা যায়। তাদের একজনের এগার সন্তান, অন্যদের কারও সাত, কারও আট সন্তান। তাদের স্বাস্থ্য এখনও অটুট। আমাদের পূর্ববর্তী জেনারেশনের অনেকেই ১৫-১৬ বছর বয়সে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তাদের অনেকেরই ৫-৭টি করে সন্তান, তারা সুস্থ সবল আছেন। তা হলে স্বাস্থ্যহানির অজুহাতে এভাবে বিয়ের বয়স বেঁধে দেয়া কতটুকু সঠিক? বিয়ের বয়স বেঁধে দেয়া হয় কিন্তু কুমারী মাতা হওয়ার বয়স বেঁধে দেয়া হয় না। যেমন ইউরোপে বহু অল্প বয়স্কা কুমারী মাতা হচ্ছে, অল্প বয়সে মা হওয়ার অভিজ্ঞতা লাভ করছে। তা যদি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর না হয় বিবাহ কেন ক্ষতিকর হবে? কোনো মেয়ের শারীরিক গঠনের কারণে ১৫-১৬ বছর বয়সে সম্পূর্ণ বিয়ের উপযোগী হয়ে যায়। আবার অনেকের মধ্যে ১৭-১৮ বছরে এ উপযোগিতা আসে না। পিতা-মাতার চেয়ে সন্তানের কল্যাণকামী আর কে হতে পারে? নবী (সা.) বলেছেন, ‘সন্তান বিবাহ উপযোগী হওয়ার পর যদি পিতা-মাতা বিবাহের ব্যবস্থা না করে তবে সন্তান ব্যভিচারে লিপ্ত হলে সন্তানের সঙ্গে পিতা-মাতাও পাপী হবে (মিশকাত)।’
লেখক : অধ্যক্ষ, ফুলগাঁও ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা, লাকসাম, কুমিল্লা




আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত