গোলাম রাব্বী    |    
প্রকাশ : ১১ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
সাক্ষাৎকারে
ক্রিয়েটিভ জগতে ক্যারিয়ার : সিলভিয়া পারভিন লেনি
পুরো নাম সিলভিয়া পারভিন লেনি। তবে তিনি বেশি পরিচিত সিলভিয়া লেনি নামেই। সদা হাস্যোজ্জ্বল ও সাদামনের সহজ-সরল এ ক্রিয়েটিভ মানুষটি নিজেকে পরিচিত করেছেন সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে। উপস্থাপনায় যাত্রাটা শুরু একুশে টেলিভিশনে সংবাদ পাঠের মধ্য দিয়ে। সংবাদ উপস্থাপনায় যুক্ত ছিলেন সংবাদভিত্তিক জনপ্রিয় টেলিভিশন একাত্তর টিভিতেও। তবে, বর্তমানে টিভি নয়, নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন মিডিয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ এফএম রেডিও, রেডিও ঢোলের ডিরেক্টর হিসেবে। অল্প সময়েই জনপ্রিয়তার কাতারে শুরুর দিকে নাম লেখানো দেশের প্রথম রকগানের এ এফএম রেডিও স্টেশনের কর্তা ব্যক্তি হিসেবে বেশ সুনাম কুড়াচ্ছেন তিনি। এর বাইরেও তিনি একজন রাজনীতি সচেতন এবং দেশপ্রেমিক মানুষ। এতসব কাজের ব্যস্ততার মাঝে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরিব মানুষের কল্যাণে ও সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করছেন লাভলী ফাউন্ডেশন। যুক্ত আছেন Centre for Research and Information (CRI) নামক প্রতিষ্ঠানে। রেডিও ঢোল নিয়ে নিজস্ব ভাবনা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং ব্যক্তিগত জীবন ও ক্রিয়েটিভ ক্যারিয়ার বিষয়ক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় নানা গুণ ও পদে পরিচিত সিলভিয়া লেনির সঙ্গে। কথা বলেছেন -

চাকরির খোঁজ : শুরুতেই আপনার পড়াশোনা নিয়ে জানতে চাই-

সিলভিয়া পারভিন লেনি : আমি স্কুল এবং কলেজ নিজ জেলা নাটোরেই সম্পন্ন করেছি। এরপর যখন ঢাকায় আসি তখন এমবিএ করি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ)-তে। এছাড়া, লন্ডন মেট্রোপলিটান ইউনিভার্সিটিতেও আমি পড়াশোনা করছি।

আপনি টেলিভিশনের মানুষ, তা-রেডিও ঢোলের সঙ্গে কখন থেকে কিভাবে পথচলা শুরু করলেন এবং নিজের ক্রিয়েটিভি কতটুকু দেখাতে পারছেন?

: সবাই জানেন এর আগে আমি ৭১ টিভিতে সংবাদ পড়তাম। তারপর হঠাৎ করেই রেডিও ঢোল ৯৪.০০ এফএমে কাজ করার অফারটা এল। টিভিতে তো নিউজ পড়ে চলে আসতাম। এখানে আরও বড় একটা প্লাটফর্ম পেলাম নিজেকে প্রমাণের। তাই এখানে জয়েন করলাম। দেশসেরা একটি টিম বানানোর চেষ্টা করি। আরও সত্যিই আমাদের চেয়ারম্যান স্যার এবং বিভিন্ন বিভাগের প্রধান থেকে শুরু করে সব লোক খুবই কো-অপারেটিভ এবং মেধাবী। এখন তো এটা আমার পরিবারের মতো। আর ক্রিয়েটিভ কাজে টিমওয়ার্ক ও স্বাধীন কর্ম পরিবেশ খুবই সহায়ক।

যদিও খুবই অল্প ক’দিন হল, রেডিও ঢোল আসছে; এর পরও যদি বলেন, ‘এফএম ৯৪.০০’ কতটুকু সফল?

: শুরুতেই বলি আমাদের কিন্তু কোনো প্রতিযোগী নেই। কেননা আমরা গান পছন্দ করে এমন শ্রোতাদের সুস্থ বিনোদন দিতে এগিয়ে চলছি। রেডিও ঢোল ৯৪.০ এফএম কর্মাশিয়ালি সম্প্রচার শুরু করে ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর। তার মানে আমরা ৬ মাস হল আসছি। তাতেই সব মহলে রেডিও ঢোল নিয়ে ব্যাপক কথাবার্তা হচ্ছে। এতে বোঝা যায়, আমাদের ভিন্নধর্মী আয়োজন বিশেষ করে বললে রকগানের এমএফ স্টেশনটি লিসেনারদের হৃদয়ে স্থান পেতে শুরু করেছে। আমরা বলি, আমাদের মূল শক্তি হল আমাদের প্লেলিস্ট। শুরু থেকেই আমরা শতভাগ শ্রোতাদের পছন্দের ওপর নির্ভর করে অনুষ্ঠান নির্মাণ করছি।

রেডিও ঢোল নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা-

: দেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে একটা ইউনিট হিসেবে কাজ করতে চাই। নতুন শিল্পীদের প্রমোট করতে চাই। এখন তো শুধু ঢাকাতে আমাদের প্রচার রয়েছে, এফএম ৯৪.০ তরঙ্গ আমরা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে চাই।

আপনি অনেক বড় পদে চাকরি করলেও বয়স ও মনে অনেক তরুণ; তো, দেশের বিশাল তরুণ সমাজের ক্রিয়েটিভ সত্তার বিকাশে আপনারা কি করছেন?

: আমরা সবসময় তরুণদের প্রমোট করি। যেমন অনেক তরুণ আছেন যারা খুব ভালো রক গান করেন; কিন্তু তাদের নিয়ে কেউ জানেও না, ভাবেও না। আমরা কিন্তু তাদের উৎসাহ দিতে স্পেশাল প্রোগ্রাম তৈরি করছি। নারী উদ্যোক্তাদের নিয়েও কাজ করি। মোট কথা, আমরা নতুন জেনারেশন নিয়ে কাজ করি।

আপনারা যখন নিয়োগ দেন, তখন প্রার্থীদের মধ্যে কী দেখেন?

: আমরা শুরুতেই দেখি সে কতটা মন-মানসিকতায় তরুণ, পজিটিভ এবং কতটা ভিন্ন ও নতুন-নতুন আইডিয়া জেনারেট করতে পারে।

দেশের বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দিক কি দেখতে পান?

: এখনকার তরুণ প্রজন্ম উদ্যমী এবং অনেকেই অল্প বয়সেই নিজে কিছু করার চেষ্টা করছে। কেবল দেশ নয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আমাদের তরুণরা সুনাম কুড়াচ্ছে। আবার এখনও কিছু তরুণ বেশ আবেপ্রবণ তারা কিছু না করেই বড় হতে চায়।

ক্রিয়েটিভ ক্যারিয়ারে সফল হতে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করতে কী বলবেন-

: সফলতা পেতে মনের জোর বাড়াতে হবে। প্রতিবন্ধকতা, বাঁধা-বিপত্তি থাকবে; তবে সেগুলোকে পাত্তা দেয়া যাবে না। মনে রাখতে হবে, আপনার প্রতিযোগী আপনি নিজেই।

মিডিয়া ক্যারিয়ার তথা আপনার ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে একটু যদি বলতেন-

: প্রথমত, যতদিন বাঁচি কাজের মধ্যে থাকতে চাই; সর্বদা হাসি-আনন্দ আর ইতিবাচকতায় থাকতে চাই। আর মিডিয়ায় নিজের উপস্থিতি রাখতে চাই, নিজের মেধা-বুদ্ধি আর পরিশ্রম দিয়ে ভালো কিছু প্রোগ্রাম নিয়ে কাজ করতে চাই।

দেশ তথা লাল-সবুজের বাংলাকে নিয়ে আপনার ভাবনা?

: আমি সবসময় পজিটিভ এক বাংলার স্বপ্ন দেখি। খেয়াল করলে দেখবেন, রেডিও ঢোলও সর্বদা পজিটিভ দেশ তৈরিতে নানা সময় গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রোমো তৈরি করে লিসেনারদের অনুভূতিতে নাড়া দেয়ার চেষ্টা করছি।

আপনি তো রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত আছেন-

: হ্যাঁ; আমি পারিবারিকভাবেই রাজনীতির সঙ্গে মিশে আছি। আমি স্বাধীনতার পক্ষের এবং সোনার বাংলাদেশ গঠনে সবসময় ইতিবাচক ভাবনায় বিভোর থাকি।

আপনার হাতে গড়া মানবিক উদ্যোগ ‘লাভলী ফাউন্ডেশন’ নিয়ে যদি কিছু বলতেন?

: এটা একটা এনজিও। তবে আমরা তথাকথিত এনজিওগুলোর মতো কারও কাছ থেকে কেবল সহযোগিতা নিলাম আর কয়েকটা ছবি তুলে প্রজেক্টের পর প্রজেক্ট বানালাম, ‘লাভলী ফাউন্ডেশন’ মোটেও এমন নয়। আমরা এখানে নিজেদের অর্থই নিজেরা বঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাই।

অন্যান্য এনজিও থেকে এর ভিন্নতা কী?

: প্রথমত, আমি একটু আগেই বললাম আমরা অন্য কারও থেকে বিশেষ করে আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় কোনো সরকারি-বেসরকারি সাহায্য নিয়ে কাজ করি না। দ্বিতীয়ত, আমরা কেবল সবাই যেমন ঢাকা বা শহরের আশপাশকেন্দ্রীক কাজ করি তেমনও না। আমি এক্কেবারে আমার নিজ এলাকা নাটোরের গরিব এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। এক কথায়, শহরকেন্দ্রীক কিন্তু অনেকেই কাজ করছে, অথচ দেখবেন গ্রামে তার ছিটেফোঁটাও নেই। এমনকি আমার এখন পর্যন্ত ইচ্ছা আছে আমি লাভলী ফাউন্ডেশনকে কেবল নাটোরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখব।

সফলতা বলতে আপনি কী বোঝেন?

: আপনি যে কাজটা করছেন, তা করে কতটুকু স্যাটিসফাই হতে পারছেন, বা পারলেন; আমি মনে করি সেটাই একজনের সফলতা।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত