প্রকাশ : ২১ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
চাকরিতে সফল হতে চাইলে
একাডেমিক ফল ভালো, চাকরি পেতে বেগ পেতে হবে না। চাকরি পাওয়ার পর তরতর করে পদোন্নতি পেয়ে যাবেন- এমন ধারণা সব সময় ধোপে টেকে না। বরং ক্যারিয়ারে কাক্সিক্ষত পর্যায়ে পৌঁছতে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হয়, বুদ্ধি খাটাতে হয়। এক্ষেত্রে ছলচাতুরির আশ্রয় না নিয়ে বরং সৎ থেকেও চাকরিতে উন্নতি করা যায়। জানাচ্ছেন এমএ রহমান
কৌশলী হোন : আবার মোটামুটি রেজাল্ট নিয়েও কিছু কৌশল অবলম্বন করলে আপনি যে কোনো বড় প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে পারেন। পৃথিবীতে বড় বড় প্রতিষ্ঠানে যারা বড় চেয়ার দখল করে আছেন তারা সবাই যে ভালো রেজাল্টধারী সেটি কিন্তু কেউ দিব্যি দিয়ে বলতে পারবে না। কিছু টেকনিক ও সাধারণ বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে আপনিও ক্যারিয়ারকে নিয়ে যেতে পারেন বহুদূর।
হোন লক্ষ্যভেদী : একাডেমিক লাইফ আর জব লাইফ দুটি সম্পূর্ণ আলাদা। চাকরিতে ভালো করতে হলে গোল ওরিয়েন্টেড হতে হয়, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হতে হয়। আত্মবিশ্বাস নিয়ে ধৈর্য্যরে সঙ্গে দৃঢ়পদে এগিয়ে যেতে হয়। কর্মক্ষেত্রে যারা সৎ ও দায়িত্বনিষ্ঠ থেকে লক্ষ্যের দিকে ছুটে চলেন তারাই ভালো করেন।
আস্থা অর্জন করুন : কর্মক্ষেত্রে সফল তারাই হন যারা কর্তৃপক্ষের আস্থা অর্জন করতে পারেন। যারা দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সৎ, অফিসে ফাঁকি দেন না, প্রতিশ্রুতিশীল তারাই ঊর্ধ্বতনের আস্থার জায়গায় চলে যান। বসের আস্থা অর্জন করলে আপনার বেতন বৃদ্ধি প্রমোশন আর ঠেকায় কে?
যোগাযোগে দক্ষতা বাড়ান : ক্যারিয়ার সামনের দিকে নিয়ে যাওয়ার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হল- যোগাযোগ দক্ষতা ও কম্পিউটার স্কিল। এ দুটি আপনাকে দ্রুত কাক্সিক্ষত স্থানে পৌঁছে দিবে। ভালো করে কমিউনিকেট করার যোগ্যতা থাকলে চাকরি পাওয়া ও বেটার জব খুঁজে পাওয়া আপনার জন্য সহজ হবে।
নিজেকে ভালোভাবে জানুন : যদি নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস থাকে, তাহলে নিজেই একটি পরীক্ষা নিন। যেমন : মেয়ার-ব্রিগস বা ডিআইএসসির মাধ্যমে অনলাইনে পরীক্ষা করতে পারেন। যা সহজেই আপনার চিন্তা ও আগ্রহের জায়গাটি পরিষ্কার করে তুলবে। এছাড়া ভাবনার জগৎকে প্রসারিত করার পাশাপাশি কাজের দক্ষতা এবং আপনাকে সক্রিয় করে তুলতে সাহায্য করবে। নিজের সবলতা ও দুর্বলতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী করণীয় নির্ধারণ করুন।
নেটওয়ার্ক তৈরি : কোনো প্রতিষ্ঠানের ভেতরে কাজ করে এমন কারও সঙ্গে পরিচয় থাকা অনেক বড় সম্পদ আপনার জন্য। কেননা তার কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন, নিয়োগ প্রক্রিয়াসহ নানা বিষয়ে জানতে পারবেন। তবে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সহজ বিষয় নয়। নতুন সহকর্মী কিংবা নিত্যনতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হোন। তাদের কথা মন দিয়ে শুনুন। বন্ধুত্বসুলভ আচরণ দেখান। তাহলে এক সময় ভালো নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে।
লিংকডইনসহ প্রফেশনাল সাইটগুলোতে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। পরিচিত পেশাজীবীকে উৎসব পার্বণে মোবাইল থেকে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে কিংবা ইমেইল করে শুভেচ্ছা জানান। সম্ভব হলে মাঝে মধ্যে দেখা করুন। এভাবে শক্ত একটা নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে। তখন ওই ব্যক্তি তার প্রতিষ্ঠানে কোনো সুযোগ এলে আপনাকে টেনে নেবেন।
চাকরি ছাড়ার আগে ভাবুন : হুট করেই চাকরি ছেড়ে দেবেন না। তার আগে ভালো করে চিন্তা করুন। অতীতের চাকরির অভিজ্ঞতা খারাপ হতে পারে। কিন্তু তা ভেবে হতাশ না হয়ে ব্যর্থতার কারণ খুঁজে বের করুন। সেই ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিলে পরবর্তী চাকরি জীবনে অবশ্যই ভালো করবেন। বেটার অপরচ্যুনিটি না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
কর্মস্থলে সব ধরনের কাজ শিখুন : একবার কোথাও কাজে যোগ দিলে সেখানকার বিভিন্ন কাজ সম্পর্কে ধারণা নিন। যা পরে আরও ভালো ক্যারিয়ার গঠনে সহায়ক হবে। ভালো চাকরি পাওয়ার গোপন কোনো রহস্য নেই। আপনাকে প্রতিটি বিষয় আয়ত্তে এনে কাজ করতে হবে। যেকোনো পরিবেশে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারার দক্ষতা থাকতে হবে। বহুমাত্রিক কাজ জানলে আপনার চাকরির অভাব হবে না।
পেশাদারদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করুন : নতুন কারও সঙ্গে পরিচিত হতে সংকোচ কিংবা ভয় পাবেন না। নেটওয়ার্ক তৈরি করার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার এটি। সে ক্ষেত্রে কিছুু পরামর্শ-
*বন্ধুত্বপূর্ণ হোন তবে পেশাদারিত্ব বজায় রাখুন;
*ই-মেইল পাঠানোর আগে ভুল ত্রুটিগুলো শোধরে নিন।
*ইনিয়ে বিনিয়ে কথা না বলে সোজাসাপ্টা কথা বলুন।
*সহজে যে উত্তর গুগলে অনুসন্ধানের মাধ্যমে পাওয়া যাবে, সেগুলা জিজ্ঞেস করে বিরক্ত করবেন না;
*কর্মস্থলের সঙ্গে একটি সুসম্পর্ক গড়ে তুলুন;
*ই-মেইলে সৃজনশীল বিষয়গুলো ফুটিয়ে তুলুন।
সাক্ষাৎকারের পূর্বপ্রস্তুতি : অবশ্যই সাক্ষাৎকারের আগে, যে পদের জন্য আপনি আবেদন করেছেন, তা সম্পর্কে, পদের জন্য যেসব অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে, সেসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা নেবেন। এরপর সাক্ষাৎকারে বসবেন। সেজন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পর্যাপ্ত পড়াশোনা করে নিজেকে প্রস্তুত করে নিতে হবে। যে প্রতিষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দেবেন সেটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানবেন।
নিজেকে তুলে ধরুন : জীবনে অন্য আর দশটি বিষয়ের মতো সফলতা অনেক সময় সহজে ধরা দেয় না। কারণ খুব সহজেই যদি সফলতা অর্জন করা যেত, তাহলে সবার মাঝে নিজেকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করা যেত না। আর সফল হতে গেলে কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম, কারণ অধিকাংশ কর্মীর ক্ষেত্রেই এই গুণটি পাওয়া যায় না। বর্তমান সময়ে সবাই চায় অল্পতেই সফল হতে। তাই এর মাধ্যমেই অন্যদের মাঝে নিজেকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব যা সফলতার পূর্বশর্ত।
ইতিবাচক মনোভাব : যেকোনো কাজেই সফল হতে গেলে কাজের ব্যাপারে ‘মনোভাব’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর কর্মক্ষেত্রের গুরুত্ব বলে বুঝানো যাবে না। কারণ সেখানে মনোভাব এমন হতে হবে যেন প্রতিষ্ঠান ধরে নেয় আপনি সেখানে কাজ করতে চান। কর্মক্ষেত্রে সবসময় ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কিংবা সেখানকার কর্মীদের সম্পর্কে অভিযোগ করা থেকে বিরত থাকা বাঞ্ছনীয়। কারণের মাধ্যমে প্রকাশ পায় আপনি প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করে সন্তুষ্ট না।
সহকর্মীর সঙ্গে সুসম্পর্ক : সহকর্মীদের সঙ্গে সবসময় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখাটাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাদের সঙ্গেই আপনাকে কাজ করতে হবে। সহকর্মীরা যদি আপনার সম্পর্কে বিরূপ ধারণা পোষণ করে, তাহলে তাদের কাছ থেকে কর্মক্ষেত্রে সহযোগিতা পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।
লক্ষ নির্ধারণ করা : সফল হতে গেলে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ ও গন্তব্য থাকা প্রয়োজন। আপনি কী করতে চাইছেন এবং কেন করতে চাইছেন, সেটি জানা থাকলে সামনে এগুলো সহজ হবে। আর লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করতেও সহজ হবে। কোনো কাজটি করছেন, সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে। আপনি যদি না জানেন যে আপনার লক্ষ্য অর্জনের জন্য আপনাকে কীভাবে কাজ করতে হবে, তাহলে সেটি আপনার সফলতার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। কাজের মাঝে নিজের দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধান করতে হবে। যেকোনো কাজ সঠিক সময়ে শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করতে হবে।
শেখার আগ্রহ : আপনি যত শিখবেন, আপনার সফলতার পথ ততোই প্রসারিত হবে। কর্মক্ষেত্রে নতুনদের জন্য তো এটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই আছেন যাদের নতুন কিছু শেখার প্রতি আগ্রহ কম থাকে। দিন শেষে দেখা যায় তারাই পিছিয়ে পড়ে।
কঠোর পরিশ্রম : আপনারে সফলতার শীর্ষে পৌঁছতে হলে হার্ড ওয়ার্ক করা ছাড়া শর্টকার্ট কোনো পন্থা নেই। নিজের যোগ্যতা প্রমাণে কঠোর পরিশ্রমী হোন। মেধার সঙ্গে পরিশ্রম যোগ হলে সফলতা ধরা দিতে বাধ্য।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত