আতিকুর রহমান    |    
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
আবাসন শিল্পে আপনার পেশা

বাবুই পাখিকে ডাকিয়া বলিছে চড়াই কুঁড়েঘরে থেকে করো শিল্পের বড়াই, আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকার পরে... কষ্ট হোক তবু থাকি নিজের বাসায়। মানুষের মৌলিক চাহিদারগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাসস্থান। সারাদিন পরিশ্রম করে দিন শেষে শান্তির খোঁজে নিজ গৃহে ফেরেন মানুষ। অনেক মানুষের স্বপ্ন থাকে শহরে বসবাসের জন্য তার নিজের একটা আবাসন ব্যবস্থা থাকবে। হোক তা বাড়ি অথবা ফ্ল্যাট, ছোট অথবা বড়। বর্তমানে মানুষের আবাসন সংকট চরম পর্যায়ে। এই সংকটে মোকাবেলায় কাজ করে আসছে আবাসন শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো। ১৯৬৪ সালে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের হাত ধরে এদেশে আবাসন শিল্পের আগমন। মানুষের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গে দিন দিন বেড়েই চলেছে এই প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও। মানুষের সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় করে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আবাসনের ব্যবস্থা করে দিতে কাজ করে আসছে এই প্রতিষ্ঠানগুলো। মানুষের এই চাহিদা পূরণের জন্য শুধু প্রতিষ্ঠান বেড়ে চলেছে তা কিন্তু না। পাশাপাশি এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার জন্য প্রয়োজন হচ্ছে জনশক্তির, গড়ে উঠছে বিশাল কর্মক্ষেত্রও। এই খাতে কর্মদক্ষতা দিয়ে সহজেই নিজের অবস্থান তৈরি করা যায়।

যেসব ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ আছে : আবাসন শিল্প প্রতিষ্ঠান সাধারণত যেসব বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আইনবিভাগ, ক্রয় ও মাননিয়ন্ত্রণ বিভাগ, প্রকৌশল বিভাগ, বিপণন বিভাগ, প্রশাসন ও হিসাব বিভাগ।

আইন বিভাগ : এই বিভাগ আবাসন শিল্পে বড় ভূমিকা রাখে। প্রাথমিকভাবে জমির কাগজপত্র যাচাই করে কোনো জমি নেয়া না নেয়া বিষয়ে সঠিক পরার্মশ দেয়া। সেই অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান ও জমির মালিকের মধ্যে আইনগত চুক্তি সম্পাদন করা এ বিভাগের কাজ। এছাড়াও ক্রেতার চুক্তিপত্র দেয়াসহ প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আইনগত বিষয় দেখা এই বিভাগের কাজ। এখানে সাধারণত একজন আইনজীবী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়ে থাকেন।

প্রকৌশল বিভাগ : আবাসন শিল্পের মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে এই বিভাগ। জায়গা ঠিক হওয়ার পরেই শুরু হয় এই বিভাগের কাজ। ভবনের নকশা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন থেকে শুরু করে সৌন্দর্য বর্ধন পর্যন্ত সব কাজের তদারকি করে থাকে। এই বিভাগের উপরেই নির্ভর করে ভবনটির দুর্যোগ মোকাবেলার ক্ষমতা ও নিরাপত্তা।

ভবনটি কতটা ঝুঁকিমুক্ত হবে তা নির্ভর করে এই বিভাগের ওপর। একজন প্রধান প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে সহকারী বা সাইট প্রকৌশলীরা কাজ করে থাকেন।

ক্রয় ও মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগ : সাইট পরিচালনার জন্য জমি ছাড়া প্রয়োজনীয় সব কিছু ক্রয় করে থাকে এই বিভাগ। প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করে থাকে। ক্রয়কৃত পণ্যের গুণগতমান নিশ্চিত করে মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগ। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইট বালু সিমেন্ট ও লোকবল নিয়োগ করার পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করার কাজটিও করে থাকে এ বিভাগ। এ বিভাগে একজন ক্রয় ব্যবস্থাপকের সঙ্গে সহকারী ব্যবস্থাপক ও ক্রয় নির্বাহী কাজ করে থাকেন।

সেলস ও কাস্টমার রিলেশন বিভাগ : আবাসন শিল্পের প্রধান কাজটি করে থাকে এই বিভাগটি। এই বিভাগের কর্মীদের সারা বছর কাজ করতে হয়। গ্রাহকদের কাছে তাদের সাইটের নকশা ও পরিকল্পনা দেখিয়ে আকৃষ্ট করতে হয়। এরাই গ্রাহকের কাছে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন দিকগুলো তুলে ধরেন। আবাসন শিল্পে ব্র্যান্ডিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বিভাগ মূলত প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিং করে থাকে। এই বিভাগে গ্রাহকের প্রয়োজন বুঝে কাজ করতে হয়। একজন মহাব্যবস্থাপকের অধীনে ব্যবস্থাপক, সহকারী ব্যবস্থাপক, জ্যেষ্ঠ নির্বাহী ও নির্বাহীরা কাজ করে থাকে।

হিসাব বিভাগ : প্রতিষ্ঠানের সব আয়-ব্যয়ের হিসেব রাখা এদের কাজ। জমি কেনা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, কর, সরকারি বিভিন্ন ফি প্রদান করা, আবাসন বিক্রয়ের টাকাসহ বিভিন্ন প্রকার লেনদেন হিসাব বিভাগের মাধ্যমে হয়ে থাকে। লেনদেনর হিসাব রাখে এই বিভাগ। এখানে একজন বিভাগীয় প্রধানের অধীনে ব্যবস্থাপক, সহকারী ব্যবস্থাপক, জ্যেষ্ঠ নির্বাহী ও নির্বাহীরা কাজ করে থাকে।

প্রশাসন বিভাগ : প্রতিষ্ঠানের সব প্রকার প্রশাসনিক কাজ এই বিভাগ করে থাকে। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা, মালিক ও কর্মীদের মাঝে যোগাযোগ রক্ষা করে উভয়ের কল্যাণে কাজ করে। এখানে মহাব্যবস্থাপক থেকে অফিস সহকারী, নিরাপত্তারক্ষীরা এই বিভাগের অর্ন্তগত। এছাড়াও কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে মানব সম্পদ বিভাগও কাজ করে থাকে।

নিয়োগ প্রক্রিয়া : আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় বিজ্ঞাপন, বিভিন্ন জব সাইটে বিজ্ঞাপন ইত্যাদির মাধ্যমে বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে থাকে। এ ছাড়া আবাসন সংস্থাগুলোতে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমেও লোক নিয়োগ করা হয়ে থাকে। প্রার্থীর আবেদনপত্র ও জীবন বৃত্তান্ত দেখে আবেদনপত্র বাছাই করে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে নাভানা রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের রিক্রুটমেন্ট এনালাইস্ট ইস্কান্দার মির্জা বলেন, ‘আমরা সব নিয়োগ প্রক্রিয়া খুবই স্বচ্ছতার মাধ্যমে করে থাকি। দক্ষ, অভিজ্ঞ ও কাজের প্রতি যারা যত্নশীল তাদের আমরা নিয়োগ দিয়ে থাকি’। এসব প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে আগের তুলনায় দক্ষ ও যোগ্য লোকের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে, বলে তিনি জানান।

বেতন-ভাতা : অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো আবাসন শিল্প প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্তরা নির্দিষ্ট হারে বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। কোম্পানিগুলো ভালো বেতনের পাশাপাশি কর্মীদের জন্য বীমা সুবিধা, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচ্যুইটি, পারফরমেন্স বোনাস, যাতায়াত, চিকিৎসা ভাতা ইত্যাদি সুবিধা দিয়ে থাকে। এ ছাড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো এসব প্রতিষ্ঠানেও চাকরি স্থায়ী হওয়ার পর কর্মীদের দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতির ব্যবস্থা করে থাকে।

আবাসন শিল্পে কাজ করতে চাইলে : আবাসন শিল্পে সাধারণত স্থপতি, তড়িৎ ও পুর প্রকৌশলীদের স্নাতক পাস হতে হয়। এছাড়াও ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদেরও কাজের সুযোগ আছে। অন্যান্য বিভাগের জন্য বিপণন, হিসাব বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনায় ডিগ্রি ধারীদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়।

পড়ার বিষয় আবাসন : আমাদের দেশে এই বিষয়ে পড়ার জন্য তেমন কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেনি। তবে দেশে একমাত্র ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে চার বছর মেয়াদি ব্যাচেলর অফ রিয়েল এস্টেট বিষয়ে স্নাতক কোর্স চালু আছে। রিয়েল এস্টেট বিভাগের চেয়ারম্যান শেখ আবদুর রহিম বলেন, স্নাতক কোর্স ছাড়াও আমরা বিভিন্ন আবাসন প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের নিয়ে বিভিন্ন কোর্স ও সেমিনার আয়োজন করে থাকি। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশলী ও ব্যবসায় প্রশাসনে পড়ার সুযোগ রয়েছে।

সাক্ষাৎকার : শেখ আবদুর রহিম

বাংলাদেশে একমাত্র ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে রিয়েল এস্টেট বিষয়টি পড়ানো হয়। পড়ার বিষয় হিসেবে ব্যাচেলর অফ রিয়েল এস্টেট সম্পর্কে জানতে আমরা যোগাযোগ করি এই বিভাগের চেয়ারম্যান শেখ আবদুর রহিমের সঙ্গে

যুগান্তর : কত সাল থেকে বিভাগটি যাত্রা শুরু করেছে?

শেখ আবদুর রহিম : এই বিভাগটি ২০০৮ সালে প্রথম চালু করা হয়। বাংলাদেশে আমরাই প্রথম ও একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যারা এই বিষয়ে পড়িয়ে থাকি। এখন আমাদের ২৭তম ব্যাচ চলছে।

যুগান্তর : নতুন বিভাগ শুরু করা থেকে এখন পর্যন্ত চালিয়ে নিতে কি কি অসুবিধার হচ্ছে?

শেখ আবদুর রহিম : আমাদের সমাজে নতুন কিছু আসলে সহজে গ্রহণ করতে চায় না। গতানুগতিক ধারা ছেড়ে বেড়িয়ে আসতে চাই না আমরা। এটা যে কোনো ক্ষেত্রেই হতে পারে। সেটা দ্রব্য সমগ্র বলেন, গান বলেন, খাবার বলেন, জামা-কাপড় বলেন সবই এ রকম। আমরা চাই সবাই যে দিকে যাচ্ছে আমিও সে দিকেই যাব। আমি যদি উদাহরণ দিয়ে বলি যখন পরীক্ষার ক্ষেত্রে গ্রেডিং সিস্টেম আনা হল তখন কিন্তু অনেকেই এটি বুঝতো না। তখনও মানুষ জানতে চাইতো কোন ডিভিশনে পাস করেছে। এই বিভাগটিও তেমনি। এ ক্ষেত্রে কারও ছেলে মেয়ে যদি রিয়েল এস্টেটে পড়ে, আর একজন জানতে চায়, তুমি কোথায় পড়ো? যদি বলে রিয়েল এস্টেটে পড়ি তাহলে তারা বলে এটা আবার কি জিনিস? এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাজ চালাতে গেলে শিক্ষক লাগে। অন্যান্য বিষয়ে যেমন অনেক শিক্ষক রয়েছে। এই বিষয়ে কিন্তু আমরা সে রকম শিক্ষক পাই না। তাই বিদেশ থেকে যারা এই বিষয়ে পড়ালেখা করে আসছে তাদের দিয়েই আমরা চালিয়ে নেই। এই সমস্যার সমাধান হতো, যদি অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়টি পড়ানো হতো তবে বেশি ছাত্রছাত্রী আসতো এদের থেকেই আমরা শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারতাম।

যুগান্তর : কারা এই বিষয়ে পড়তে আগ্রহ দেখাচ্ছে?

শেখ আবদুর রহিম : যারা আসলে বুঝে যে এই সেক্টরে প্রচুর কাজের সুযোগ আছে তারাই মূলত এই বিষয়ে পড়তে আসে। এই যেমন গত সেমিস্টারে আমাদের এক ছাত্র ভর্তি হয়েছে ওর গার্ডিয়ান দুবাই থাকে। আমাদের ওয়েবসাইট থেকে সব তথ্য জেনে দুবাই থেকে সে আমাকে ফোন করেছে। এই বিষয়ে পড়লে ওখানে সহজেই ভালো বেতনে চাকরি পাওয়া যায়। আমাদের আর কিছু বলতে হয়নি সরাসরি ভর্তি হয়েছে। অন্য এক ছাত্রের ভাই সিঙ্গাপুর থাকে সে আমাকে ফোন করে বলেছে এখান থেকে পড়ে সিংগাপুরে গিয়ে মাস্টার্স করলে ভালো বেতনে চাকরি পাবে।

যুগান্তর : কি কি বিষয় শেখানো হয়?

শেখ আবদুর রহিম : মূলত রিয়েল এস্টেট সেক্টরে চাহিদার তুলনায় যোগ্য লোকের অভাব। এ কথা মাথায় রেখেই আমাদের বিষয়গুলো নির্বাচন করা। এখানে চার বছর মেয়াদি ব্যাচেলর অব রিয়েল এস্টেট বিষয়ে রিয়েল এস্টেট ব্যবসার পরিচিতি, মূলনীতি, আধুনিক নগরায়ন, পরিবেশ বিজ্ঞান, রিয়েল এস্টেটের সঙ্গে পরিবেশের সম্পর্ক, রিয়েল এস্টেটে বিপণন-ব্যবস্থাপনা, রিয়েল এস্টেটে পরিকল্পনায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ও আর্কিটেক্ট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মৌলিক বিষয়গুলো পড়ানো হয়। এছাড়াও রিয়েল এস্টেটে আইন, রিয়েল এস্টেটে জিআইএস, বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেটের সমসাময়িক ইস্যু, রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ ও মূল্যায়ন, রিয়েল এস্টেটে পরিসংখ্যানসহ মোট ৪২টি বিষয় পড়ানো হয়ে থাকে।

যুগান্তর : এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাজের ক্ষেত্র কি কি বা দেশে কোন কোন পেশার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে?

শেখ আবদুর রহিম : খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন করেছেন। সবার ধারণা যে রিয়েল এস্টেট থেকে লেখাপড়া করে শুধু রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতেই চাকরি হবে, তা কিন্তু না। রিয়েল এস্টেট বিভাগ থেকে পাস করার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের ছেলেরা বিভিন্ন পেশায় প্রবেশ করছে। তাদের চাকরির জন্য বসে থাকতে হচ্ছে না। এখান থেকে পাস করে একজন আবাসন ব্যবসার পাশাপাশি রিয়েল এস্টেটে মার্কেটিং ও সেলসসহ ফাইন্যান্স, একাউন্টস, আরবান প্লানিং, বিভিন্ন ব্যাংকে রিয়েল এস্টেট বিভাগ, বীমা কোম্পানির রিয়েল এস্টেট শাখায়, রিয়েল এস্টেটের কাস্টমার সার্ভিস, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি এছাড়া বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে যেমন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিংস রিচার্স ইন্সটিটিউট, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সহজেই চাকরির সুবিধা পাচ্ছে। দেশের বাইরেও এদের কাজের অনেক সুযোগ রয়েছে।

যুগান্তর : এখান থেকে পাস করে একজন শিক্ষার্থী কোন পজিশনে চাকরি পেয়ে থাকে?

শেখ আবদুর রহিম : আবাসন শিল্পে আমাদের শিক্ষার্থীরা সাধারণত এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজে যোগ দিয়ে ধাপে ধাপে জিএম, ডিজিএম পর্যন্ত হতে পারে। যাদের ভালো একাডেমিক জ্ঞান আছে তারা সরাসরি এজিএম হিসেবেই যোগ দিয়ে থাকেন।

যুগান্তর : আবাসন শিল্পের ক্যারিয়ারে কারা ভালো করতে পারবে বলে আপনি মনে করেন?

শেখ আবদুর রহিম : প্রথম কথা হল যারা ক্রিয়েটিভ তারা এই সেক্টরে ভালো করতে পারবে। রিয়েল এস্টেট বিভাগে পড়ালেখা করেছে সে কিন্তু এই সেক্টরের একজন উদ্যোক্তা। এখানে কাজগুলো যেমন ক্রিয়েটিভ, ভুলগুলোও চেখে পড়ার মতো। দেখুন, একজন মার্কেটিংয়ে, একাউন্টিংয়ে ভুল করলে সহজে চোখে পড়ে না, অপরদিকে একজন ডাক্তার ভুল চিকিৎসা দিলে সহজেই ধরা পড়ে। তেমনি একজন ইঞ্জিনিয়ার যদি ভুল কাজ করে এটা কিন্তু ভিজিবল মানুষের চোখে সহজেই ধরা পড়ে। আমি বলতে চাই এখানে তারাই ভালো করতে পারবে, যারা ক্রিয়েটিভ, যারা মানুষের সেবা করতে চায়, জিডিপিতে কন্টিবিউট করতে চায়।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত