আল ফাতাহ মামুন    |    
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
স্বপ্ন ভেঙে যায় দুশ্চিন্তায়
ভেবে-চিন্তে কাজ করা সফলতার পূর্বশর্ত- কথাটি যেমন ঠিক, অতি ভাবনা বা দুর্ভাবনাও ব্যর্থতার বড় কারণ- এও চরম সত্য। গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ রঙিন স্বপ্নই ধূসর হয়ে ঝরে পড়ে এই দুর্ভাবনা বা দুশ্চিন্তার কারণে। অতীতের ভুলের জন্য কিংবা ভবিষ্যতের স্বপ্নিল ফুলের জন্য অনেকেই রীতিমতো দুশ্চিন্তায় ভোগেন। যা একসময় ভয়াবহ মানসিক রোগে দিকে ঠেলে দেয় আমাদের। মন থেকে রোগ বাসা বাঁধে শরীরেও। দেখা দেয় নানা জটিলতা। দেয়াল ওঠে স্বপ্ন ও বাস্তবতার মাঝে। অতীতের ভুল কিংবা ভবিষ্যতের ফুল-দুশ্চিন্তা যে কারণেই হোক না কেন তা কিন্তু বর্তমানকেই ধ্বংস করছে। নষ্ট করছে সম্ভাবনাকে। অথচ, বর্তমান নিয়েই তৈরি হয় আমাদের অতীত, গড়ে ওঠে স্বপ্নিল ভবিষ্যৎ। তাই এ সময়টা যদি বৃথা ভাবনায় শেষ করি তবে আমাদের অতীত যেমন সুন্দর হবে না, তেমনি ভবিষ্যতেও সফলতার দেখা মিলবে না। তাই, বৃথা চিন্তায় বর্তমানকে নষ্ট না করে সফলতার ভিত মজবুত করাই হল বুদ্ধিমানের কাজ।
অধিকাংশ তরুণ শিক্ষার্থী কিংবা নবীন উদ্যোক্তা প্রায় দুটি বিষয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন। শিক্ষার্থীরা ভাবেন, এর চেয়ে ভালো সাবজেক্ট পেলাম না কেন? অথবা আগের টার্মগুলো আরও ভালো করে পড়িনি কেন? এটা হল তাদের অতীত নিয়ে দুশ্চিন্তা। আর ভবিষ্যত সম্পর্কে তারা ভাবেন, এই সাবজেক্ট পড়ে কি সফল হতে পারব? প্রতিযোগিতার বিশ্বে কি আমি টিকে থাকতে পারব? দুঃখজনক হলেও সত্য! এসব ভেবে তারা রানিং টার্মের রেজাল্টও খারাপ করে বসেন। অথচ, চাইলেই তারা দুশ্চিন্তাকে ঝড়ে ফেলে চমৎকার ফলাফল করতে পারত। পারত সফল ভবিষ্যতের শ্রেষ্ঠ রূপকার হতে। নবীন উদ্যোক্তরা ভাবেন, আরও আগে কেন শুরু করেনি? অথবা এ পদ্ধতি প্রয়োগ করলে তো আগে আর লস গুনতে হত না। আরও ভাবেন, এ ব্যবসায় কি আমি সফলতার দেখা পাব? কতজনই তো লেগে আছেন এ পথে। কই তারা তো সফল হয়নি। এমনিভাবে অতীত-ভবিষ্যতের নানা উপখ্যান নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন উদ্যোক্তরা। একপর্যায়ে দুশ্চিন্তার বিশাক্ত ছোবলে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন তারা। আগ্রহ ও আন্তরিকতা হারিয়ে ফেলেন কাজের প্রতি। ধীরে ধীরে লস গুনতে শুরু করেন স্বপ্নের ব্যবসায়। ইনিও কিন্তু চাইলেই হতে পারতেন সফল ব্যবসায়ী, যদি দুশ্চিন্তার ছোবলে হতাশায় নীলে ডুবে না যেতেন।
এ লেখা পড়ে কেউ ভুল বুঝবেন না যে, আমি চিন্তা-পরিকল্পনার বিপক্ষে। আমি ঘোর পরিকল্পনার পক্ষে। ‘ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না’- এ প্রবাদের একনিষ্ঠ বিশ্বাসী। কিন্তু আমি বলতে চাই, ভাবানা যেন দুর্ভানায় এবং চিন্তা যেন দুশ্চিন্তায় রূপ না নেয়। তাহলেই আপনার স্বপ্নের ক্যারিয়ার দুঃস্বপ্নে এবং সুখের ভবিষ্যত অসুখে রুপ নেবে। ফরাসি দার্শনিক মন্তেইনও খুব চমৎকার বলেছেন, ‘আমাদের জীবনে অধিকাংশ সপ্নই ভেঙে যায় দুশ্চিন্তার ধাক্কায়। মজার ব্যাপার হল, আমরা সে বিষয়েই বেশি দুশ্চিন্তায় ভুগি যার মুখোমুখি এখনও আমরা হয়নি।’ যেমন শিক্ষার্থীরা ভেবে মরছে, এই সাবজেক্ট বা রেজাল্ট দিয়ে কী হবে? আর উদ্যোক্তারা ভাবছে, এই ব্যবসার ভবিষ্যত কী? ভবিষ্যৎ যাই হোক, আমি যেহেতু এই সাবজেক্ট নিয়েই ফেলেছি, দেখে শুনে এ ব্যবসায় নেমেই গিয়েছে, এখন আর পেছনে ফেলার সুযোগ নেই। কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে আমাকে এগিয়ে যেতে হবে লক্ষ্যের দিকে। তবেই সফলতা ধরা দেবে হাতের মুঠোয়।
বিখ্যাত দার্শনিক টমাস কার্লাইল এ পরামর্শই দিয়েছে আমাদের। তিনি বলেছেন, ‘অতীত নিয়ে দুশ্চিন্তা নয়, ভবিষ্যত নিয়েও দুর্ভাবনা নয়। বর্তমানকে গড়ে তোলো। তোমার অতীত হবে সুখময় আর ভবিষ্যৎ হবে রঙিন।’ ঠিক একই কথা বলেছেন ভারতবর্ষের শ্রেষ্ঠ কবি কালিদাস রায়। কবির ভাষায়- ‘অতীত কিংবা ভবিষ্যৎ কোনটাই তোমার হাতে নেই। তোমার কাছে আছে শুধু বর্তমানের সময়টুকু। বর্তমানের সর্বোচ্চ ব্যবহার করো। অতীত নিয়ে ভুগতে হবে না, ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবতে হবে না।’
লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
E-mail : [email protected]



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত