এম এ রহমান    |    
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি
ইংরেজি ও বাংলার প্রস্তুতিতে কৌশলী হোন
যতই দিন যাচ্ছে ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ততই ঘনিয়ে আসছে। তাই পরীক্ষার্থীদের কাছে এ সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এবার প্রায় তিন লাখ ৮৯ হাজার শিক্ষার্থী কাক্সিক্ষত চাকরির আশায় অংশ নিতে যাচ্ছেন এ পরীক্ষায়। ডিসেম্বরের শেষ দিকে হবে পরীক্ষা। তাই চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি। বিসিএস পরীক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজি ও বাংলা বিষয় দুটি খুবই জটিল। একটু সতর্ক হয়ে প্রস্তুতি নিলে দুটি বিষয়েই ভালো নম্বর তোলা যায়। কীভাবে স্বল্প সময়ের মধ্যে এ দুটি বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি গুছিয়ে নিতে পারেন-
এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন ৩৬তম বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারের সুপারিশপ্রাপ্ত মাসুদুর রহমান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করেছেন।
মাসুদুর রহমান মনে করেন, একটু কৌশলে ইংরেজি ও বাংলা বিষয়ে প্রস্তুতি নেয়া গেলে ভালো করা সম্ভব। পরামর্শ নিয়ে লিখেছেন এম এ রহমান
ইংরেজি : আমরা সবাই ছোটবেলা থেকে ইংরেজি শিখে আসছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল বাংলাদেশের বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীর ইংরেজি ভীতি রয়েছে। শুধু বিসিএস নয়, যেকোনো চাকরির পরীক্ষায় ইংরেজি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই যদি একটু কৌশলে ইংরেজি বিষয়ে প্রস্তুতি নেয়া যায় তবে বিসিএসসহ অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় ভালো করা সম্ভব। অর্থাৎ এটি স্বীকার করতে হবে যে, ভালো চাকরির জন্য ভালো ইংরেজি জানতে হবে। বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা টিকে থাকতে হলে ইংরেজি বিষয়ের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্ক এবং কৌশলী হতে কবে। কারণ ইংরেজি সিলেবাস যতটা না বড় তার চেয়ে তুলনামূলক কঠিন।
ইংরেজি সিলেবাসটি দুটি ভাগে বিভক্ত। এখানে প্রথম ভাগটি হল- Language (২০) এবং দ্বিতীয় ভাগ Literature (১৫)। ইংরেজি প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রথম কাজ হল বিগত বিসিএস পরীক্ষায় চলে আসা প্রশ্নগুলো ভালোভাবে সমাধান করা। বিগত সালের প্রশ্ন সমাধান করতে গেলে যেসব সমস্যা সামনে আসে সেগুলো ভালো কোনো ইংরেজি গ্রামার বই থেকে বুঝে নিতে হবে। দরকার হলে খাতায় লিখে নিতে হবে। বিগত সালের প্রশ্ন থেকে কোনো প্রশ্ন হুবহু নাও আসতে পারে। কিন্তু বিগত সালের প্রশ্ন পড়লে বিসিএস পরীক্ষায় কেমন প্রশ্ন আসতে পারে সে সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যাবে।
Parts of Speech: এখান থেকে প্রথম যে প্রশ্ন আসতে পারে সেটি হল Parts of Speech এর গঠন নিয়ে। যেমন কোন Word এর Noun, Verb, Adjective, Adverb এর গঠন জানতে হবে। ৩৬তম বিসিএসে একটি প্রশ্ন ছিল Number এর Verb কি। তবে এক্ষেত্রে যেগুলো ব্যতিক্রম সেগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া Determiner সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। Gender এর ক্ষেত্রে যেগুলো ব্যতিক্রম সেগুলো খাতায় আলাদা করে লিখে রাখতে হবে এবং বারবার পড়তে হবে। Verb এর ক্ষেত্রে Finite এবং Nonfinite সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। বিশেষ করে বেহফবৎ, Gender, participle এবং Infinitive এর ব্যবহার জানতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ Phrasal Verb এবং Appropriate Preposition খাতায় লিখে ফেলতে হবে। যাতে বারবার পড়া যায়।
Idioms & Phrases: গুরুত্বপূর্ণ এবং যেগুলো বারবার পরীক্ষায় এসেছে এমন Idioms & Phrases গুলো বুঝে বুঝে পড়তে হবে। Correction: Correction এর ক্ষেত্রে Right forms of Verbএবং Subject Verb Agreement এর নিয়মগুলো পড়তে হবে। পাশাপাশি উদাহরণের সঙ্গে মিলিয়ে এমনভাবে বুঝে নিতে হবে যাতে ওই নিয়মের অন্য প্রশ্ন এলে উত্তর করতে পারা যায়। Transformations: Transformation এর ক্ষেত্র ৩টি অংশ রয়েছে। প্রথমটি হল- Simple > Compound > Complex. দ্বিতীয়টি হল- Active > Passive. এবং তৃতীয়টি হল- Positive> Comparative> Superlative. এই বিষয়গুলো স্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে। Words: যেকোনো চাকরির পরীক্ষার ক্ষেত্রে Word meaning খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিসিএসসহ প্রায় প্রতিটি পরীক্ষায় Synonyms/Antonyms আসে। এছাড়া Words এর Spelling ও আসতে পারে। আর একটি বিষয় হল যদি Word meaning দুর্বলতা থাকে তবে ইংরেজি প্রশ্ন বুঝতে সমস্যা হবে। কিন্তু Word meanings মনে রাখা অনেক কঠিন। তাই বারবার পড়তে হবে। যাতে করে মনে থাকে। তারপরও যেগুলো কঠিন Words সেগুলো খাতায় লিখে রাখতে হবে। পরে এগুলো বেশি বেশি পড়তে হবে।
Literature: ইংরেজির দ্বিতীয় অংশটি হল Literature. এ অংশ থেকে প্রথম কাজ হল Literary Periods (সাহিত্যের যুগবিভাজন) সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেয়া। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি Literary Periods এর গুরুত্বপূর্ণ এবং খ্যাতিমান Writers এর নাম এবং তাদের অবদান সম্পর্কে জানতে হবে। তাদের বিখ্যাত উপন্যাস, গল্প এবং কবিতাগুলোর নাম জেনে রাখতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে এই লেখাগুলোর চরিত্রগুলোর নামও জানতে। ৩৫তম বিসিএস থেকে আলাদা করে Literature অংশটি নতুন সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা। তাই বিগত এই তিনটি বিসিএসের প্রশ্ন থেকেই আপনাকে Literatureঅংশের কেমন প্রশ্ন আসতে পারে সে সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে। তবে বিখ্যাত কয়েকজন লেখকের সাহিত্যকর্ম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারা হলেন- Alexander Pope, Ben Jonson, Bertrand Russell, Charles Dickens, G B Shaw, Homer, Jane Austen, John Keats, John Milton, Leo Tolstoy, Lord Byron, O’ Henry, P B Shelly, S.T.Coleridge, T.S.Eliot, W.Somerset Maugham, W.B.Yeats, William Shakespeare, William Wordsworth... একটু ভালো প্রস্তুতি সফলতা লাভের পূর্বশর্ত।
বাংলা মনে রাখুন ছন্দেও তালে তালে : বাংলা হতে পারে প্রিলিমিনারিতে টিকে থাকার অন্যতম মাধ্যম। বাংলা বিষয় দুটি ভাগে বিভক্ত। ভাষা (১৫) এবং সাহিত্য (২০)। ভাষা অংশের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রথম কাজ হল- বিগত সালে বিসিএস পরীক্ষার আসা প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পড়তে হবে। হাতের কাছে খাতা রাখতে হবে। যে টপিকগুলো কঠিন মনে হয় এবং বারবার পরীক্ষায় এসেছে সেগুলো খাতায় লিখে রাখতে হবে। পরে ব্যাকরণ বই থেকে ওই বিষয়গুলো ভালো করে বুঝে পড়তে হবে।
ভাষা অংশের জন্য সবচেয়ে সহায়ক বই হল নবম-দশম শ্রেণীর ব্যাকরণ বইটি। এই বই থেকে নিয়মের পাশাপাশি উদাহরণগুলো ভালো করে পড়তে হবে। গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণগুলো খাতায় লিখে রাখতে হবে। যাতে করে পরে নোট হিসেবে কাজে লাগানো যায়। কারণ বিভিন্ন নিয়মের চেয়ে উদাহরণ থেকে প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া ড. সৌমিত্র শেখরের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বইটি ভালো করে পড়তে পারেন।
ব্যাকরণের কিছু অংশ থেকে প্রায় প্রতিটি পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে। যেমন- শব্দের শ্রেণী বিভাগ, বানান, বাক্য, সন্ধি, সমাস, বিপরীত শব্দ, উপসর্গ, প্রবাদ-প্রবচন, বাগধারা। এগুলো ভালো করে পড়তে হবে। এর মধ্যে যেগুলো ব্যতিক্রম এবং বিশেষ নিয়মসিদ্ধ সেগুলো বেশি মনে রাখতে হবে। বিভিন্ন গুরুত্ব¡পূর্ণ বিষয়গুলো নিজের মতো করে বিভিন্ন ছন্দ বানিয়ে মনে রাখতে হবে।
সাহিত্য অংশের প্রস্তুতি নেয়া তুলনামূলক কঠিন। তবে একটি কথা মনে রাখতে হবে কোনো সহজ প্রশ্ন ভুল করা যাবে না। এখানে অনেক কবি-লেখক রয়েছে। তাদের লেখাও প্রচুর। তবে বারবার পড়লে অনেক তথ্য মনে থেকে যাবে। ফলে পরীক্ষার হলে যদি সরাসরি উত্তর মনে না থাকে তবে অন্য অপশন দেখে উত্তর মনে আসতে পারে।
আবার সব লেখকের সব লেখা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই একটু বেছে বেছে পড়া যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিকরা হলেন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, জীবনানন্দ দাশ, শামসুর রাহমান, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মাইকেল মধূসুদন দত্ত, জসীমউদ্দীন, সুফিয়া কামাল, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।
এই সাহিত্যিকদের লেখার সংখ্যা প্রচুর। তাই এগুলো মনে রাখার জন্য নিজের মতো করে ছন্দ বা গল্প তৈরি করে নিতে হবে। যাতে করে মনে রাখা যায়। তবে কিছু কিছু সাহিত্যিকের অনেকগুলো লেখার মধ্যে একটি বা দুটি লেখা বেশি পরিচিত।
সেক্ষেত্রে ওই লেখাটি ভালো করে মনে রাখতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে যে সব সাহিত্য রচিত হয়েছে সেগুলো মনে রাখতে হবে। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বইগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই অংশের জন্য ড. সৌমিত্র শেখরের বইটির পাশাপাশি ডাইজেস্ট ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সের বিশেষ সংখ্যাটি পড়া যেতে পারে। তবে পরীক্ষার আগে অবশ্যই জব সল্যুশন বইটি একবার পড়ে রাখা ভালো। এসব দিক মাথায় রেখে শেষ সময়ে গুছিয়ে প্রস্তুতি নিলে আশা করি প্রিলিমিনারিতে ভালো করতে পারবেন বন্ধুরা।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত