সাদ্দাম হোসেন ইমরান    |    
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
মাঠে আছে, গেটে নেই
বাণিজ্য মেলায় ভ্যাট ফাঁকির মহোৎসব

লোকবলের স্বল্পতা ও পর্যাপ্ত নজরজারির অভাবে প্রত্যাশার চেয়ে কম ভ্যাট আদায় হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায়। মেলার গেটে ভ্যাট কর্মকর্তাদের তদারকি না থাকায় বিক্রিত পণ্যের ভ্যাট চালান দেখাতে হচ্ছে না স্টল মালিক বা ক্রেতাদের। এ সুযোগে ভ্যাট ফাঁকির মহোৎসবে মেতে উঠেছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। তবে অনেক ব্যবসায়ী ভ্যাট পরিশোধ করছেন বলে দাবি করেন। কিন্তু তারা প্রকৃত বিক্রির উপর ভ্যাট দিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। দিন শেষে স্টল মালিকরা ভ্যাট হিসেবে যা দিচ্ছেন তা নিয়েই তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন বাণিজ্য মেলার তদারকির দায়িত্বে থাকা ভ্যাট কর্মকর্তারা। মেলা মাঠে তাদের উপস্থিতি থাকলেও গেটে ডিউটি পালন করতে দেখা যায়নি।

এবারের ২১তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ১৩টি ক্যাটাগরিতে মোট ৫৫৩টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন রয়েছে ৬০টি, জেনারেল প্যাভিলিয়ন ১০টি, রিজার্ভ প্যাভিলিয়ন ৩টি, বিদেশী প্যাভিলিয়ন ৩৮টি, প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন ৩৬টি, জেনারেল মিনি প্যাভিলিয়ন ১৩টি, রিজার্ভ মিনি প্যাভিলিয়ন ৬টি, ফুড স্টল ২৫টি ও রেস্টুরেন্ট ৫টি।

অংকের হিসাবে, এসব স্টলের প্রতিটিতে গড়ে প্রতিদিন ২০ হাজার টাকা বিক্রি হলে মোট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা। প্রকৃতপক্ষে পরিমাণ আরও অনেক বেশি। ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করা হলে নিয়মমাফিক প্রতিদিন গড়ে রাজস্ব আদায় হওয়ার কথা ১৬ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। যদিও মেলায় অংশ নেয়া স্টলগুলোর সব পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারিত নয়। এর মধ্যে ৫ শতাংশ, সাড়ে ৭ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপযোগ্য পণ্য রয়েছে। গড়ে সাড়ে ৭ শতাংশ হারে আদায় হলেও দিনে কমপক্ষে ৮ লাখ ২৯ হাজার টাকা আদায় হওয়ার কথা। অথচ মেলায় প্রতিদিন গড়ে ৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা করে ভ্যাট আদায় হচ্ছে বলে মেলার অস্থায়ী ভ্যাট কার্যালয় থেকে জানা গেছে। গত ২৭ দিনে আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। মেলার রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ তথ্য অনুযায়ী, ছোট স্টল মালিকরা গড়ে প্রতিদিন ১ হাজার টাকা করে ভ্যাট দিয়েছেন। আর প্যাভিলিয়গুলো গড়ে ৮ হাজার টাকা ভ্যাট দিয়েছে। শেষ দিকে বেচাবিক্রি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্যাভিলিয়নগুলোর ভ্যাট দেয়ার পরিমাণ বেড়েছে। আবার অনেক ছোট স্টল শুরুর দিকে ভ্যাট দিলেও পরে আর ভ্যাট দেননি। নিয়মানুযায়ী, বিক্রির পরের দিনই হিসাব করে ভ্যাট জমা দেয়ার কথা রয়েছে।

মেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ভ্যাট কর্মকর্তারা জানান, এত বড় মেলা তদারকির জন্য দুই শিফটে ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এদের ভাগ করে মেলার তদারকির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বর্তমানে মেলায় স্টল মালিকরা যে ভ্যাট দিচ্ছেন তা গ্রহণ করা হচ্ছে। মেলা শেষে প্রত্যয়নপত্র নেয়ার সময় তাদের দেয়া ভ্যাট যাচাই-বাছাই করা হবে। কোন স্টল মালিক ভ্যাট কম দিয়েছে মনে হলে তার বেচাবিক্রির অনুমান করে ভ্যাট দাবি করা হবে।

মেলা মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ভ্যাট কর্মকর্তারা শুধু অস্থায়ী কার্যালয়ে অবস্থান করছেন। মাঝে মধ্যে মেলা প্রাঙ্গণে স্টলে স্টলে ভ্যাটের তদারকি অভিযান পরিচালনা করছেন। কোনো স্টল ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে সন্দেহ হলে খাতাপত্র জব্দ করে নিয়ে আসছেন। এছাড়া সবাই ভ্যাট আদায়ের তদারকি বাদ দিয়ে যার যার নিজের কাজে ব্যস্ত। অথচ বিক্রিত মালামাল অনায়াসে গেট দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে চালান ছাড়াই। সেখানে ভ্যাটের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে রাখা হয়নি। অর্থাৎ বাণিজ্য মেলায় শুধু অনুমানের ওপর নির্ভর করে ভ্যাট আদায় চলছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্টল মালিকরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-কমিশনার রাকিবুল হাসান বলেন, ২৭ দিনে ভ্যাট আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ভ্যাট আদায়ে কর্মকর্তারা তৎপর রয়েছেন। গেটে তদারকির জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীকে রাখা হয়নি কেন জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত