• মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০
যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
হামলার বিষয়ে তথ্য দিচ্ছেন হাসনাত করিম
রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার বিষয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত রেজা করিম। রিমান্ডে থাকা হাসনাত করিম পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, হলি আর্টিজানে হামলার দিনক্ষণ নির্ধারণ করেন তিনি। ঘটনাস্থলে থাকা ও পুরো বিষয়টি মনিটরিংয়ের জন্য আগে থেকেই জন্মদিন পালনের নামে হলি আর্টিজানের দুটি টেবিল বুকিং দিয়েছিলেন। নিজেকে সন্দেহের ঊর্ধ্বে রাখতে ঘটনার কিছুক্ষণ আগে রাত ৮টার দিকে তিনি দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সেখানে হাজির হন। এ ঘটনায় করা মামলার তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, হাসনাত করিম জিজ্ঞাসাবাদের প্রথমদিকে মুখ না খুললেও ধীরে ধীরে তথ্য দিচ্ছেন। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গুলশান হামলার মূল পরিকল্পনাকারী বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম আহমেদ চৌধুরী। ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর দেশে ফিরেই তিনি নতুন ধারার একটি জঙ্গি সংগঠন তৈরির উদ্যোগ নেন। প্রথমদিকে হিজবুত তাহরীরের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করেন। সরকার হিজবুত তাহরীর নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর সংগঠনটির সদস্যদের নতুন করে সংগঠিত করতে থাকেন তামিম।
আট দিনের রিমান্ডে থাকা হাসনাত করিম তদন্ত সংশ্লিষ্টদের বলেন, একই সংগঠনের (হিজবুত তাহরীর) সদস্য হওয়ায় তামিমের সঙ্গে তার আগেই পরিচয় ছিল। মাঝেমধ্যেই তারা প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে কথা বলতেন। তামিম দেশে ফেরার পর দু’জন বেশ কয়েক দফা বৈঠক করেন। হলি আর্টিজানে হামলার সার্বিক খরচও বহন করেন তামিম। হাসনাত করিম জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, ১ জুলাই গুলশানে হামলার আগে তিনি তামিম চৌধুরী ছাড়া হামলাকারীদের কাউকেই চিনতেন না। ঘটনার রাতে তামিম হলি আর্টিজান বেকারির সামনে হামলাকারীদের রিসিভ করেন। পরে তিনি অজ্ঞাত স্থানে চলে যান।
হাসনাত করিম আরও বলেছেন, হামলায় অংশ নেয়া প্রত্যেককেই মোটা অংকের অর্থ দেন তামিম চৌধুরী। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ও একটি জঙ্গি সংগঠনের কাছ থেকে তামিম বড় অংকের তহবিল সংগ্রহ করেছেন বলে তিনি শুনেছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা হাসনাত করিমের দেয়া এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করছেন।
হলি আর্টিজানে হামলার রাতে তার দায়িত্ব ছিল দেশী-বিদেশী নাগরিকদের জিম্মি করে হত্যার ভিডিওচিত্র ধারণ ও মোবাইলের বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করে সেটি দেশের বাইরে পাঠানো- জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্যই জানিয়েছেন হাসনাত রেজা করিম। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি যেসব তথ্য দিচ্ছেন তাতে তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে।
গত ১ জুলাই রাতে রাজধানীর কূটনৈতিক জোন গুলশানের ২ নম্বর সার্কেলের ৭৯ নম্বর সড়কে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে দুই পুলিশ সদস্য, ১৭ বিদেশী নাগরিক ও তিন বাংলাদেশী নিহত হন। বিদেশী নাগরিকদের মধ্যে ৯ জন ইতালির, ৭ জন জাপানের ও একজন ভারতের। পরে সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত কমান্ডো অভিযানে ছয় জঙ্গি নিহত হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। ওই অভিযানে জীবিত উদ্ধার করা হয় তিন বিদেশী নাগরিকসহ ১৩ জিম্মিকে। এর মধ্যে হাসনাত রেজা করিম ও তামিম আহমেদ চৌধুরীও ছিলেন।
ওই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে হাসনাত রেজা করিম ও তাহমিদ হাসিব খানকে প্রায় এক মাস পর বৃহস্পতিবার ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। আদালত ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত