• শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০
যুগান্তর ডেস্ক    |    
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ফেরি সীমিত আকারে চালু
শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দিতে যানবাহনের চাপ বাড়ছে
তীব্র স্রোত আর ঘাট ভেঙে যাওয়ায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ফেরি চলাচল প্রায় বন্ধ। ফেরি পারাপারের বাসে এলেও অনেক দূরে নামিয়ে দেয়ায় হেঁটে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে যাচ্ছেন দুই যাত্রী -যুগান্তর

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরি সার্ভিস এখনও স্বাভাবিক হয়ে উঠেনি। শুধু ৩ নম্বর ঘাট ‘লাইফ সাপোর্ট’ দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। তা দিয়ে সীমিত আকারে ছোট ফেরি দিয়ে অত্যাবশ্যকীয় অ্যাম্বুলেন্সসহ ব্যক্তিগত কিছু গাড়ি পারাপার করা হচ্ছে। দু’দিনে ফেরি কর্তৃপক্ষ প্রায় কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুট দিয়ে সীমিত আকারে যানবাহন পারাপার করায় শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি রুটে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। পরিবহন মালিকদের বঙ্গবন্ধু সেতু ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। যুগান্তর প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

মানিকগঞ্জ ও গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : রোবরাব সকালে দৌলতদিয়ার শেষ ঘাটটি পদ্মার থাবায় লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। ফলে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া পুরো ফেরি সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ফেরিঘাট রক্ষার নামে বন্দর রক্ষণাবেক্ষণ ও ফেরিঘাট নির্মাণ এবং মেরামতের দায়িত্বে থাকা অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) প্রকৌশল বিভাগ প্রায় দেড় কোটি টাকা পদ্মায় ঢেলেছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

রোববার সকাল ৯টা থেকে এ রুটের দৌলতদিয়া প্রান্তের ফেরিঘাট পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। বিকল্প ব্যবস্থায় ফেরি চলাচলের ব্যবস্থায় ব্যর্থ হয়ে বাধ্য হয়েই ফেরি চলাচল আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেয় ফেরি কর্তৃপক্ষ।

অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা ফেরি সেক্টরের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শেখ মোহাম্মদ নাসিম জানান, আজ (মঙ্গলবার) নাগাদ ফেরি চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে লক্ষ্যে দৌলতদিয়া প্রান্তে ফেরিঘাট নির্মাণের সর্বাÍক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, ফেরি সার্ভিস বিপর্যয় ঘটার কারণে তাদের রাজস্ব সর্বনিু পর্যায়ে নেমে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটটি ‘লাইফ সাপোর্ট’ দিয়ে কোনো রকমে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। তা দিয়ে সীমিত আকারে ছোট ফেরিতে অত্যাবশ্যকীয় অ্যাম্বুলেন্সসহ ব্যক্তিগত ছোট প্রাইভেটকার পারাপার করা হচ্ছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় মাত্র দুইশ’র মতো এসব ছোট গাড়ি পারাপার করা হয়েছে।

ফেরি সেক্টরের ওই সংশ্লিষ্ট সূত্রটি আরও নিশ্চিত করেছে, আকস্মিকভাবে ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকায় এ রুট ব্যবহারকারী হাজার হাজার যানবাহন ভিন্নরুট ব্যবহার করায় ফেরি কর্তৃপক্ষের কম করে হলেও দু’দিনে কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

একটি সূত্র জানায়, বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশল বিভাগ প্রায় দেড় কোটি টাকা পদ্মায় ঢেলেছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ওই সংস্থাটি যদি আগে থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নিত তাহলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ ফেরি সেক্টর বন্ধ হতো না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বন্যার শুরুর আগ থেকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট পয়েন্টসহ পাশের এলাকা ব্যাপক নদী ভাঙনের কবলে পরে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ভাঙনরোধ করার চেষ্টা চালায়। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ ভাঙন যে এতো রুদ্ররূপ আকার করবে তা আঁচ করতে পারেনি।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা ফেরি সেক্টরের ম্যানেজার (মেরিন) মো. আবদুস সোবহান যুগান্তরকে জানান, ঘাটের সার্বিক অবস্থা জানিয়ে ঘাট মেরামত ও নির্মাণের দায়িত্বে থাকা বিআইডব্লিউটিএ’র প্রকৌশল বিভাগ দফায় দফায় চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল। কিন্তু ঘাটের শেষ রক্ষা হয়নি।

বিআইডব্লিউটিএ’র প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নিজামউদ্দিন পাঠান জানান, তাদের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে ঘাট রক্ষার সার্বাত্মক প্রচেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রকৃতির কাছে তাদের সব প্রতিরোধের চেষ্টা বৃথা হয়ে যায়। এরই মধ্যে তারা ফেরিঘাট পুনঃস্থাপনের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিআইডব্লিউটিসি আরিচা ফেরি সেক্টরের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শেখ মোহাম্মদ নাসিম জানান, ফেরি সার্ভিস পুরোপুরি চালু হতে আরও অন্তত একদিন সময় লাগতে পারে। তিনি জানান, ইতিমধ্যে এই ফেরি সার্ভিস ব্যবহারকারী পরিবহন মালিকদের বঙ্গবন্ধু সেতু ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এখনও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি পারাপারের জন্য আসা কয়েকশ’ বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক অপেক্ষায় রয়েছে। আটকে থাকা ওইসব পরিবহনের চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন যদি তারা যমুনা সেতু দিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যায় তাহলে যে ডেমারেজ গুণতে হচ্ছে তা আরও দ্বিগুণ ক্ষতি হবে। মালিকদের সঙ্গে কথা বলে তারা এখনও ফেরি চলাচলের আশায় অপেক্ষা করছেন।

মাদারীপুর ও শিবচর : পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুট বন্ধ থাকায় শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌপথে যানাবহনের চাপ বেড়েছে। পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত অব্যাহত থাকায় ও দ্রুত পানি কমে নাব্য সংকট দেখা দেয়ায় যানবাহনের বাড়তি চাপ নিতে পারছে না এ নৌপথটা। সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উভয় ঘাটে আড়াই শতাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় ছিল।

কাওড়াকান্দি ঘাটের ব্যবস্থাপক আবদুস সালাম মিয়া জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে যানবাহন পারাপারে অচলাবস্থার কারণে কাওড়াকান্দি নৌপথে যানবাহনের চাপ অধিক হারে বেড়ে গেছে। এছাড়া মূল পদ্মার মুখে হাজরা টার্নিং পয়েন্টে নাব্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে ফেরিগুলো পুরোপুরি লোড করে চলাচল করতে পারছে। এর ওপর আবার পদ্মায় তীব্র স্রোতে ফেরি চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত