• শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০
হামিদ-উজ-জামান    |    
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
মেয়াদ বৃদ্ধির জটিলতা
সংশয়ে ২৮০ উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যয়
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত ২৮০ প্রকল্প নিয়ে বিপাকে পরিকল্পনা কমিশন। নানা জটিলতায় প্রকল্পগুলোর জন্য বরাদ্দ অর্থ ব্যয় করা যাচ্ছে না। বন্ধ রয়েছে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নও। এর মধ্যে ২১৭টি প্রকল্পের অনুমোদন থাকলেও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়েছে। এখন নতুন করে মেয়াদ বৃদ্ধিসহ প্রকল্প সংশোধন করা না হলে বরাদ্দ অর্থ ব্যয় করা যাচ্ছে না বলে স্বীকার করেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া ৬৩টি প্রকল্প সংশোধিত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব প্রকল্প চলতি মাস ও সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশোধনের বাধ্যবাধকতা আছে। এ অবস্থায় করণীয় ঠিক করতে পারছে না পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা সচিব তারিক-উল-ইসলাম সোমবার যুগান্তরকে বলেন, এসব প্রকল্পের দ্রুত মেয়াদ বৃদ্ধি ও সংশোধন প্রক্রিয়া সমাপ্ত করার জন্য তাগাদা দেয়া হচ্ছে। তবে একটু সময় লাগলেও শেষ পর্যন্ত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। ডেডলাইন পেরিয়ে গেলে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সদ্য সমাপ্ত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২১৭টি প্রকল্পের যথাসময়ে মেয়াদ বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এ অবস্থায় বাস্তবায়নের স্বার্থে মেয়াদোত্তীর্ণ এসব প্রকল্প তারকা চিহ্ন দিয়ে চলতি অর্থবছরের (২০১৬-১৭) এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু শর্ত ছিল, মেয়াদ বৃদ্ধি ছাড়া এসব প্রকল্পে অর্থছাড় ও ব্যয় করা যাবে না। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আগস্ট মাসের মধ্যেই মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা বাস্তবায়নকারী সংস্থার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। বলা হয়েছিল, পরিকল্পনা, শৃংখলা ও বাজেট ব্যবস্থাপনার স্বার্থে আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ কোনো প্রকল্প এডিপিতে যুক্ত করা হবে না। সেক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ২০০৮ সালে জারি করা পরিকল্পনা বিভাগের পরিপত্র অনুসারে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩ মাস আগে মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব করবে।
সূত্র জানায়, এ ধরনের প্রস্তাব পেলে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) অথবা পরিকল্পনা কমিশন পরিপত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব নিষ্পন্ন করবে। কিন্তু আগস্ট মাসের ৮ তারিখ পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ প্রকল্পেরই এখনও মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়নি। এ কারণে অর্থবছরের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও অর্থও ব্যয় করা যাচ্ছে না এসব প্রকল্পে।
অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দসহ ৬৩টি প্রকল্প সংশোধিত অনুমোদনহীন অবস্থায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় ও বাস্তবায়ন সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদনের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। এ অবস্থায় আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেইএসব প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা উচিত বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন। কিন্তু সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। এ কারণে ২৮০টি প্রকল্পের মধ্যে অধিকাংশেরই বাস্তবায়ন এখন বন্ধ অবস্থায় রয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশংকা রয়েছে মোট এডিপি বাস্তবায়নের ওপর।
সংশোধিত অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা ৬৩ প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, আপগ্রেডেশন অব খুলনা ১৫০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্লান্ট টু ২২৫ মেগাওয়াট সিসিপিপি প্রকল্প, অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) শিল্প পার্ক (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ সড়ক উন্নয়ন (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প, প্রিপারেশন অব ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান ফর বেনাপোল-যশোর হাইওয়ে করিডর, গ্রামীণ গৃহায়নে ফেরোসিমেন্ট প্রযুক্তির প্রয়োগ, টেকনাফ-রামু-গ্যারিসন মরিচ্যা-পালং সংযোগ সড়ক নির্মাণ, ইটনা-বড়ইবাড়ী-চামড়াঘাট সড়ক উন্নয়ন, ইটের বিকল্প উদ্ভাবন ও উন্নয়ন, মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ-লালমাটিয়া মহিলা কলেজ ও আগারগাঁও তালতলা সরকারি কলোনি স্কুল অ্যান্ড কলেজ উন্নয়ন, শেখ হাসিনা একাডেমি অ্যান্ড উইমেন্স কলেজ, পাইকগাছা কৃষি কলেজ স্থাপন প্রকল্প, স্ট্রেনদেনিং রিজিওনাল কো-অপারেশন ফর ওয়াইল্ড লাইফ প্রটেকশন, পাবনা-নাটোর-সিরাজগঞ্জ ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্প ইত্যাদি।
এছাড়া ২১৭ প্রকল্পের তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প (দ্বিতীয় সংশোধিত)। বিএআরআইয়ের গবেষণা অবকাঠামো উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প। সার পরীক্ষাগার ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত)। কনস্ট্রাকশন অব মাল্টিস্টোরেড ওয়ার হাউস অ্যাট সান্তাহার গ্রেইন সাইলো। কনস্ট্রাকশন অব ১.০৫ মেট্রিক টন ক্যাপাসিটি নিউ ফুড গোডাউন্স (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প। স্ট্রেনদেনিং গভর্নেন্স ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট (কম্পোনেন্ট-বি) : ডিজিটাল ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ ও রেকর্ড প্রণয়ন এবং সংরক্ষণ (প্রথম পর্যায়)। আনোয়ারা-২ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ (চাইনিজ অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল) শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট ডুয়েল ফুয়েল কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণ। কনস্ট্রাকশন অব বিবিয়ানা-তিন ৪০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট। ১৩২ গ্রিড নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ইন ইস্টার্ন রিজিয়ন এবং কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড এক্সপানশন অব ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক অব নর্থ অ্যান্ড সাউথ জোন আন্ডার ডিপিডিসি প্রজেক্ট এবং ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাসস্থান নির্মাণ প্রকল্প।
পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দারিদ্র্য নিরসন ও জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা। সরকারের উন্নয়ন রূপকল্প-২০২১-এর অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০১০-২০২১ প্রণয়ন করা হয়, যা ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১১-১৫) এবং সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১৬-২১)-এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসব পরিকল্পনার উন্নয়ন কৌশলের আলোকে গৃহীত অর্থনৈতিক খাতভিত্তিক উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অর্জনের প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে এডিপি। আর এডিপির প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে প্রকল্প। প্রকল্পের বাস্তবায়ন যদি সঠিকভাবে না হয় তাহলে পুরো উন্নয়ন প্রক্রিয়াই বাধাগ্রস্ত হয়।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত