বাসস    |    
প্রকাশ : ১১ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
সচিবালয়ে রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন
বঙ্গবন্ধু ও শহীদের ঋণ শোধ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
জাতির পিতা আমাদেরকে রক্তঋণে আবদ্ধ করে গেছেন
বঙ্গবন্ধুর ৪১তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে সচিবালয়ে বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আয়োজিত স্বেচ্ছা রক্তদান কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -যুগান্তর

সরকারি কর্মচারীদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার মাধ্যমেই তার এবং ৩০ লাখ শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে। জাতির পিতা আমাদের রক্তঋণে আবদ্ধ করে গেছেন, লাখো শহীদ আমাদের রক্তঋণে আবদ্ধ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বুধবার সকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে সচিবালয়ে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা জনগণের সেবক, জনগণের সেবা করব। জনগণের রক্ত-ঘামঝরা অর্থ দিয়েই তো আমাদের বেতন-ভাতা, আমাদের সবকিছু। এ কথাটা এক মুহূর্তের জন্যও যেন আমরা না ভুলে যাই।

প্রধানমন্ত্রী স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি সম্পর্কে বলেন, এ উদ্যোগের মতো মহৎ আর কিছু হতে পারে না। তাদের রক্তের ঋণ আমাদের শোধ করতে হবে। আপনারাও রক্ত দিয়ে মানুষের জীবন বাঁচান, মানুষের পাশে দাঁড়ান। জনগণের সেবা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের সেবার মতো শান্তি দুনিয়ায় আর কিছুতে নেই। কোনোদিন গরিব-দুঃখীর ওপর অত্যাচার করবেন না। তিনি বলেন, আজ আপনারা একটি মহৎ কাজ করতে যাচ্ছেন- রক্তদান। একজন রক্ত দেবেন আর একটি মানুষের জীবন বাঁচাবেন। রক্ত দিলে কোনো ক্ষতি না হয়ে শরীরের জন্য উপকার উল্লেখ করে বলেন, নিয়মিত রক্ত দিলে শরীরে নতুন রক্তকণিকা জন্মে এবং শরীর ভালো থাকে।

প্রধানমন্ত্রী নিজেও ৫৬-৫৭ বছর বয়স পর্যন্ত নিয়মিত রক্ত দিতেন উল্লেখ করে বলেন, তিনি দেশে ফেরার পর থেকে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে প্রতি বছর আয়োজিত রক্তদান কর্মসূচিতে নিজেও রক্ত দিয়েছেন। এখন বয়স হয়ে যাওয়ায় ইচ্ছে থাকলেও আর দিতে পারেন না। রক্ত দেয়ার যদি ক্ষমতা থাকত তাহলে আমি এখনও রক্ত দিতে প্রস্তুত।

প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার একটি ভাষণের উদ্ধৃতি দেন, ‘সরকারের সব সরকারি কর্মচারীকেই আমি অনুরোধ করি, যাদের অর্থে আমাদের সংসার চলে তাদের সেবা করুন। যাদের জন্য, যাদের অর্র্থে আজকে আমরা চলছি তাদের যেন কষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। যারা অন্যায় করবে আপনারা তাদের অবশ্যই কঠোর হস্তে দমন করবেন। কিন্তু সাবধান, একটি নিরপরাধ লোকের ওপরও যেন অত্যাচার না হয় তাতে আল্লাহর আরশ পর্যন্ত কেঁপে উঠবে। আপনারা সেদিকে খেয়াল রাখবেন। আপনারা যদি অত্যাচার করেন তাহলে শেষ পর্যন্ত আমাকেও সেজন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। কারণ আমি আপনাদের জাতির পিতা, আমি আপনাদের প্রধানমন্ত্রী, আমি আপনাদের নেতা। আমারও সেখানে দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের প্রত্যেকটি কাজের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত আমার ঘাড়ে চাপে, আমার সহকর্মীদের ঘাড়ে চাপে। এজন্য আপনাদের কাছে আমার আবেদন রইল, আমার অনুরোধ রইল, আমার আদেশ রইল- আপনারা মানুষের সেবা করুন। মানুষের সেবার মতো শান্তি দুনিয়ায় আর কিছুতে নেই, আর কিছুতে হয় না। একজন গরিব যদি হাত তুলে দোয়া করে আল্লাহ সেটা কবুল করে নেন। এজন্য কোনোদিন কোনো গরিব-দুঃখীর ওপর অত্যাচার যেন হয়, যদি হয় তাহলে আমাদের স্বাধীনতা বৃথা হয়ে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার এই মহামূল্যবান কথাগুলো আমি মনে করি আমরা যারা দায়িত্বে আছি সবারই মনে রাখা উচিত। তিনি বলেন, এদেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে গিয়েই জাতির পিতা জীবন দিয়ে গেছেন। এই ওয়াদা তিনি ৭ মার্চের ভাষণসহ বহু জায়গায় করেছেন এবং জীবন দিয়ে, রক্ত দিয়ে সেই ওয়াদাই তিনি পালন করে গেছেন। সরকার গঠনের সময় বলেছি, আমরা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করব। আমাদেও চেষ্টা মানুষের কল্যাণে কাজ করা, দেশের উন্নয়নে কাজ করা- উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা জনগণের সেবক, জনগণের সেবা করব। জনগণের রক্ত-ঘামঝরা অর্থ দিয়েই তো আমাদের বেতন-ভাতা, আমাদের সবকিছু। এ কথাটা এক মুহূর্তের জন্যও যেন আমরা ভুলে না যাই।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য এবং সংসদ সদস্যসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছিলেন। যুদ্ধজয়ের পর মাত্র তিন মাসের মধ্যে ভারতের সৈন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ সময় তিনি বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে সম্মিলিত যুদ্ধজয়ের পর মিত্রবাহিনী দেশে থেকে যাওয়ার নজির উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাত্তরের আগে তৎকালীন পূর্ববঙ্গে বাঙালির কোনো অধিকার ছিল না। বঙ্গবন্ধু সব সময় বাঙালির অধিকার আদায়ের কথা বলেছেন। সে কারণে তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে, তাকে ফাঁসি পর্যন্ত দেয়ার চেষ্টা হয়েছিল। রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেয়ার পরও তিনি সব সময় ন্যায্য অধিকারের কথা বলেছেন। তিনি ১৯৫৬ সালের ৯ জানুয়ারি পাকিস্তানের ডন পত্রিকায় প্রকাশিত কর্মক্ষেত্রে পূর্ববাংলা এবং পশ্চিম পাকিস্তানের জাতিগত বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, যেসব আন্তর্জাতিক শক্তি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, পরে তাদের ষড়যন্ত্রেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। আমার মা ফজিলাতুন্নেছা, আমার ভাই শেখ কামাল, শেখ জামাল, ছোট্ট রাসেলকেও তারা হত্যা করেছিল। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জিয়াউর রহমানের ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের পথ রুদ্ধ করে তাদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিল। দেশের কারাগারে আটক বিচারাধীন যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দিয়ে তাদের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের তীব্র সমালোচনা করেন।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের বিয়োগান্তক অধ্যায়ের স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের এই কষ্ট, দুঃখ, ব্যথা-বেদনা ভুলেও দেশের জন্য, মানুষের জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছি- এখানে আপনাদের সহযোগিতা সব সময় কামনা করি। দেশের সেবা করা যে কোনো সরকারি কর্মচারীদের একান্তভাবে দায়িত্ব।

উদ্বোধনী পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী রক্তদান কর্মসূচি ঘুরে দেখেন এবং স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। স্বেচ্ছায় রক্তদানের জন্য সচিবালয়ের ৪২২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী তালিকাভুক্ত হন।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত