মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নু    |    
প্রকাশ : ১১ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
পরিধি বাড়ছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের
যুক্ত হচ্ছে আধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম : নেতৃত্বে আসছেন অতিরিক্ত আইজিপি
পরিধি বাড়ছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের। বাড়তি জনবলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম। পুলিশের বিশেষ এ সংস্থার নেতৃত্বে আসছেন একজন অতিরিক্ত আইজি। রাজধানীর বাইরে আপাতত প্রতিটি বিভাগে সংস্থাটির অফিস স্থাপন করা হচ্ছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনকে প্রাধান্য দিয়ে চলতি বছরের ফেব্র“য়ারিতে গঠিত হয় কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটি)। ডিআইজি মো. মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে সংস্থাটি কাজ শুরু করে। তবে এরই মধ্যে রাজধানী ছাড়াও দেশের কয়েকটি স্থানে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গিগোষ্ঠীর অপতৎপরতাও বেড়ে যাওয়ায় সংস্থাটির কার্যক্রম সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ সদর দফতর। একই সঙ্গে সংস্থাটির সদস্যদের তথ্য-প্রযুক্তিতেও উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সদর দফতর থেকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে এর আগেই প্রাথমিক আলোচনায় সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সাড়া মিলেছে। আর ওই সাড়া পেয়ে দ্রুতগতিতে কাজ শুরু করেছে পুলিশ সদর দফতর। ইতিমধ্যে পুলিশের চৌকস কর্মকর্তাদের বাছাইয়ের কাজ চলছে। শিগগিরই এসব কর্মকর্তার উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল যুগান্তরকে বলেছেন, শুধু আমাদের দেশ নয়, জঙ্গিবাদ এখন বৈশ্বিক সমস্যা। এটিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। বর্তমান সরকার জঙ্গিবাদ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করেছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে যা কিছু করা দরকার তার সবই সরকার করবে। জঙ্গিবাদ দমনে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের জনবল ও সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে বলে তিনি যুগান্তরকে জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় টুইন টাওয়ারে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গি তৎপরতা দমনে বিশেষায়িত বাহিনী গঠন করা হয়। ওই সময় বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্রম বিস্তৃত হলে জাতিসংঘ এ দেশেও পুলিশ বিভাগে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের আদলে একটি বিশেষ ইউনিট গঠনের তাগিদ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন সরকার কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেয়। সে সময় বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বিদেশে নিয়ে প্রশিক্ষণও দেয়া হয়। তবে ওই সময় ইউনিটটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আবার এ ধরনের একটি ইউনিট গঠনের বিষয় ফের সামনে আসে। এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দফতরের পক্ষ থেকে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয় ২০১১ সালের এপ্রিলে। রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের এক সেমিনারে তৎকালীন অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) ও বর্তমান আইজিপি একেএম শহীদুল হক জঙ্গি ও চরমপন্থী দমনে ন্যাশনাল পুলিশ ব্যুরো অব কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট নামে পৃথক একটি ইউনিট চালু করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব করেন। এর পরেও কেটে যায় আরও ৯ বছর।
পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেছেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের এ ইউনিটে অত্যাধুনিক অস্ত্র, নিরাপত্তা সামগ্রী ও উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি দেয়া হবে। ইউনিটের সদস্যদের দক্ষতা বাড়াতে দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ দেয়ারও পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ধাপে ধাপে এ ইউনিটের সদস্যদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের জন্য তিন হাজার পদ সৃষ্টির একটি প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয় তা কমিয়ে এক হাজার নির্ধারণ করে। সেই এক হাজার পদ সৃষ্টি করা হলেও পুলিশের নতুন ইউনিট গঠনের কাজে গতি আসছিল না। সর্বশেষ ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে পেট্রলবোমা সন্ত্রাসের পর সরকার বিষয়টি নিয়ে আবারও চিন্তাভাবনা শুরু করে। সর্বশেষ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ প্রস্তাবনার অনুমোদন দেয়া হয়।
নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অবশেষে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীনে ক্ষুদ্র পরিসরে যাত্রা শুরু করে বিশেষায়িত এ টিম। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে এই ইউনিটের প্রধান করা হয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলামকে। একজন অতিরিক্ত ডিআইজি, ৪ জন উপ-কমিশনার (ডিসি), ১০ জন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি), ২০ জন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) এবং ৪০ জন ইন্সপেক্টর নিয়ে যাত্রা শুরু হয়। নতুন এ সংস্থাটি কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ, সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগ, ক্রাইমসিন ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগে বিভক্ত হয়ে বর্তমানে কাজ করছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটি)।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) দিদার আহমেদ যুগান্তরকে বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বেড়ে যাওয়ায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।
একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কার্যক্রম সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া হবে। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের কাজ চলছে বলে তিনি জানান। খুব শিগগরি পুলিশের বিশেষ এ সংস্থাটির পরিধি বাড়বে বলে তিনি জানান।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত