হামিদ বিশ্বাস    |    
প্রকাশ : ১১ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
শর্ত পরিবর্তন করে ডেপুটি গভর্নর নিয়োগের উদ্যোগ
শর্ত পরিবর্তন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর (ডিজি) নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ব্যক্তিবিশেষকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজি পদে নিয়োগ দিতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বিশেষ পরিবর্তন আনার অভিযোগ উঠেছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বুধবার যুগান্তরকে বলেন, একজন বিশেষ ব্যক্তিকে ডেপুটি গভর্নর পদে নিয়োগ দেয়ার জন্য নতুন প্রজ্ঞাপনে দুটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে
আবেদনের সময় ১ জুন থেকে বাড়িয়ে ১ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ১ জুনে যাদের বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হয়েছে তারা আর আবেদন করতে পারেননি। এছাড়া নতুন শর্তে ডিজি হতে অনার্স ডিগ্রির প্রয়োজন হবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অপর এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, পূর্ব থেকে ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকে কাজ করা কঠিন। সবকিছু চাপিয়ে দিলে হয় না। তাছাড়া ব্যাংকের কর্মকর্তারা হলেন সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী। ডিজি কম যোগ্যতাসম্পন্ন হলে তাতে একটা বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। ১৯ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজি পদে নিয়োগ দিতে দ্বিতীয় দফায় প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এতে আগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে দেয়া দুটি শর্ত বাতিল ও বয়স নির্ধারণে নতুন শর্ত দেয়া হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপনে ব্যাংকিং ক্যারিয়ারের বিকল্প হিসেবে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা থাকা সম্পন্ন প্রার্থীরাও ডিজি পদে আবেদন করতে পারবেন বলে শর্ত জুড়ে দেয়া হয়। আগের বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যাতা হিসেবে অনার্সসহ মাস্টার্স চাওয়া হয়েছিল।
এবার শুধু মাস্টার্স চাওয়া হয়েছে। সে হিসেবে ডিগ্রি (পাস) কোর্স সম্পন্ন করা প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। প্রার্থীর বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ বছর, যা আগে শুধু সর্বোচ্চ ৬০ বছর বয়স ঠিক করা ছিল। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে ডিজি পদে আবেদনকারীর যোগ্যতার শর্তে বলা হয়েছে, দেশ বা বিদেশের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে। অনার্স ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক নয়। আইটি খাতে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা থাকলে তা অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। দ্বিতীয় শর্তে বলা হয়েছে, প্রার্থীর দেশে বা বিদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা বাণিজ্যিক ব্যাংক অথবা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শীর্ষপর্যায়ে কমপক্ষে ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পেশাগত যোগ্যতায় এতটুকুই বলা হয়েছিল আগের বিজ্ঞপ্তিতে। বিকল্প হিসেবে এবার যুক্ত করা হয়েছে, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসনিক পর্যায়ে অভিজ্ঞাতার বিষয়টি। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির ব্যাংকিং বিষয়ে অভিজ্ঞতা না থাকলেও শুধু ২৫ বছরের প্রশাসনিক পর্যায়ে কর্মকর্তা হিসেবে দেশে বা বিদেশে চাকরি করলেই তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজি হতে পারবেন। এছাড়া প্রার্থীকে অবশ্যই কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আর্থিক বাজার বিষয়ে থিউরিটিক্যাল ও প্র্যাকটিক্যাল অভিজ্ঞতা এবং বিশ্লেষণী ক্ষমতা থাকতে হবে। ১ জুলাই ২০১৬তে প্রার্থীর বয়স হতে হবে ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। ডিজি হিসেবে সরকারের নির্ধারণ করা মেয়াদে (৬২ বছর পর্যন্ত) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হবে। সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হারে বেতনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদনপত্রসহ জীবনবৃত্তান্তের প্রিন্ট কপি ও সফট কপি ইমেইলের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠাতে হবে। প্রার্থীদের আবেদনের সময় ১০ আগস্ট বিকাল ৫টার মধ্যে শেষ হয়েছে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চুরির ঘটনায় ১৫ মার্চ গভর্নরের পদ থেকে পদত্যাগ করেন ড. আতিউর রহমান। সেদিনই বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর-১ (ডিজি) আবুল কাসেম ও ডিজি-৪ নাজনীন সুলতানাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় সরকার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে সাবেক সচিব ফজলে কবিরকে নিয়োগ দেয়ার পরেই ডিজি নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠন করে সরকার। এজন্য ৫ সদস্যবিশিষ্ট সার্চ কমিটির প্রধান করা হয় অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদকে। কমিটির অন্য সদস্যরা ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব গকুল চাঁদ দাস, বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. কেএএস মুর্শিদ, অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত। ডেপুটি গভর্নর নিয়োগে ২৭ মার্চ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। ১৩ এপ্রিলের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাসহ প্রায় ৬০ জন এ পদের জন্য আবেদন করেন। আবেদনপত্র বাছাই করে দুই দিনে ২১ জন প্রার্থীকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়। এর মধ্যে ৩ জন সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণ করেননি। ১৮ জনের মধ্য থেকে ডিজি নিয়োগে তিনজনের ব্যাপারে সুপারিশ করে সার্চ কমিটি। তাদের ব্যাপারে আপত্তি উঠলে সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া পরে বাতিল করা হয়।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত