যুগান্তর ডেস্ক    |    
প্রকাশ : ১১ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
অবিরাম বৃষ্টি দক্ষিণের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
বাগেরহাট ও মহেশখালীতে দু’জনের মৃত্যু
মৌসুমি নিম্নচাপের কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভারি বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ায় নদ-নদীর পানি বেড়েছে। এর সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের বন্যার পানি ধেয়ে আসছে দক্ষিণের উপকূলে। ফলে পাহাড় ধস ও বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। সমুদ্রবন্দরগুলোকে তিন নম্বর সতর্কতা সংকেত বহাল রেখেছে আবহাওয়া অফিস। কক্সবাজারের মহেশখালীতে পাহাড় ধসে এক শিশু এবং বাগেরহাটে গাছ উপড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। টেকনাফে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন এক জেলে।
আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় অঞ্চল ও বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি উত্তর-পূর্বদিকে অগ্রসর হয়েছে। নিম্নচাপটি বুধবার সকাল থেকে খুলনা অঞ্চল ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করে। এটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। নিম্নচাপের প্রভাবে খুলনা, বাগেরহাট, মংলাসহ অন্য এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় অধিক উচ্চতার জোয়ার হতে পারে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
বাগেরহাট ও মংলা : মংলা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সংকেত বহাল রয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার পর্যন্ত বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া বইতে থাকায় মংলা বন্দরে পণ্য উঠা-নামা বন্ধ রয়েছে। মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী ব্যবস্থাপক কাজী মোক্তাদির হোসেন বলেন, মংলা বন্দরে বর্তমানে সাতটি জাহাজ রয়েছে। বুধবার সকালে বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো বাতাসে গাছ পড়ে গীতা দত্ত নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। জেলার সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের চুলকাঠি বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গীতা দত্ত কররী গ্রামের মৃত গোবিন্দ দত্তের স্ত্রী। থেমে থেমে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারি বর্ষণে জেলার নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী অসংখ্য মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। আনেক স্থানে গাছপালা উপড়ে যাওয়াসহ অর্ধশতাধিক কাঁচাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ লাইনের উপর গাছ পড়ে বিচ্ছিন্ন থাকায় বুধবার বিকাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়নি। জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ক্ষয়ক্ষতি রোধে সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া গাছ চাপায় নিহত নারীর পরিবারকে আর্থিক সহয়তা দেয়া হবে। জেলা কালেক্টরেট ভবনের ৩টি ব্লকের ৬টি কক্ষে পানি পড়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
মহেশখালী ও টেকনাফ (কক্সবাজার) : কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে পাহাড় ধস ও বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। মহেশখালীতে পাহাড় ধসে মারা গেছে এক কিশোর। উপজেলার কালারমার ছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বরাত দিয়ে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবুল কালাম জানান, বেলা ১১টার দিকে কালারমার ছড়া ইউনিয়নের মাইজ পাড়ায় পাহাড় ধসে মোহাম্মদ কাউছার নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। কাউছার ওই এলাকার আবু সিদ্দিকের ছেলে। বৃষ্টিপাত, পাহাড় ধসে নিুাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় জরুরি কট্রোল রুম খুলেছে উপজেলা প্রশাসন। কট্রোল রুমের ফোন নম্বর- ০১৭৩৩-৩৭৩২২৯, ০১৭৩৩-৩৭৩২০৯, ০১৯১৩-২৬৯৩৪৩। আবহাওয়ার সংকেত উপেক্ষা করে বঙ্গোপসাগরের মাছ শিকারে গিয়ে এক জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ জেলে হচ্ছেন টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের আজিম উল্লাহ ফকিরের ছেলে মোহাম্মদ সাইদ।
বরিশাল : কীর্তনখোলাসহ বিভিন্ন নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো বাতাসের কারণে নদী উত্তাল রয়েছে। স্রোত ও টেউয়ের কারণে নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা আতংকে রয়েছেন। বুধবার সকাল থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ২২ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বিকাল ৩টার পর বৃষ্টির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে বাতাসের গতি বেড়েছে।
যশোর, বেনাপোল ও অভয়নগর : শহর ও গ্রামাঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাতে সড়ক, ফসল, পুকুর, মাছের ঘেরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তলিয়ে গেছে শহরের নিুাঞ্চল। অনেক রাস্তায় হাঁটুপানি জমেছে। কোথাও কোথাও বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়েছে পানি। এতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন মানুষ। যশোর বিমানবাহিনীর মতিউর ঘাঁটির আবহাওয়া দফতরের হিসাব অনুযায়ী, বুধবার ভোর ৬টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত যশোরে ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা চলতি বর্ষা মৌসুমে যশোরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। বেনাপোল স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি ও বন্দরে পণ্য উঠা-নামায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসেনি বেনাপোলে। ফলে বন্দর ও কাস্টমসের কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
অভয়নগর উপজেলার বেশ কয়েকটি বিলে মাছের ঘের ভেসে গেছে। নওয়াপাড়া শহরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় শত শত বাড়িঘরে পানি ঢুকে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ঝড়ো হাওয়ায় শ’ শ’ গাছপালা উপড়ে পড়েছে। নওয়াড়ার তালতলায় রেল লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়লে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী চিত্রা ট্রেনটি আটকা পড়ে।
সাতক্ষীরা : জেলার সাত হাজার মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। এছাড়া তিন হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন, বীজতলা ও সবজি ক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে নিুাঞ্চল। সাতক্ষীরা পৌর এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানিমগ্ন হয়ে পড়েছে। তালা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রামে পানি ঢুকেছে। শ্যামনগরের সুন্দরবনসংলগ্ন ইউনিয়ন গাবুরার কালীবাড়ির মন্দিরের পাশ থেকে দেড়শ’ ফুট রাস্তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। মুসলিমনগর থেকে নাপিতখালি পর্যন্ত ৩০০ ফুট এলাকা ও চৌদ্দরশি বাজার থেকে স্লুইসগেট পর্যন্ত রাস্তার ইট পানিতে ধসে যাওয়ায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে।
দাকোপ ও বটিয়াঘাটা (খুলনা) : দাকোপ উপজেলার লাউডোব ইউনিয়নের খুটাখালী গ্রামের ঘরের চালে গাছ পড়ে মৃত্যু হয়েছে জয়দেব মৃধার ৮ বছরের শিশু মেয়ে টুসু মৃধার। মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। দাকোপের একটি পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নে সহস্রাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। ৯৫০ হেক্টর আমন ধানের বীজতলা প্লাবিত হয়েছে। ৮০ হেক্টর জমির সবজি নষ্ট হয়েছে। বটিয়াঘাটা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক মৎস্য ঘের ভেসে গেছে। অসংখ্য গাছপালা ও কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। রাস্তার ওপর গাছ পড়ায় যান চলাচল কিছুটা বিঘ্ন হয়।
গলাচিপা (পটুয়াখালী) : গলাচিপার বেড়িবাঁধের বাইরে অবস্থিত নিম্নাঞ্চল ৩ থেকে ৪ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ভিটা তলিয়ে যাওয়ায় এসব বাড়ির লোকজন মাচায় আশ্রয় নিয়েছে। এদের আনেকের রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে। শিশুদের পায়ের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। যাতে তারা পানিতে ডুবে না যায়। গবাদি পশুগুলোও নিয়ে বিপাকে রয়েছেন কৃষকরা।
ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) : ভাণ্ডারিয়া পৌর শহরে সামান্য বৃষ্টি আর স্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে। শহরের কিছু কিছু এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় ও পৌর শহর পোনা নদীর তীরবর্তী অবস্থিত হওয়ায় এবং শহর রক্ষার বেড়িবাঁধ না থাকার ফলে প্রতিনিয়ত জোয়ারের পানি ঢুকে সড়ক জলাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।
গুরুদাসপুর (নাটোর) : গুরুদাসপুরে নন্দকুঁজা নদীর পানি বৃৃদ্ধি পেয়ে ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় ২৫ ভূমিহীন পরিবার ২ সপ্তাহ ধরে বাড়ি ছাড়া। উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের মামুদপুর এলাকার নদীটির উঁচুপাড়ে তারা ঘর তুলে বসবাস করছিলেন।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত