মিজান চৌধুরী    |    
প্রকাশ : ২০ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ে নিয়োগ বিধিমালা
বিদেশী বিয়ে করলে নিয়োগ অযোগ্য
বিদেশী নাগরিক বিয়ে করলে বা বিয়ের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে তারা নিয়োগ পাবেন না। তবে পদোন্নতির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে কোনো পদে নিয়োগের জন্য অবশ্য সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে চাকরির জীবনবৃত্তান্ত সন্তোষজনক হতে হবে। এক্ষেত্রে সন্তোষজনক না হলে পদোন্নতির মাধ্যমে তিনি নিয়োগের জন্য অযোগ্য হবেন। আর সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কাজে যোগদানের তারিখ থেকে দু’বছর থাকতে হবে শিক্ষানবিস হিসেবে।
উল্লিখিত বিধান রেখে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের (জন বিভাগ) কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের (জন বিভাগ) গেজেটেড ও নন-গেজেটেড কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-২০০০ করা হয়েছে স্থগিত।
নতুন বিধিমালায় বলা হয়, পুরনো স্থগিত বিধিমালার সব সম্পাদিত কাজ নতুন বিধিমালার অধীনে সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য হবে। এছাড়া বিধিমালা জারির তারিখে অনিষ্পন্ন কার্যাদি নতুন বিধিমালার অধীনে নিষ্পত্তি করতে হবে।
জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয় তিনভাবে। এর মধ্যে কিছু পদে নিয়োগ সম্পন্ন করা হয় সরাসরি। এক্ষেত্রে সরকারি কর্মকমিশন ও নিয়োগকৃত কর্তৃপক্ষের বাছাই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী করা হয়। তবে বাছাই কমিটি প্রার্থীর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে সুপারিশ করবেন। এছাড়া পদোন্নতি ও প্রেষণে বদলির মাধ্যমে সেখানে নিয়োগ দেয়া হয় সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের।
সরাসরি নিয়োগবিধি : নতুন বিধিমালায় বলা হয়, সরকারি কর্ম কমিশনের সুপারিশ ছাড়া কমিশনের আওতাভুক্ত কোনো পদে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করা যাবে না। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গঠিত কমিটির সুপারিশ ছাড়া কমিশনের আওতার বাইরের কোনো পদে নিয়োগ করা যাবে না। এছাড়া নিয়োগের জন্য বাছাইকৃত প্রার্থীকে অবশ্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক কর্তৃক গঠিত বোর্ডের মাধ্যমে নিয়োগকৃত পদের জন্য শারীরিক অবস্থা উপযুক্ত হতে হবে।
পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ : রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে কোনো পদে পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ করা যাবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাছাই কমিটির সুপারিশ থাকতে হবে। বিশেষ করে তৃতীয় শ্রেণী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে, দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে প্রথম শ্রেণীতে বা তৃতীয় শ্রেণী থেকে প্রথম শ্রেণীর পদে কমিশনের সুপারিশের মাধ্যমে পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ করা হবে।
শিক্ষানবিস বিধিমালা : কোনো পদে পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ করা হলে এক বছর শিক্ষানবিস হিসেবে কাজ করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে। তবে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ চাইলে এর মেয়াদ বাড়াতে পারবেন। তবে তা সর্বসাকুল্য দুই বছরের বেশি হবে না। বিধিমালায় আরও বলা হয়, শিক্ষানবিস থাকাকালীন নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীর আচরণ, কর্ম সন্তোষজনক না হলে বা কর্মদক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে সেক্ষেত্রে নিয়োগ ও পদোন্নতি বাতিল করবেন। বিশেষ করে যে পদ থেকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে আবার সে পদে প্রত্যাবর্তন করাতে পারবেন।
রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব নিয়োগ : এই পদে শতকরা ৫০ ভাগ রাষ্ট্রপতির অভিপ্রায় অনুযায়ী এবং বাকি ৫০ ভাগ নিয়োগ হবে প্রেষণে বদলির মাধ্যমে। তবে রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টি অনুযায়ী এই পদে নিয়োগকৃত কর্মকর্তা বহাল থাকবেন। কোনো কারণে রাষ্ট্রপতির আস্থা হারালে সরকারি কর্মকর্তার ক্ষেত্রে তিনি আগের পদে ফেরত যাবেন। আর বেসরকারি ব্যক্তির ক্ষেত্রে চাকরির অবসান ঘটবে।
বিশেষ বিধান : বিশেষ বিধানে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের নিয়োগ তফসিলে উল্লিখিত কোনো পদ পূরণের ক্ষেত্রে সরাসরি ও পদোন্নতির কোটা বিভাজনে কোনো ভগ্নাংশ এলে সেক্ষেত্রে উভয় কোটার ভগ্নাংশ পূর্ণ সংখ্যা হিসেবে পদোন্নতির কোটার সঙ্গে যুক্ত হবে। উদাহরণস্বরূপ প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়োগে ৭৫ ভাগ পদোন্নতি ও ২৫ ভাগ সরাসরি নিয়োগ বিধান অনুসরণ করা হয়।

এক্ষেত্রে ৭৫ ভাগের ক্ষেত্রে নিয়োগকৃত লোকের সংখ্যা সাড়ে ৭ শতাংশ ও ২৫ ভাগ সরাসরি নিয়োগকৃত লোকের সংখ্যা সাড়ে তিন শতাংশ হলে উভয় শতাংশ থেকে দশমিক ৫০ ভাগ যোগ করে একটি পদ সৃষ্টি করে তা পদোন্নতির কোটায় নিয়োগ করতে হবে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত