যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২০ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
বাজার দর
দাম বেড়েছে চাল মুরগি মসুর ডাল শসা ও রসুনের
আরেক দফা দাম বেড়েছে চালের। সেই সঙ্গে ব্রয়লার মুরগি ছাড়া অন্যান্য মুরগি, দেশী মসুর ডাল, রসুন ও শসার দাম বেড়েছে। তবে মাছ, মাংস, সয়াবিন তেল, চিনি এবং অধিকাংশ সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শেওড়াপাড়া বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র। চালের দাম বৃদ্ধির জন্য খুচরা ব্যসায়ীরা বরাবরের মতোই পাইকারি ব্যবসায়ীদের দায়ী করেছেন। আর দাম বাড়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। তারা বলেছেন, একেক সপ্তাহে একেকটা জিনিসের দাম বাড়ছে। কিন্তু চালের দাম কয়েক সপ্তাহ থেকেই ঊর্ধ্বমুখী। কর্তৃপক্ষের কোনো মনিটরিং কার্যক্রম নেই। ফলে ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন।
বাদামতলী চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, ধানের দামটা একটু বেড়ে যাওয়ায় চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু এতে গৃহস্থরাই লাভবান হচ্ছেন। চালের দাম কম ছিল, ফলে যেটুকু বেড়েছে এটা স্বাভাবিক। তিনি জানান, বর্ষা ও সরকারিভাবে ধান ক্রয় করায় দাম ঊর্ধ্বমুখী।
শুক্রবার সরেজমিন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মিনিকেট চাল ৫০ কেজির বস্তা যেটি গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ২৫০ টাকা। সেটি এখন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩৫০ টাকায়। ২৮ চালের বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭৫০-৮শ’ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১ হাজার ৭শ’ টাকা। পারিজাত চাল বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬৫০ টাকায়, গত সপ্তাহে ছিল ১ হাজার ৬শ’ টাকা। গুটি চাল ১ হাজার ৬৫০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ১ হাজার ৬শ’ টাকা। স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১ হাজার ৬শ’ টাকা। দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আরিফ বলেন, বস্তায় দাম বাড়ায় কেজি প্রতিও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আমরা দাম বাড়ার কারণ জানি না। এটি পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলতে পারবেন। শেওড়াপাড়া বাজারে বেসরকারি চাকরিজীবী আবুল কালাম বলেন, চালের দাম বাড়ছেই। চালের বাজারে অস্থিরতা দেখার কেউ নেই। কারওয়ান বাজারে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা তাহের উদ্দিনের বলেন, বাজার মনিটরিংয়ের বিকল্প নেই।
হঠাৎ করেই বেড়েছে দেশী মসুর ডালের দাম। গত সপ্তাহে যে ডালের কেজি ছিল ১৪০ টাকা সেটি এখন বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ টাকা দরে। কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা। তবে অন্যান্য ডালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে। তবে বেড়েছে অন্যান্য মুরগির দাম। সাদা লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি বাজার ভেদে ১৬৫-১৭০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬০ টাকা কেজি। লাল লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ১৮০ টাকা। কক মুরগি প্রতিকেজি ২৩০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ২১০ টাকা। দেশী মুরগি ৩৫০ টাকা, যা ছিল ৩২০ টাকা। শেওড়াপাড়া বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী রুহুল আমিন বলেন, মুরগির দামও বেড়েছে।
রসুন বিক্রি হচ্ছে দেশী ১৭০ টাকা কেজি, গত সপ্তাহে ছিল ১৬০ টাকা। আমদানি করা বড় রসুন ১৮০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭০ টাকা। শসা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৫ টাকা। দ্বিগুণ দাম বাড়ার কারণ প্রসঙ্গে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী রুবেল মিয়া জানান, বন্যার পর শসা গাছ মরে যাচ্ছে ফলে সরবরাহ কম হওয়ায় দাম বেড়েছে। অন্যদিকে ডিমের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।
মাছ ও সবজি বাজারে স্বস্তি : মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই প্রতিকেজি ৩০০-৪০০ টাকা। মৃগেল ৩২০, বড় পাঙ্গাশ ১৬০,মাঝারি ১২০ টাকা, তেলাপিয়া (বড়) ১২০, কাতলা ৩০০-৩৫০ টাকা। তুলনামূলক কমেছে ইলিশের দাম। ৭শ’ গ্রাম সাইজের ইলিশের জোড়া বিক্রি হচ্ছে ১৫শ’ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৮শ’ টাকা। কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকটি সবজি ও কাঁচা মরিচের দাম কমেছে। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৬০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০ টাকা। ঢেঁড়স ৫০ টাকা, বেগুন ৫০, করলা ৪০-৪৫, টমেটো কমে ৭০ টাকায়, আগে ছিল ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা, পটোলের দাম কমেছে। তবে বেড়েছে বরবটির দাম- বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, আগে ছিল ৫০ টাকা।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত