যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২০ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
চার নারী জঙ্গির লক্ষ্য ছিল সিরিয়া
আইএসের মতাদর্শে বিশ্বাসী চার নারী জঙ্গি সিরিয়া যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিল। এ জন্য তাদের প্রশিক্ষণ দেয় নারী পাকিস্তানি নাগরিক শাপুর আন্টি ও আমিনা। নারী জঙ্গিদের এ দুই প্রশিক্ষক তাদের সিরিয়া যেতে উদ্বুদ্ধ করে। তাদের সঙ্গে মেহেদী ও ফারুক নামে দুই যুবকেরও সিরিয়া যাওয়ার কথা ছিল। গ্রেফতার চার জঙ্গির মধ্যে আকলিমা রহমান মনি র‌্যাবের হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য দিয়েছে। সে জানিয়েছে, তুরস্কফেরত নারী জঙ্গি মাইমুনার সঙ্গেও তারা সাক্ষাৎ করেছে।
ঢাকা ও গাজীপুর থেকে গ্রেফতার চার নারী জঙ্গিকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এতে আকলিমা জানায়, সে মওদুদীবাদে উদ্বুদ্ধ। ডাক্তার ঐশীও তার মতো একই ধ্যান-ধারণা বিশ্বাস করে। প্রায় তিন বছর ধরে তার আইএসসংক্রান্ত অসংখ্য অডিও এবং ভিডিও দেখাশোনা ছাড়াও দাবিক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হালনাগাদ খবর রাখত। সে জানায়, মেহেদী ও ফারুক তাদের জিহাদি বই সরবরাহ করে। এ দু’জনের মাধ্যমেই সে প্রথমে উদ্বুদ্ধ হয়। পরে শাপুর আন্টি ও আমিনার কাছে প্রশিক্ষণ নেয়া শুরু করে। তারা সবাই নতুন ধারার জেএমবির কর্মী। এ গ্রুপে আরও নারী কর্মী আছে। যারা দাওয়াতি ও ইয়ানতের (অর্থ সংগ্রহ) কাজ করছে।
মানারাত ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী আকলিমা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে, গত এক বছর ধরে সে সাইনবোর্ড এলাকার হাজীর পুকুর মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যায়। এ মসজিদের নিচে লাইব্রেরি আছে। ওই লাইব্রেরির মালিক আনসার আলীর সঙ্গে তার বই কেনা নিয়ে কথা হতো। আর সেখানেই ফারুক ও মেহেদীর সঙ্গে তার পরিচয়। পরবর্তীকালে আনসারের মাধ্যমে সে মাহমুদুল হাসান নামে আরেক জঙ্গির সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করে। মাহমুদুল হাসান নিউ জেএমবির দক্ষিণাঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল। বর্তমানে সে কারাগারে। এরাই তাকে আইএসসহ জঙ্গি বিষয়ে কথা বলে।
আকলিমা জামায়েতের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা রাজনৈতিক সংগঠন ইসলামী ছাত্রী সংস্থার বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেত্রী। রাবেয়া বিনতে আজহার নামে আরেক নারীর মাধ্যমে সে ছাত্রী সংস্থায় যোগ দেয়। এই নারীর সঙ্গে মাহমুদুল হাসান সাক্ষাৎ করিয়ে দেয়। পরে তাকে আইএসে যোগ দিতে দাওয়াত দেয় রাবেয়া। এ ছাড়া মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার আগে আনসার আলী তাকে কারাবন্দি মুফতি জমিস উদ্দিন রাহমানীর কিতাবুল আকাইদ এবং দ্বীন কায়েমের সঠিক পথ নামে দুটি বই পড়তে দেয়। আকলিমা আরও জানায়, আইএসসংক্রান্ত আপডেট তথ্য জানতে সে আত তামকিন ব্লগ অনুসরণ করে। এই মাহমুদুল হাসানই তাকে তামকিন ব্লগের তথ্য দেয়। পরে সে তাজরিয়ান আনহার নামে একটি ফেসবুক আইডি চালু করে। তারপর মাহমুদুল হাসানের গোপন আইডি আল সাব্বির খান জাবিলের মাধ্যমে সে যোগাযোগ করে। আকলিমা জানায়, পুরুষ যোদ্ধাদের সহায়তার জন্য তারা সিরিয়ায় যাওয়ার জন্য তৈরি হয়। এ জন্য সবাই বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার ক্ষেত্রে একমতও পোষণ করে।
বাড়ি ছাড়াকে তারা হিজরত হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকে। তার মতোই ডাক্তার ইসতিসনা আক্তার ঐশী, খালেদা পারভীন মেঘলা, ইসরাত জাহান মৌসুমী (মৌ) সিরিয়ায় যেতে আগ্রহী হয়। আর এতে মগজ ধোলাইয়ের কাজ করে পাকিস্তানি ও বাংলাদেশের দুই নারীও। র‌্যাব তাদের ধরতে সব ধরনের অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
র‌্যাব-৪-এর অ্যাডিশনাল ডিআইজি খন্দকার লুৎফুল কবীর শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন করে যাদের নাম আসছে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত