মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নু    |    
প্রকাশ : ২০ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
অস্ত্র ব্যবহারের নীতিমালায় পরিবর্তন আসছে
ইউনিট ভেদে পুলিশকে অত্যাধুনিক অস্ত্র দেয়া হবে
ইউনিট ভেদে পুলিশ বাহিনীতে ভিন্ন ভিন্ন অত্যাধুনিক অস্ত্র দেয়া হবে। সাধারণ টহল ও অভিযান পরিচালনায় আলাদাভাবে এসব অস্ত্র ব্যবহার করবেন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। সহজে বহনযোগ্য ও হালকা ওজনের এসব অস্ত্রের পাশাপাশি লুকিয়ে রাখার জন্য থাকবে একেবারে ছোট আকৃতির অস্ত্র। যে ইউনিটের সদস্যরা ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করে থাকেন, তাদের দেয়া হবে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র। অভিযান পরিচালনার সময় গুলি ফুরিয়ে গেলে কিংবা গুলি ব্যারেলে আটকে গেলে যেন দ্বিতীয়টি ব্যবহার করা যায়, সেজন্যই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দফতরে শীর্ষ পর্যায়ের এক বৈঠকে সম্প্রতি অস্ত্র ব্যবহারে পুরনো নীতিমালা পরিবর্তনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সদর দফতরে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, সরকারে উচ্চ পর্যায়ে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পাওয়ার পরই ইউনিট ভেদে পুলিশের অস্ত্র ব্যবহারের নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। পুলিশের নিরাপত্তা ও মনোবলকে চাঙ্গা রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে পুলিশের অস্ত্র ব্যবহারের নীতিমালা পরিবর্তনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল যুগান্তরকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর অপতৎপরতা বেড়ে গেছে। এসব অপতৎপরতা রোধ করতে গিয়ে পুলিশের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। এ কারণেই বিষয়টি নিয়ে ভাবা হচ্ছে এবং তা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। পর্যালোচনার পর খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, পুলিশ সদর দফতরে বৈঠকের সারসংক্ষেপটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। ওই সারসংক্ষেপে পুলিশের ইউনিট ভেদে কোন সদস্য কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করবেন তার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এটি অনুমোদনের পরই অস্ত্র আমদানির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
কর্মকর্তা আরও বলেন, অস্ত্র ব্যাবহারের নীতিমালায় প্রধানত দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এর একটি হল ক্ষুদ্রাস্ত্র (লেস লেথাল) এবং অপরটি অত্যাধুনিক ভারি অস্ত্র। ঢাকা শহরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় খুব সহজেই শর্ট রেঞ্জের ছোট অস্ত্রের বহন ও ব্যবহার করা যায়। এ অস্ত্র দিয়ে সন্ত্রাসীকে যত সহজে ঘায়েল করা যায় বড় অস্ত্র দিয়ে তা সম্ভব নয়। এজন্য ঢাকা শহরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পুলিশের হাতে যুগোপযোগী অত্যাধুনিক ক্ষুদ্রাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে বিশেষ অঞ্চল ও ইউনিটের জন্য অত্যাধুনিক ভারি অস্ত্র ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে সারসংক্ষেপে। একইভাবে ট্রেনের কামরার মতো ছোট স্থানে কোনো ধরনের রক্তপাত ছাড়াই অপরাধীকে গ্রেফতারের জন্য এক ধরনের বিশেষ অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টিও এতে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই অস্ত্র ব্যবহারে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও সাধারণ ও নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি ঘটবে না। এছাড়া বৈঠকের সারসংক্ষেপে পুলিশের বিশেষ ইউনিটের জন্য একাধিক অস্ত্র ব্যবহারেরও সুপারিশ করা হয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটি) প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশনে উন্নত রাষ্ট্রের একজন পুলিশ সদস্য সব সময় একাধিক অস্ত্র ব্যবহার করে থাকেন। কারণ অভিযান পরিচালনার সময় একটি অস্ত্রের গুলি ফুরিয়ে যেতে পারে। এছাড়া অস্ত্র ব্যবহারকালে গুলি ব্যারেলে জ্যাম কিংবা আটকেও যেতে পারে। এ অবস্থা সৃষ্টি হলে অভিযানরত ওই কর্মকর্তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে তিনি যেন সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি অস্ত্র ব্যবহার করতে পারেন সেজন্যই উন্নত বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে ওই নীতি প্রচলিত রয়েছে। এতে করে প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করার পাশাপাশি অভিযান পরিচালনাকারী সদস্যের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়। এছাড়া একজন কর্মকর্তার কাছে যখন দুটি অস্ত্র সক্রিয় থাকবে তখন তার মনোবলও চাঙ্গা থাকবে। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে পুলিশের এএসআই থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পিস্তল ব্যবহার করেন। নায়েক ব্যবহার করেন এলএমজি। কনস্টেবলরা ব্যবহার করেন চাইনিজ রাইফেল ও শর্টগান। এর বাইরে এসএমজি ও রিভলভারে সীমিত ব্যবহার রয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, অনেক গোপন অপারেশনের সময় অস্ত্র লুকিয়ে রাখতে হয়। বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী পুলিশ কনস্টেবলরা চাইনিজ রাইফেল ও শর্টগানের বাইরে ছোট অস্ত্র ব্যবহার করতে পারেন না। বড় অস্ত্র লুকানো যায় না। এতে পুলিশের গোপন অপারেশনগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সফল হয় না।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত