শাহ আলম খান    |    
প্রকাশ : ২১ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
ট্যানারি সরানো নিয়ে অনিশ্চয়তা
চলছে টাকার খেলা * ফের নানা অজুহাত

সরকারের আলটিমেটাম ও ব্যবসায়ীদের প্রতিশ্রুতি- দুটিই রয়েছে, তা সত্ত্বেও কোরবানির (ঈদুল আজহা) আগে সরছে না রাজধানীর হাজারীবাগের ট্যানারি। ফলে পরিবেশ দূষণরোধে সেখানে কাঁচা চামড়ার সরবরাহ এ মৌসুমেও বন্ধ করা যাচ্ছে না। সরকারের পাঁচ মন্ত্রণালয় এর আগে যৌথভাবে সেখানে সরবরাহ বন্ধ রাখার কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বেশিদিন তা কার্যকর রাখতে পারেনি। শেষে সিদ্ধান্ত আসে সর্বোচ্চ আদালত থেকে। আপিলের কারণে উচ্চ আদালতেও এর দুই দফা রায় হয়। তবু ট্যানারি সরানোর কাজে অগ্রগতি নেই। বরং প্রক্রিয়াটি দীর্ঘসূত্রতায় ফেলতে কৌশলে চলছে ট্যানারি মালিকদের টাকার খেলা।

যদিও স্থানান্তর প্রসঙ্গে চার মাস আগেই ট্যানারি মালিকদের উদ্দেশ্যে হুশিয়ারি দিয়ে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, ‘চামড়া পচেগলে গেলেও হাজারীবাগে আর ঢোকাতে দেয়া হবে না। যুগ যুগ ধরে যারা রাজধানীর পরিবেশ ঝুঁকিতে ঠেলে দিচ্ছে, লাখ লাখ মানুষের জীবন বিপন্ন করে চলেছে, এদের ট্যানারি স্থানান্তর নিয়ে আর কোনো খেলা খেলতে দেয়া হবে না।’

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এখন ব্যবসায়ীরা সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া চূড়ান্ত রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সঙ্গে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে কালক্ষেপণের পথও খুঁজছেন। এতে প্রতি মাসে ক্ষতিপূরণ গুনতে হবে তিন লাখ টাকা। মামলায় লড়তেও প্রয়োজন টাকার। সব কাজেই টাকার খেলা চালিয়ে তাদের উদ্যমের ঘাটতি নেই। শুধু গড়িমসি দ্রুত স্থানান্তর প্রক্রিয়া শেষ করতে।

সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে শিল্পপ্লট রয়েছে ১৫৫টি। সেখানে এ পর্যন্ত স্থানান্তরিত হওয়ার আবেদন পড়েছে ১০৯টি ট্যানারির। এদের মধ্যে ৭৩টি ট্যানারির ৪০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে। এর অন্তত ৪০টি ট্যানারির স্থানান্তর প্রক্রিয়া কোরবানির আগেই শেষ করা সম্ভব। যারা পরিবেশসম্মতভাবে চামড়া শিল্প নগরীতে গিয়েই ‘ওয়েট ব্ল– প্রসেসিং’ কাজটি করতে সক্ষম। ওয়েট ব্ল– প্রসেসিং হচ্ছে কাঁচা চামড়ায় লবণজাতের পর তাতে পানি ও কেমিক্যাল মিশিয়ে বিশেষ যন্ত্রের (ঢোল) সাহায্যে ঘর্ষণের মাধ্যমে লোমমুক্ত করা। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এদের অনেকেই জরিমানা গুনে হলেও যতদিন সম্ভব হাজারীবাগেই ব্যবসা চালিয়ে নিতে চান।

ট্যানারি সরিয়ে নিতে সরকার নীতিগত সহায়তার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ২৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ বরাদ্দ রেখেছে। এর ৬০ শতাংশ অর্থ তালিকাভুক্ত ট্যানারি মালিকদের মধ্যে এরই মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। এছাড়া সাশ্রয়ী মূল্যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে জমি বা শিল্পপ্লট। সেই সঙ্গে বিসিক চামড়া শিল্প নগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) স্থাপনেও ব্যয় (প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা) সরকারই বহন করছে- যা ট্যানারি মালিকদের পরিশোধ করার প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল।

মাস চারেক আগেই ট্যানারি স্থানান্তর নিয়ে সরকার ও ট্যানারি মালিকদের মধ্যে পর্যালোচনা বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে কোরবানির আগেই ট্যানারি সাভারে সরিয়ে নিতে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়। এখন মৌসুম শুরু হওয়ার দিন কয়েক বাকি থাকতেই নানান অজুহাত তুলে তারা অপ্রস্তুত বলে দাবি করছেন। বলছেন, সাভারে বরাদ্দ দেয়া শিল্পপ্লটের নিবন্ধন এখনও তাদের নামে বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। এ কারণে তারা ব্যাংকঋণ নিতে পারছেন না। ফলে ট্যানারি সরিয়ে নেয়ার কাজও তারা অর্থের অভাবে এগিয়ে নিতে পারছেন না। আরও দাবি করা হচ্ছে, চামড়া শিল্প নগরীতে এখনও বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়নি। এ পরিস্থিতিতে ট্যানারি সরিয়ে নিলে কারও ব্যবসা থাকবে না। তাই স্থানান্তরের আগেই শিল্পনগরীর সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে হবে সরকারকে। সব মিলিয়েই ট্যানারি সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ কোরবানির আগে শেষ হওয়ার বিষয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

কয়েকজন ট্যানারি মালিকের সঙ্গে কথা হলে তারা যুগান্তরকে জানান, ট্যানারি একটি ভারি শিল্প। এটি যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি স্থাপন বা প্রতিস্থাপনেও দরকার লম্বা সময়। ফলে জোর করা হলেও কোরবানির আগে ট্যানারি সরানো সম্ভব হবে না। আবার একসঙ্গে সব ট্যানারিও সরানো যাবে না। এটি শেষ করতে হবে পালাক্রমে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এগুলো তাদের খোঁড়া অজুহাত। ট্যানারি মালিকরা অনেক নিয়েছেন। দিয়েছেন শুধু দূষণ। বিভিন্ন ব্যাংকে তারা প্রায় ৭০০ কোটি টাকার খেলাপি। সাধারণ চামড়া ব্যবসায়ীদের পাওনা প্রায় হাজার কোটি টাকাও আটকে রেখে তারা ব্যবসা করছেন। মুনাফা করে এক কারখানা থেকে একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলছেন। অথচ ট্যানারি সরাতে শিল্পপ্লটের নিবন্ধন না হওয়ার কারণ দেখানো হচ্ছে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত