যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২১ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
১৪ দলের বৈঠকে শরিকরা
আ’লীগ নিজের মতো প্রতিরোধ কমিটি করলে হবে না
তৃণমূলে ১৪ দলের জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটিকে কার্যকর, গতিশীল ও সার্বজনীন করতে আবারও মূল শরিক আওয়ামী লীগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দুই শরিক দলের দু’জন শীর্ষ নেতা। তারা বলেন, এ কমিটি শুধু আওয়ামী লীগের মতো করে করলে হবে না, সার্বজনীন হতে হবে। এতে শরিক দলের প্রতিনিধি ছাড়াও চিকিৎসক, ইমামসহ সব পর্যায়ের মানুষ থাকতে হবে।
শনিবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বঙ্গবন্ধু হত্যা নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। এদিকে আজ ২১ আগস্ট হামলায় নিহতদের প্রতি ১৪ দল শ্রদ্ধা জানাবে বলে জানান তিনি।
বৈঠক সূত্র জানায়, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ কমিটি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক। তারা বলেন, তৃণমূলে সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটিতে ১৪ দলের নেতাদের পাশাপাশি সবাইকে রাখতে হবে। আওয়ামী লীগ তার মতো করে কমিটি করলে হবে না। জোটের শরিকদের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি চিকিৎসক, ইমামসহ সব পর্যায়ের মানুষ নিয়ে একটি কার্যকর কমিটি করতে হবে। তৃণমূলে কার্যকর কমিটি গড়ে তুলতে পারলেই দেশ থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দূর করা সম্ভব হবে বলে তারা মত দেন।
এদিকে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের মূখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বঙ্গবন্ধু হত্যায় আওয়ামী লীগকে দায়ী করে দেয়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অসত্য কথা বলে মির্জা ফখরুলের দল বিএনপি জনগণের কাছে ক্ষমা পাবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘মির্জা ফখরুলের দল বিএনপি এবং দলটির নেতারা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন, এখনও দিচ্ছেন। জামায়াতের সঙ্গে আপনারাই জোট করেছেন। এখনও জঙ্গিদের জন্য মায়াকান্না করছেন। সুতরাং এ কথা বলে কোনো লাভ হবে না।’
মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ্য করে নাসিম বলেন, তার দল ক্ষমতায় থাকাকালে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়। খুনি মোশতাকের ইনডেমনিটি ধারণ করেছিল জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়া। শেখ হাসিনার আমলে ’৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের কাজ নিু আদালতে শেষ হয়েছিল। আপিল যখন উচ্চ আদালতে গেল তখন ক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামায়াত। কিন্তু তারপর কী ঘটেছে সেটা দেশবাসী দেখেছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই বিষয়টা পরিষ্কার যে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ক্ষমতায় বসেছিল আওয়ামী লীগ, তাই এর মূল চাবিকাঠি তারাই ঘুরিয়েছিল।
জোটের মূখপাত্র নাসিম বলেন, ১৪ দল মনে করে ২১ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার হওয়া দরকার। দীর্ঘদিন ধরে বিচার চলছে। আমরা আইনমন্ত্রী ও বিচারকার্যে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানাব দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের কাজ শেষ করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হোক। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় এ ভয়াবহ নারকীয় হামলা হলেও তার বিচার তো দূরের কথা তদন্ত পর্যন্ত হয়নি। খালেদা জিয়া এবং হাওয়া ভবনের সরাসরি নির্দেশে এই গ্রেনেড হামলা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন নাসিম।
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ১৪ দলের চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি আরও কয়েকটি জেলার নাম ও সমাবেশের সময়সূচি ঘোষণা করেন। ১৪ দলের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদবিরোধী ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১ সেপ্টেম্বর মানিকগঞ্জ, ২৩ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা, ২৪ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাট ও ২৫ সেপ্টেম্বর নওগাঁ সমাবেশ করার ঘোষণা দেন মোহাম্মদ নাসিম।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, ত্রাণ ও দুর্যোগমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, উপ-দফতর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কেন্দ্রীয় নেতা সুজিত রায় নন্দী, জাসদ (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন প্রমুখ।
বৈঠকেও মির্জা ফখরুলের বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। নেতারা বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর মোশতাক ক্ষমতায় বসলেও এর নেপথ্যে জিয়াউর রহমান ছিল, যা পরবর্তীতে দৃশ্যমান হয়েছে। ১৪ দলের শরিক নেতারা বন্যার্তদের যথেষ্ট ত্রাণ ও সাহায্যের বিষয়টি বৈঠকে উপস্থিত ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার কাছে জানতে চান। তখন মন্ত্রী বলেন, সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এরপর শরিক নেতারা বন্যার পর রোগ-বালাই প্রতিরোধে যাতে চিকিৎসকরা যথাযথ কাজ করেন সে বিষয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এছাড়া দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত