যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২১ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
রিমান্ড শেষে জেল হাজতে তাহমিদ
হাসনাতকে টিএফআইয়ে জেরা অব্যাহত
দু’দফায় ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে গুলশান হামলার ঘটনায় ৫৪ ধারায় গ্রেফতার হওয়া আসামি তাহমিদ হাসিব খানকে শনিবার জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ৩ আগস্ট রাতে তাকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে আটক করে সন্দেহভাজন হিসেবে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত প্রথম দফায় ৮ দিন ও দ্বিতীয় দফায় ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে শনিবার তাকে আদালতে তোলা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে পুনরায় রিমান্ড আবেদন ছিল না। একইভাবে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় গুলশান থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে করা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়নি। আসামিপক্ষের করা জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাহমিদকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন মহানগর হাকিম দেলোয়ার হোসেন। এদিকে টিএফআই (টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন) সেলে এ মামলার প্রথম গ্রেফতার হওয়া আসামি আবুল হাসনাত রেজা করিমকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত আছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হামলাকারী কয়েকজনের সঙ্গে পূর্ব পরিচয়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
গুলশান হামলা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির শনিবার যুগান্তরকে জানান, আসামি তাহমিদ হাসিব খানের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আপাতত রিমান্ড আবেদন না থাকায় আসামি তাহমিদকে আদালত জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। রিমান্ডে তার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যাদি যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি আরও জানান, হাসনাত করিমকে ৮ দিনের রিমান্ড শেষ হলে মঙ্গলবার নাগাদ আদালতে তোলা হবে।
মামলার তদন্ত সূত্র জানায়, ৩ আগস্ট গুলশান আড়ংয়ের সামনে থেকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আবুল হাসনাত রেজা করিমকে আটক করে প্রথমে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরিরের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তার সঙ্গে হিজুবত তাহরিরের মাঠপর্যায়ের অনেকেরই সম্পর্ক ছিল। ৫৪ ধারায় গ্রেফতারের পর ৮ দিনের রিমান্ডে অনেক তথ্য দিয়েছেন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদে হলি আর্টিজানে হামলার ঘটনায় হাসনাত করিমের সম্পৃক্ততার প্রমাণও মেলে। ওই হামলার ঘটনায় তার সাবেক ছাত্র নিবরাস ইসলামসহ কয়েকজন জড়িত ছিল। এ ছাড়া কল্যাণপুরে অপারেশন স্টর্ম টোয়েন্টি সিক্সে নিহত ধানমণ্ডির ১১/এ, সড়কের ৭২ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা রবিউল হকের ছেলে তাজ-উল-হক রাশিকের সঙ্গেও হাসনাতের ঘনিষ্ঠতা ছিল। রাশিক নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। হাসনাত কয়েক দফায় রাশিকের বাসাতেও যান। গুলশান ও কল্যাণপুরে নিহত আরও একাধিক জঙ্গির সঙ্গে হাসনাতের পূর্ব পরিচয় ছিল। তাছাড়া গুলশান হামলার দিন হাসনাতের কর্মকাণ্ডও ছিল সন্দেহযুক্ত। বেশ কয়েকটি ছবিতেও তাকে জঙ্গিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলতে দেখা গেছে। ফলে হাসনাত করিমকে গুলশান হামলা মামলায় প্রথম আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হয় ১৩ আগস্ট। ওই দিনই দ্বিতীয় দফায় ৮ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয় হাসনাতকে। তাকে টিএফআই সেলে নিয়ে এসব বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ জেরা করা হচ্ছে। জেরায় কয়েক জঙ্গির সঙ্গে পূর্ব পরিচয়ের কথা স্বীকার করেছেন হাসনাত।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত