সৈয়দ আতিক    |    
প্রকাশ : ২১ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
সিরিয়ার আইএসের সঙ্গে কথা হতো ঐশীর
মুহাজিরা তালিকায় ১৭ নাম ব্যবহার হতো টর ব্রাউজার
সিরিয়ায় আইএসের চিকিৎসক উম্মে শামসের সঙ্গে ঢাকায় গ্রেফতার নারী চিকিৎসক ইসতিসনা আক্তার ঐশীর যোগাযোগ ছিল। সামাজিক মাধ্যম ও অ্যাপসে দু’জনের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। একপর্যায়ে উম্মে শামসের কাছে একটি মুহাজিরা (নারী হিজরতকারী) তালিকা পাঠায় ডাক্তার ঐশী। এতে ছিল ১৭ জনের নাম। জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দাদের কাছে এসব তথ্য জানিয়েছে নতুন ধারার জেএমবির নারী ইউনিটের এ সদস্য।
দায়িত্বশীল এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রিমান্ডে থাকা চার উচ্চশিক্ষিত জঙ্গির অন্য তিনজনও সিরিয়ার ওই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও সাতজনকে নজরদারিতে আনা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে এবং বিশেষ স্থানে যোগাযোগের ক্ষেত্রে টর ব্রাউজার ব্যবহার করত ঐশী। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যবহার করেও বিশ্বের নানা স্থানে (আইপি) সেটি ব্যবহার দেখানো যেত।
ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ডাক্তার ঐশীসহ চার জঙ্গি বলেছে, উগ্রবাদে জড়িয়ে তারা ভুল পথে আসে। স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগও চায় তারা। র‌্যাবের হেফাজতে অকপটে নারী জঙ্গি ইউনিটের আরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের নাম বলেছে ঐশী। জিজ্ঞাসাবাদে সে আরও দুই নারী চিকিৎসকের নাম জানায়। তার মতোই উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে ওই দুই বন্ধু। এ দু’জন হল- তানজুম হেনা ও তাসনীম নিশাদ।
চার নারী জঙ্গির তথ্য অনুযায়ী, নতুন ধারার জেএমবির দুই সদস্য মেহেদী ও ফারুকের মাধ্যমে তারা আইএস সংক্রান্ত বিষয়ে উদ্বুদ্ধ হয়। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে মাহমুদুল হাসান তানভীর ও আনসার আলী নামে আরও দুই জঙ্গির পরিচয় হয়। এ চক্রের মাধ্যমে পাকিস্তানি নারী জঙ্গি প্রশিক্ষক শাপুর ও ঢাকার আমিনা বেগম তাদের ধর্মীয় ক্লাস নেয়। ধানমণ্ডির একটি বাড়ি ও গাজীপুরের সাইনবোর্ড এলাকার হাজিরপুকুরে শুক্রবার এ ক্লাস হতো। প্রায় তিন বছর ধরে এ গ্র“পটি ঢাকায় নারী জঙ্গি রিত্রুদ্ধট করে। আর এদের প্রধান হিসেবে কাজ করে রাবেয়া বিনতে আজহার নামে আরেক নারী। এরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধু নেটওয়ার্কের (একে অপরের পরিচিত) মাধ্যমে উগ্রপন্থী সদস্য সংগ্রহ করে।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সিরিয়ায় উম্মে শামসের কাছে মুজাহিরা তালিকায় যে ১৭ জনের নাম পাঠায় ঐশী, তাদের সবার সিরিয়া যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারের পর তা ভেস্তে যায়। ওই তালিকার অগ্রভাগে তারা চারজন ছিল। অন্যরা হল- তানজিলা ওরফে মুন্নী, আলিয়া ওরফে তিন্নি ওরফে তিতলী, মনিরা জাহান ওরফে মিলি, ছাবিহা ওরফে মিতু, সাফিয়া ওরফে সানজিদা ওরফে ঝিনুক, মাইমুনা ওরফে মাহমুদা ওরফে লায়লা, তাসনুবা ওরফে তাহিরা, সায়লা ওরফে শাহিদা, সালেহা ওরফে পুতুল ও দিনাত জাহান ওরফে নওমী ওরফে বাণী, সুইটি, তানজুম হেনা ও তাসনীম নিশাদ। এদের কয়েকজন এখন র‌্যাবের নজরদারিতে রয়েছে।
রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্নি চিকিৎসক ইসতিসনা আক্তার ঐশী, মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী আকলিমা রহমান মনি, ইসরাত জাহান মৌসুমী (মৌ) ও খালেদা পারভীন মেঘলাকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এ সময় তাদের কাছ থেকে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর জানার চেষ্টা করেন। একপর্যায় চার নারী জঙ্গি অকপটে সব তথ্যই দেয় গোয়েন্দাদের।
আকলিমা স্বীকার করে মিরপুর ও ধানমণ্ডি এলাকায় তাদের গ্রুপের অনেক সদস্যের বাড়ি আছে। এরা দাওয়াতি ও ইয়ানত (অর্থ সংগ্রহে) কাজ করছে। সে আরও জানায়, কেউ গ্রেফতার হওয়ার পরপরই নতুন ধারার জেএমবিতে নতুন কৌশলে কাজ শুরু করে নারী জঙ্গিরা। এ সময় তারা নিজ বাসা ছেড়ে ভিন্ন স্থানে বসবাস শুরু করে। এমনকি চালচলনও বদলে ফেলে।
জানতে চাইলে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক এডিশনাল ডিআইজি খন্দকার লুৎফুল কবীর যুগান্তরকে বলেন, চার নারী জঙ্গির কাছে পাওয়া তথ্যে কয়েকজনকে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। এদের যে কোনো সময় গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তিনি বলেন, প্রাপ্ত তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় তথ্য তদন্তে কাজে লাগানো হচ্ছে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত