তাবারক উল্ল্যাহ কায়েস, কুমিল্লা ব্যুরো    |    
প্রকাশ : ২১ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
মেস ও ভাড়া বাসাই ভরসা শিক্ষার্থীদের
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা সমস্যা : কুমিল্লা ২

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বর্তমানে শিক্ষার্থী প্রায় সাড়ে ছয় হাজার। এর সঙ্গে প্রতি বছর নতুন ছাত্রছাত্রী ভর্তি হওয়ায় বাড়ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি হলে আবাসনের ব্যবস্থা আছে মাত্র ৭৫০ শিক্ষার্থীর। যদিও থাকছে দ্বিগুণেরও বেশি। বাকি ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর ভরসা মেস ও ভাড়া বাসা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে কুমিল্লা শহর ১১ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় প্রায়ই যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। আবাসন সংকট উত্তরণে বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করলেও কোনো কাজ হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এত দূরে থাকা এবং যাতায়াতের কারণে অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয়সহ লেখাপড়া বাধাগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে ছাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী জানান, চার বছর পেরিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। ভর্তির পর থেকেই ইচ্ছা ছিল হলে থেকে পড়াশোনা করে ভালো ফল করব। কিন্তু নবাব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরানী কুবির একমাত্র ছাত্রী হল হওয়ায় আসন সংকটের কারণে সে স্বপ্ন স্বপ্ন-ই রয়ে গেল। এখন আশা ছেড়ে দিয়েছি। ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়ার পথে প্রতিদিনই নানা সমস্যায় পড়তে হয়। তারপরও নিরুপায় হয়ে বাইরে থাকতে হয়।

লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান জাকির জানান, ভালোভাবে পড়ালেখার জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিবেশ। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোয় তেমন কোনো পরিবেশ নেই। প্রায় রুমেই চারজনের পরিবর্তে থাকছে ৭-৮ জন। এতে সবাইকেই বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। আবাসন সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের জন্য রয়েছে তিনটি হল। এগুলো হল- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, কাজী নজরুল ইসলাম ও ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল। আর ছাত্রীদের জন্য রয়েছে একমাত্র নবাব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরানী হল। এ চারটি হলে মাত্র ৭৫০ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা থাকলেও থাকছে ২-৩ গুণ। বাকি ৭০ ভাগ শিক্ষার্থীদের হলে না থেকেও প্রতি সেমিস্টারে বাধ্যতামূলকভাবে নির্দিষ্ট ফি দিতে হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলগুলিতে নেই কোনো ক্যান্টিনের ব্যবস্থা। বিনোদনের জন্য পৃথক কক্ষ থাকলেও এতে টেলিভিশন ছাড়া নেই অন্য কোনো সরঞ্জাম। খাওয়ার তালিকায়ও রয়েছে নানা সমস্যা। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নেই কোনো বরাদ্দ। শিক্ষার্থীদের টাকায় ডাইনিং চললেও পরিবেশন করা হয় নিুমানের খাবার।

তারা আরও অভিযোগ করেন, হলে থেকে ঠিকমতো পড়াশোনা করাই এখন বড় সমস্যা। গণরুমে ধারণক্ষমতার অনেক বেশি শিক্ষার্থীকে থাকতে হয়। দেখা যায় কেউ পড়ছে আর কেউ ঘুমাচ্ছে। এতে উভয়েরই সমস্যা হচ্ছে।

এদিকে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, আবাসন সংকটে রয়েছেন খোদ শিক্ষক-কর্মকর্তারাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষকের বিপরীতে রয়েছে মাত্র ২টি ডরমেটরি। এতে মাত্র ৪০ জনের থাকার ব্যবস্থা আছে। বাকিদের কুমিল্লা শহরের ভাড়া বাড়িতে থেকেই শিক্ষকতা করতে হচ্ছে। এতে অনেক শিক্ষক নিরাপত্তাহীনতায়ও ভুগছেন। অন্যদিকে নারী শিক্ষকদের জন্যও নেই কোনো বিশেষ আবাসন ব্যবস্থা।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি ড. প্রফেসর মোহাম্মদ আলী আশরাফ যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট দীর্ঘদিনের। এ সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদের জন্য ২টি এবং শিক্ষকদের জন্য একটি ডরমেটরির অনুমোদন পাওয়া গেছে। আগামী অর্থবছরে এর বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি জানান।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত