যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ১২ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
মধ্যাঞ্চলেও বন্যার আশঙ্কা
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে দেশের উত্তরাঞ্চল এখন বন্যাকবলিত। কয়েকশ’ গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সিলেট অঞ্চলও বন্যায় আক্রান্ত। এর প্রভাব পড়তে পারে মধ্যাঞ্চলেও। বন্যা বিশেষজ্ঞরা এ তথ্য জানিয়েছেন।
বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে ভারতের আসামে ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে। দেশেও ভারি বর্ষণ হচ্ছে। বৃষ্টিপাতের এ ধারা কয়েক দিন অব্যাহত থাকলে উত্তরাঞ্চলের পাশাপাশি ঢাকা, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মুন্সীগঞ্জসহ দেশের মধ্যাঞ্চলেও বন্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি দেশের নিন্ম-মধ্যাঞ্চল বা দক্ষিণাঞ্চলও আক্রান্ত হতে পারে। তবে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকা এখন পর্যন্ত সক্রিয় হয়নি। সাধারণত জুলাইয়ের শেষভাগে বা আগস্টে গঙ্গা-পদ্মা এবং ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা হয়। এবার এখন পর্যন্ত গঙ্গা-পদ্মার দিক থেকে আমরা স্বস্তিতে আছি। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র-যমুনার কারণে এ বন্যা আগাম। এবার হাওরাঞ্চলেও আগাম বন্যায় দেশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
দেশের নদ-নদীতে পানির প্রধান উৎস তিনটি নদী অববাহিকা। এগুলো হচ্ছে- ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, সুরমা-কুশিয়ারা বা মেঘনা এবং গঙ্গা-পদ্মা। বর্তমানে প্রথম দুটি নদী অববাহিকার উপরের দিকের জেলাগুলোতে বন্যা চলছে। এর মধ্যে সুরমা-কুশিয়ারায় বিপদসীমার উপরে পানি প্রবাহিত হওয়ায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলে গত দুই সপ্তাহ ধরে বন্যা চলছে।
অপরদিকে গত ৪-৫ দিন ধরে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায় পানির প্রবাহ বেড়েছে। এ কারণে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জে বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব জেলার লাখ লাখ লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ঘরবাড়ি ছেড়ে অনেকেই খোলা আকাশের নিচে, বেড়িবাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন।পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের (এফএফডব্লিউসি) বুলেটিনে দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এ দুই নদীর নুনখাওয়া, চিলমারী, বাহাদুরাবাদ, সারিয়াকান্দি ও সিরাজগঞ্জে বিপদসীমার উপরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ৯টি নদীর পানি এ মুহূর্তে বিপদসীমার উপরে আছে। এগুলো হচ্ছে- ধরলা, তিস্তা, ঘাঘট, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ধলেশ্বরী, সুরমা, কুশিয়ারা এবং কংস। পানি উন্নয়ন বোর্ড দেশের ৯০ স্টেশনে পানি প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৭০ স্টেশনেই পানি বৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন জানান, মৌসুম হিসেবে নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি এবং বন্যার আশঙ্কা থাকা স্বাভাবিক। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের বন্যার লক্ষণ নেই। তিনি বলেন, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা-পদ্মার নদীসমূহের পানির সমতল বাড়ছে। কুশিয়ারা নদীর পানির সমতল হ্রাস পাচ্ছে। ব্রহ্মপুত্রের পানির সমতল আগামী ৪৮ ঘণ্টা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। একই পরিস্থিতি হবে যমুনা নদীর ক্ষেত্রেও। আলাদাভাবে গঙ্গা-পদ্মার পানিও বাড়ছে, যা আরও ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকবে। তবে সুরমা-কুশিয়ারার পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় হ্রাস পেতে পারে। এতে দুই-এক দিনের মধ্যে সিলেট অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যেতে পারে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত