বাসস    |    
প্রকাশ : ২৩ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
হজ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী
ইসলামের পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে আ’লীগ
দেশের কল্যাণে দোয়া করুন * বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সেনা শাসকরা বারবার ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে
রাজধানীর আশকোনায় হাজী ক্যাম্পে শনিবার ‘হজযাত্রা কর্মসূচি-২০১৭’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -যুগান্তর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ধর্মাবলম্বী মানুষ যাতে শান্তিতে বসবাস করে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে সে জন্য হজযাত্রীদের দোয়া করতে বলেছেন। আওয়ামী লীগ কখনোই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেনি বরং ইসলামের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর অবৈধ সেনা শাসকরা ক্ষমতায় টিকে থাকতে বারবার ধর্মকে হাতিয়ার করেছেন। শনিবার সকালে রাজধানীর কুর্মিটোলা বিমানবন্দর এলাকার আশকোনা হজ ক্যাম্পে এ বছরের হজ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন, ‘আপনারা পবিত্র জায়গায় যাচ্ছেন- দোয়া করবেন যেন এই বাংলাদেশে আমাদের ধর্মে যারা বিশ্বাসী এবং সঙ্গে সঙ্গে অন্য ধর্মে যারা বিশ্বাসী তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করতে পারে। ধর্মের নামে যারা বিভ্রান্তির পথে যাচ্ছে আল্লাহ যেন তাদের সুপথে আসার পথ করে দেন। আমাদের দেশের মানুষ যেন একটু শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং উন্নয়নের গতিধারাটা যেন আমরা অব্যাহত রাখতে পারি।’

তিনি বলেন, আমাদের দেশের মানুষ শান্তিতে থাকুক সেটাই আমরা চাই। যারা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে তাদের যেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বিচার করার শক্তি দেন এবং তাদের মনমানসিকতা যেন পাল্টে দেন। ইসলামের বদনাম যেন কেউ করতে না পারে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ প্রশ্নে তার সরকারের ‘জিরো টলারেন্স নীতি’র পুনরুল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মে কোথাও বলে না যে কেউ আত্মঘাতী হলেই বেহেশতে চলে যাবে। কিন্তু এ বিভ্রান্তিটা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান বজলুল হক হারুন, সৌদি দূতাবাসের ডেপুটি কাউন্সিলর সালেহ আল মুতাইরি বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান সভাপতিত্ব করেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল জলিল স্বাগত বক্তৃতা করেন। ঐক্য ও শান্তি কামনায় বিশেষ মোনজাত করা হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম হজ ফ্লাইট ২৪ জুলাই সকালে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যাবে এবং ২৬ আগস্ট পর্যন্ত এ ফ্লাইট চলবে। এ বছর বিমান এবং সৌদি এয়ার লাইন্স ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ যাত্রী পরিবহন করবে। প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার ভাষণের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে দেয়া ভাষণে জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘পবিত্র ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর ক্ষমতায় টিকে থাকতে জিয়া বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছে। ইনডেমিনিটি অধ্যাদেশ জারি করে তাদের বিচারের পথকে রুদ্ধ করেছে। হাজীদের জন্য বঙ্গবন্ধুর কেনা জাহাজ হিযবুল বাহার প্রমোদ ভ্রমণের নামে ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে।

সরকার প্রধান বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় বিএনপি-জামায়াত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে পেট্রোল বোমায় ১৬৫ জন নিরীহ মানুষ হত্যা করেছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আগুন লাগিয়েছে, হাজার হাজার কোরআন শরিফ পুড়িয়েছে। নির্বাচনের দিন ৫৮২টি স্কুল-মাদ্রাসা আগুনে পুড়িয়েছে। ২০১৫ সালেও বিএনপি-জামায়াত ১৩১ জন মানুষকে হত্যা করেছে। ৩ হাজার ৩৬ জন মানুষকে আগুনে ঝলসে দিয়েছে। ৫৫ জন গাড়ির চালক পুড়িয়ে হত্যা করেছে। ট্রেনে আগুন, বাসে আগুন, লঞ্চে আগুন দেয়া আর প্রেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা- এটা কোন ধরনের রাজনীতি আর ধর্ম রক্ষা? প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনিও এ সময় বারবার মৃতু্যুর মুখোমুখি হয়েছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আইভী রহমানসহ আমাদের ২২ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। তিনি হাজীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা পবিত্র হজ পালনে পবিত্র মাটিতে যাচ্ছেন। সেখানে আপনারা দোয়া করবেন বাংলাদেশ ও জনগণের জন্য। এক সময় এমন অবস্থা ছিল যে, একবেলাও খেতে পারত না। ঘর ছিল না। বিদেশ থেকে আনা পুরনো কাপড় পরতে দেয়া হতো।

তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ এবার বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চসংখ্যক মুসল্লি হজ পালন করবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মক্কার হজ মিশনকে শক্তিশালী করেছি। জাতীয় হজ নীতিকে যুগোপযোগী ও তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর করে ‘জাতীয় হজ ও ওমরাহ নীতি-২০১৬’ প্রণয়ন করেছি। তার আলোকেই বর্তমানে হজ ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হচ্ছে। হজবিষয়ক ওয়েব পোর্টাল- িি.িযধলল.মড়া.নফ-তে ক্লিক করলেই আপনারা সব তথ্য পাচ্ছেন। হজ নিয়ে মোবাইল অ্যাপস চালু করা হয়েছে। মোবাইলে এসএমএস-এর মাধ্যমেও প্রত্যাশিত তথ্য পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতার শুরুতেই একজন খাঁটি মুসলমান হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ইসলামের কল্যাণে যে অসামান্য অবদান রেখে যান তার একটি খণ্ড চিত্র তুলে ধরে তারই আদর্শের আলোকে দেশ পরিচালনা করছেন বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জাতির পিতা নিজে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মাদ্রাসা বোর্ড প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ঘোড়দৌড় ও জুয়া বন্ধ করেন। বেতার ও টেলিভিশনে অনুষ্ঠানের শুরু ও সমাপ্তিতে কোরআন তিলাওয়াতের প্রচলন করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যখনই সরকার গঠন করেছে জাতির পিতার আদর্শ অনুসরণ করে ইসলামের কল্যাণ ও প্রসারে কাজ করেছে। তার সরকারই প্রথম পবিত্র আল কোরআনের ডিজিটাল ভার্সন চালু, মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়ন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালু করে। এতে হাজার হাজার আলেম-ওলামার কর্মসংস্থান হয়েছে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত