বাসস ও বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম    |    
প্রকাশ : ২৪ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
উন্নয়নের জন্য চাই সরকারের ধারাবাহিকতা : প্রধানমন্ত্রী
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রোববার জনপ্রশাসন পদক-২০১৭ অনুষ্ঠানে এক নারী কর্মকর্তাকে পদক তুলে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -যুগান্তর

উন্নয়নের জন্য সরকারের ধারাবাহিকতা থাকার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে পুনরায় আমরা সরকার গঠন করি। সরকারের ধারাবাহিকতা থাকার কারণে আজ সত্যিকারভাবে উন্নয়নটা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছতে পারছে এবং উন্নয়নটা দৃশ্যমান হচ্ছে।

রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উদযাপন ও জনপ্রশাসন পদক-২০১৭ অনুষ্ঠানে একথা বলেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় মেয়াদের নির্বাচন নিয়ে বিএনপি প্রশ্ন তুলে আসার মধ্যে তিনি আবারও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে জনগণের রায় প্রত্যাশা করেন। শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মানুষের ভেতর একটা আস্থা-বিশ্বাস ফিরে এসেছে। এ আস্থা-বিশ্বাস যেন মানুষের মনে থাকে এবং গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা যেন অব্যাহত থাকে, সেদিকে সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং যে কোনো প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলা করে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু রুটিন দায়িত্ব পালনে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে আরও কি কাজ করলে মানুষের কল্যাণ হয় সেটা চিন্তা করে সেভাবেই পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলেই দেশ এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি চাকরি যে একটা রুটিন চাকরি- এলাম, বেতন নিলাম, চলে গেলাম সেটা নয়, নিজের ভেতরে উদ্ভাবনী শক্তি কি আছে সেটাও কাজে লাগাতে হবে। নিজেই নিজেকে আবিষ্কার করতে হবে।’ তিনি বলেন, যেখানে যে দায়িত্বপ্রাপ্ত তাকে সেখানে ভাবতে হবে এটা আমার নিজের দায়িত্ব, কারণ এ দেশটা আমার। দেশের মানুষগুলো আমার। কাজেই দেশের মানুষের কল্যাণে আমাদের কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন- আমি আরেকটি বিষয় বলি, যেমন আপনারা একটি ভালো উদ্যোগ নিয়েছেন। আমাদের খুলনার জেলা প্রশাসক একটা উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সেখানে সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আমাদের পুলিশ প্রশাসন ১ দিনের বেতন দিয়ে একটি ফান্ড তৈরি করেছেন ভিক্ষুক মুক্ত করার জন্য। এ ভিক্ষুকদের হিসাব নিয়ে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। এ বিষয়টি আমার খুবই ভালো লেগেছে। তিনি বলেন, কাজেই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যারাই এ ধরনের ফান্ড তৈরি করবেন সেখানে আমিও প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে কিছু অনুদান দেব। যাতে করে তারা এ কর্মসূচি সফলভাবে করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এভাবেই আমাদের চিন্তা করতে হবে, কোথায় কি সমস্যা আছে বা প্রতিটি ক্ষেত্রেই কোন কাজটা করলে আমার দেশের মানুষের কাজে লাগবে, সেভাবেই কাজ করতে পারলে দেশটা এগিয়ে যাবে। জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহম্মদ শফিউল আলম এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোজাম্মেল হক খানও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। দুটি ক্যাটাগরিতে ১৪ জনকে পদক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের সাফল্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা পরিকল্পনা দিয়েছি। আপনারা মাঠপর্যায়ে যারা এটি বাস্তবায়ন করেছেন তাদের সবাইকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই- আর এটা অব্যাহত থাকুক সেটাই আমরা চাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের মনে রাখতে হবে বিশ্বায়ন এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের ফলে একদিকে মানুষের আচরণ এবং রুচিতে যেমন পরিবর্তন এসেছে, তেমনি মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক চিন্তাভাবনাসহ সবকিছু বদলে গেছে। তিনি বলেন, গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট এ পর্যন্ত ১৩১টি বিভিন্ন ধরনের উদ্ভাবন প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বিভাগে পাঠিয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৬৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং ৬৩টি প্রস্তাব বাস্তবায়নাধীন আছে। এগুলো কিন্তু আপনাদেরই উদ্ভাবিত ধারণা।

তিনি বলেন- ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, কমিউনিটি ক্লিনিক, মোবাইল ব্যাংকিং ইত্যাদি সেবা চালু করা হয়েছে। সারা দেশে ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এসব সেন্টারে ১১৬ ধরনের সরকারি-বেসরকারি সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। কৃষি কার্ড ও ফেয়ার পাইস কার্ডের মাধ্যমে কৃষিপণ্য এবং খাদ্যপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা ও ডাক্তারি পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এসএমএসের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি থেকে শুরু করে সব পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ, কৃষি তথ্য প্রেরণ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, বিদেশ থেকে প্রবাসীদের অর্থ প্রেরণসহ অসংখ্য সুযোগ-সুবিধা দ্রুততম সময়ে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার কাজ শুরু হয়ে গেছে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত