বান্দরবান প্রতিনিধি    |    
প্রকাশ : ২৪ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
বান্দরবানে আবারও পাহাড় ধস
শিক্ষিকার লাশ উদ্ধার : নিখোঁজ ৫
বান্দরবানে আবারও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন ৫ জন। এছাড়া জীবিত কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা সবাই বাসযাত্রী। নিহত নারীর নাম চিংমে মারমা (২০)। তিনি একটি স্কুলের শিক্ষিকা। তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট ঢলের কারণে রোববার বান্দরবান-রুমা সড়কের দৌলিয়ানপাড়া এলাকায় (রোয়াংছড়ি উপজেলাভুক্ত) এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বান্দরবান জেলা সদর থেকে যাত্রীবাহী একটি বাস দৌলিয়ানপাড়া এলাকায় (জেলা শহর থেকে ২৬ কিমি. দূরে) পৌঁছে। রাস্তার নির্মাণ কাজ চলায় যাত্রীরা বাস থেকে নেমে নির্মাণাধীন জায়গা হেঁটে পার হয়ে একটু দূরেই আরেক বাসে ওঠার জন্য যাচ্ছিলেন। ঠিক এ সময়ই তাদের ওপর পাহাড় ধসে পড়ে। রাস্তার নির্মাণাধীন জায়গাটি এর আগে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেনাবাহিনীর নির্মাণ প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা ওয়ারেন্ট অফিসার নাজমুল হুদা সাংবাদিকদের জানান, এক মাস ধরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা পাহাড় ধসের মাটি সরানোর কাজে নিয়োজিত থাকায় স্থানটি দিয়ে পারাপার নিষিদ্ধ করে সাইনবোর্ড দিয়েছে। তবু ওই স্থানের দু’পাশে বান্দরবান এবং রুমার যাত্রীবাহী বাস ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। প্রতিদিনের মতো রোববার সকালে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটি পারাপারের সময় আকস্মিকভাবে পাহাড়ি ঢলের পানিসহ পাহাড়ের অংশবিশেষ ধসে সড়কের ওপর নেমে আসে। এ সময় হেঁটে পার হওয়ার সময় অন্তত ৯ জন বাসযাত্রী দুর্ঘটনার শিকার হন। তাদের মধ্যে তিন নারীসহ ৬ জন মাটির তোড়ে খাদে পড়ে যান। সেনা সদস্যসহ নির্মাণ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মাটিচাপা পড়া নিখোঁজ ৬ জনের মধ্যে স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা চিংমে মারমার লাশ উদ্ধার করেন। এছাড়া আরও তিনজনকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠান। তাদের একজনের নাম উথোয়াই মারমা (৩০)। অপর দু’জনের নাম জানা যায়নি। এখনও রুমা উপজেলা পোস্টমাস্টার জাবিউল আলম, স্বাস্থ্য সহকারী মুন্নি বড়ুয়াসহ ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় অঝরে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইছে। ফলে উদ্ধার কাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক সেনা সদস্য, পুলিশ এবং দমকল বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার কাজ অব্যাহত রেখেছেন। ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি, সেনা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ যোবায়ের সালেহীন, সদর সেনা জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মশিউর রহমান জুয়েল, জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক, পুলিশ সপার সনজিত কুমার রায় ও জিএসও-২ মেজর মেহেদী। বান্দরবান-রুমা সড়কের নির্মাণ প্রকৌশল ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর ইফতেখার জানান, সেনা সদস্যরা সরকারি অন্য বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এ সড়কের বিপজ্জনক স্থানগুলো থেকে পাহাড় ধসের মাটি অপসারণ করে পুনরায় যানবহান চলাচল চালু করতে সংস্কার কাজ জোরদার করা হয়েছে। রুমা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান লালসিয়াম বম বলেন, ‘বান্দরবান-ওয়াইজংশন-রুমা সড়কের প্রায় ৩০ কিমি. সড়কপথ এলাকা যানবাহন চলাচলের জন্য খুবই বিপজ্জনক। বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে মাটি পড়ায় ১২ জুন থেকে টানা এক মাস সড়কপথ বন্ধ ছিল। যখনই ভারি বর্ষণ হয়, তখনই পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে।’ এদিকে টানা বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের বান্দরবান অংশের পাইনছড়া বেইলি সেতুটিও তলিয়ে গেছে। ফলে বান্দরবানের সঙ্গে রাঙ্গামাটির সড়কপথের যোগাযোগ রোববার সন্ধ্যায় বন্ধ হয়ে যায়। ওই এলাকার পৌর কাউন্সিল আবু আহমদ যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত