যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২৬ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
জাতীয় সংসদ নির্বাচন
প্রশাসনে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চান ইসি কর্মকর্তারা
আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব * ভোটের সময় ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা * সমভোটে লটারি নয়, পুনঃভোট * আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী অন্তর্ভুক্ত * বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণার বিষয় স্পষ্ট

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় প্রশাসনের ওপর কমিশনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ (আরপিও) সংশোধনের প্রস্তাব করেছেন ইলেকশন কমিশনের (ইসি) মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা। তারা নির্বাচনে আচরণবিধি প্রতিপালন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা চেয়েছেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণার বিষয়টি স্পষ্ট করার কথাও প্রস্তাবে বলা হয়েছে। সমভোট প্রাপ্তদের মধ্যে বিজয়ী ঘোষণার জন্য লটারি প্রথা বাতিল করে পুনঃভোট আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন কর্মকর্তারা। আমলাদের অবসরের পর নির্বাচনে অংশ নেয়ার সময় তিন বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা, সশস্ত্র বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় আনা, প্রার্থীদের জামানতের টাকা বাড়ানো, কোনো প্রার্থী নিজেকে স্বশিক্ষিত বলে দাবি করলেও সেজন্য সনদ নেয়ার বিধান চালুসহ গুচ্ছ প্রস্তাব করেছেন তারা। এসব প্রস্তাব ইসির আইন সংস্কার সংক্রান্ত কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে আইন ও বিধিমালা সংক্রান্ত কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আইন সংস্কারে কিছু প্রস্তাব এসেছে। এছাড়া সংলাপেও কিছু প্রস্তাব আসতে পারে। আমরা নির্বাচন ব্যবস্থা সহজীকরণ ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। জানা গেছে, একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আরপিও এবং নির্বাচন পরিচালনা বিধি, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধি, আচরণবিধিসহ সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আইন সংস্কারের কাজে হাত দিয়েছে ইসি। এ বিষয়ে মাঠ কর্মকর্তাদের মত নিয়েছে ইসি। এর ভিত্তিতেই আইন সংস্কারের প্রস্তাবগুলো এসেছে। আরপিওর ৪৪ই(১)(ডি), এরপর (ই) উপদফা যুক্ত করে এতে কমিশন বা ক্ষেত্রমতে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে কর্মকর্তাদের সরাসরি সাময়িক অপসারণের আদেশ দেয়ার ক্ষমতা যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া আরপিওর অনুচ্ছেদ-২-এ ইলেকট্রোরাল ম্যাজিস্ট্রেট নাম দিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তাদের তফসিল ঘোষণার পর থেকে গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ অনুচ্ছেদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে। এর পক্ষে তাদের যুক্তি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ যুক্ত হলে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ইসির নিরপেক্ষতা দৃশ্যমান হবে। এছাড়া স্বশিক্ষিতের নতুন সংজ্ঞায়নের প্রস্তাব করে এর ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামায় সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সার্টিফিকেটের সত্যায়িত কপি দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু অনেক প্রার্থী স্বশিক্ষিত উল্লেখ করে কোনো সনদের কপি দেন না। বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন। অনুচ্ছেদ ৭-এ ইসি কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর যৌক্তিকতায় বলা হয়েছে, কোন কর্মকর্তাকে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হবে, তা এখন আইনে উল্লেখ নেই। ১২ অনুচ্ছেদে সরকারি আমলাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত, অপসারণ, অবসর বা পদত্যাগের পর তিন বছরের মধ্যে ভোটে অংশ নেয়ার যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা বাড়িয়ে পাঁচ বছর করার প্রস্তাব রয়েছে। ইসি কর্মকর্তাদের যুক্তি, এতে দলীয় সরকারের অধীনে চাকরিরত আমলাদের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাস থেকে মুক্ত রাখা যাবে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক তালিকা দেয়ার যে বিধান রয়েছে, তা বাতিলেরও সুপারিশ রয়েছে। এর পক্ষে কর্মকর্তাদের যুক্তি- যারা স্বাক্ষর দেন তাদের অনেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন; ভয়ে সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের বিষয়টি অস্বীকার করেন। আবার অনেক ভোটার অর্থ লেনদেনে জড়িয়ে পড়েন। আরপিওর ১৩ অনুচ্ছেদে প্রার্থীদের জামানত ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। ১৪ অনুচ্ছেদে মনোনয়ন দাখিল থেকে ভোট পর্যন্ত কেউ অসত্য তথ্য দিলে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা রিটার্নিং অফিসারকে দেয়ার সুপারিশ এসেছে। ২৭ অনুচ্ছেদে পোস্টাল ব্যালটের বিধান বাতিলের সুপারিশ করেছেন মাঠের কর্মকর্তারা। ৩৮ অনুচ্ছেদে সমভোট প্রাপ্তদের মধ্যে বিজয়ী ঘোষণার জন্য লটারি প্রথা বাতিল করে পুনঃভোট আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন কর্মকর্তারা। তাদের যুক্তি, ওই বিধান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বর্তমানে কাস্টিং ভোটের এক অষ্টমাংশ না পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। তা বাড়িয়ে এক-পঞ্চমাংশ করার প্রস্তাব এসেছে। এছাড়া প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের ব্যয় তদারকিতে রিটার্নিং অফিসারের অধীনে একটি মনিটরিং কমিটি করা এবং অডিটে অপরাধ প্রমাণিত হলে পদ শূন্য ঘোষণার বিধান রাখার কথাও মাঠ কর্মকর্তারা বলেছেন। রাজনৈতিক দল নির্ধারিত সময়ে ব্যয় বিবরণী দিতে ব্যর্থ হলে জরিমানা ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আরপিওতে নির্বাচনকালীন যানবাহন সংগ্রহের সুবিধার্থে হুকুম দখলের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। টিআইএন সনদ দাখিলে ১২ ডিজিট ব্যবহার এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণার বিষয়টি স্পষ্ট করার ওপর জোর দেয়া হয়। ভোটের দিন বিভিন্ন ঘটনায় কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার ক্ষমতার পাশাপাশি ভোটের আগে রাতে ব্যালট ছিনতাই পরিস্থিতির অবনতি হলে কেন্দ্রের ভোট বাতিলের ক্ষমতা রিটার্নিং অফিসারকে দেয়ার মতো বিষয়ে বিভিন্ন অনুচ্ছেদে সংযোজন-বিয়োজন করার প্রস্তাব দিয়েছেন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা। ইসির কর্মকর্তারা জানান, আইন ও বিধি সংস্কার কমিটি এ পর্যন্ত একটি বৈঠক করেছে। কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব প্রস্তাব তোলা হবে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত