যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
হরতালের আঁচ ছিল না রাজধানীতে
জামায়াতে ইসলামীর সকাল-সন্ধ্যা হরতালে বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকার চিত্র ছিল অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক। জোটসঙ্গী বিএনপির সমর্থনের পরও হরতালের সমর্থনে এদিন রাজধানীর কোথায়ও জামায়াতের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। রাজপথে দেখা যায়নি সংগঠনটির নেতাকর্মীদের। বরং হরতালের বিরোধিতা করে রাজধানীতে সরব ছিল আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আমীর মকবুল আহমাদ, নায়েবে আমীর মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমানসহ শীর্ষ নেতাদের সোমবার গ্রেফতার করে পুলিশ। এর প্রতিবাদে এ হরতালের ডাক দেয় দলটি। বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের হরতালে সমর্থন জানায় বিএনপি। তবে দলটির কোনো নেতাকর্মীকে হরতালের সমর্থনে মাঠে দেখা যায়নি।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত রাজধানীর পল্টন, মতিঝিল, মগবাজার, ধানমণ্ডি, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, মহাখালী, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, গাবতলী এবং গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, যান চলাচল ছিল স্বাভাবিক। কোথাও কোথাও যানজটও দেখা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে পুলিশের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের চোখে পড়ে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। জামায়াতের কোনো নেতাকর্মীকে চোখে পড়েনি।
সকালের দিকে যানবাহন তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজপথে বাস, মিনিবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে থাকে। সব ধরনের দোকানপাট ও স্কুল কলেজ খোলা ছিল।
রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলো ছেড়ে গেছে সব ধরনের দূরপাল্লার বাস। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বাসগুলোও টার্মিনালে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালের বিভিন্ন বাস কাউন্টারে ছিল যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন। মহাখালী বাস টার্মিনাল সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক যুগান্তরকে জানান, এ টার্মিনাল থেকে অন্যান্য দিনে মতোই রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, নওগাঁ এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের উদ্দেশে গাড়ি ছেড়ে যায়। কোথাও কোনো ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়নি।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান যুগান্তরকে জানান, রাজধানীর কোথাও হরতালে কোনো আঁচড় পড়েনি। কোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। রাজধানীবাসীর জীবনযাত্রা ছিল স্বাভাবিক। তবে যে কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে পুলিশ তৎপর ছিল। তবে স্বতঃস্ফুর্তভাবে মানুষ হরতাল পালন করেছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য শামসুর রহমান। তিনি বলেন, সরকার অপশাসন-দুঃশাসনের কারণে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে এখন জনগণের ওপর জুলুম-নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধ্বংস করে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে বিভোর। কিন্তু দেশপ্রেমিক জনতা তাদের সেই ষড়যন্ত্র কখনোই সফল হতে দেবে না। দলটির পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজধানীর শাহাজাহানপুর, নিউমার্কেট, কলাবাগান, খিলগাঁও, কোতোয়ালি, ডেমরা, কদমতলী, বংশাল, যাত্রাবাড়ী, হাজারীবাগ, ধানমণ্ডি, শ্যামপুর এবং ওয়ারী এলাকায় হরতালের সমর্থনে মিছিল-সমাবেশ হয়েছে।
এদিকে দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে কোনো নেতাকর্মী চোখে পড়েনি। মোহাম্মদ আলী নামে একজন নিজেকে ওই ভবনের নিরাপত্তাকর্মী পরিচয় দিয়ে বলেন, নেতা তো দূরের কথা, এ কার্যালয়ে কোনো কর্মীও আসেন না। ২০১১ সালে থেকেই অনেকটা ভুতুড়ে অবস্থায় রয়েছে কার্যালয়টি। দলের বেশিরভাগ নেতাকর্মী কারাগারে আছেন। মাঝে-মধ্যে পুলিশ এসে কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়ে যায়। বেলা ১২টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, কার্যালয়টির সামনের সড়ক দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক। হরতালে বিএনপি সমর্থন জানালেও রাজপথে দলটির কোনো নেতাকর্মীকে চোখে পড়েনি। এমনকি কার্যালয়ের সামনের সড়কেও তাদের দেখা যায়নি।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত