যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরও দুই মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা
দুর্নীতি ও মানহানির অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় এবং বাংলাদেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার অভিযোগে করা মানহানি মামলায় এ পরোয়ানা জারি করা হয়। এ নিয়ে চলতি মাসেই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তিনটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হল।
দুর্নীতির মামলা : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে বিচারক খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ শুনানি কার্যক্রম শেষ করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ১৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন। দুদকের কোর্ট পরিদর্শক মো. আশিকুর রহমান যুগান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিন মামলায় খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তিনি আদালতে হাজির হননি। তার পক্ষে সময় আবেদন করা হয়। অপরদিকে এদিন মামলার অপর দুই আসামি সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিনের জামিন বর্ধিত করার আবেদন করলে বিচারক তা নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় এ মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করেন আদালত। চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি এ মামলার অন্যতম আসামি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান হাজির না হওয়ায় তার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
মানহানি মামলা : এদিকে বাংলাদেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার অভিযোগে করা মানহানি মামলায়ও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম মো. নূর নবী এ আদেশ দেন। মামলার বাদী বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী যুগান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়াকে ৫ অক্টোবরের মধ্যে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। তা না হলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যুসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছিলেন আদালত। এরপর ৫ অক্টোবরও আদালতে হাজির না হওয়ায় আত্মসমর্পণের জন্য এদিন ধার্য করা হয়।
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলাটি দায়ের করা হয়। আদালত বাদীর অভিযোগের শুনানি নিয়ে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে রাজধানীর তেজগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এবিএম মশিউর রহমান চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর ঢাকা মহানগর হাকিম মো. নূর নবী ২২ মার্চ ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে খালেদা জিয়াকে হাজির হতে সমন জারির আদেশ দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার গঠন করা হলে সেখানে জামায়াতে ইসলামী, ছাত্র শিবির, আলবদর, আলশামস কমিটির সদস্যদের এমপি-মন্ত্রী বানানো হয়। পরবর্তী সময়ে তাদের অনেকেরই আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। এদের মধ্যে তৎকালীন মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদও রয়েছেন। কিন্তু ওই সময় মন্ত্রিত্ব সুবিধা নিয়ে তারা স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকা তাদের বাড়ি ও গাড়িতে ব্যবহার করেন। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পতাকাকে ওইসব স্বাধীনতাবিরোধীর গাড়িতে তুলে দিয়ে সত্যিকার দেশপ্রেমিক জনগণের মর্যাদা খালেদা জিয়া ভূলুণ্ঠিত করেছেন।
এর আগে বাসে পেট্রুলবোমা মেরে আটজনকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় চলতি মাসের ৯ অক্টোবর খালেদা জিয়াসহ বিএনপির ৭৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আরা বেগম।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত