যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
প্রহসনের নির্বাচন বন্ধে আমূল সংস্কার চায় সিপিবি
দেশে ভোটগ্রহণের নামে প্রহসন চলছে মন্তব্য করে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় আমূল সংস্কারের দাবি করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। একইসঙ্গে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়ারও দাবি জানান তিনি। আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে। নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি ইসির ওপর ছেড়ে দিয়েছেন সিপিবির সভাপতি সেলিম। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। সংলাপে দলটির পক্ষ থেকে ১৭টি প্রস্তাব দেয়া হয়। এদিকে একই দিন বিকালে ইসির সংলাপে গণতন্ত্রী পার্টির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে তফসিল ঘোষণার পর ওই সরকার শুধু রুটিন কাজ করবে। কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। এছাড়া ইসির উদ্যোগে প্রতি নির্বাচনী এলাকায় প্রজেকশন সভার আয়োজনসহ ২১ দফা প্রস্তাব কমরছেদলটি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে দল দুটির সঙ্গে পৃথকভাবে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সকালে অনুষ্ঠিত সংলাপে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বে ১১ সদস্য এবং বিকালে গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আরশ আলীর নেতৃত্বে ১১ সদস্য সংলাপে অংশ নেন। এতে নির্বাচন কমিশনারগণ, ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম আরও বলেন, নির্বাচন এখন প্রহসনে পরিণত হয়েছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করতে হবে। নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে সরাসরি কোনো জবাব না দিয়ে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক বা সহায়ক বা কোনো সরকারের অধীনে নয়, নির্বাচন কমিশনের অধীনেই নির্বাচন করতে হবে। সংসদ নির্বাচনের সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে ইসির অধীনে, কোনো সরকারের অধীনে নয়। এ উদ্দেশ্যে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের কর্তৃত্বকে সাংবিধানিকভাবে সংকুচিত করে তা রুটিন কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। তিনি বলেন, সংসদ ভেঙে দিয়ে লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। সংসদ ভেঙে দিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে সমতা বিধান করতে হবে।
সিপিবির প্রস্তাবে আরও বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘জাতীয়ভিত্তিক সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা’ চালু করতে হবে। কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী হতে হলে তাকে ওই রাজনৈতিক দলের কমপক্ষে ৫ বছর সক্রিয় সদস্য হতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তা জাতীয় নির্বাচনে চালু করা যেতে পারে। সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা একশ’তে উন্নীত ও সরাসরি নির্বাচন করতে হবে। অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে, অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার ব্যবস্থা করা; স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর তালিকা জমার বিধান বাতিল করা; প্রার্থী জামানত সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা নির্ধারণ করা; নির্বাচনে টাকার খেলা, সন্ত্রাস ও পেশিশক্তির দৌরাত্ম্য বন্ধ করা; নির্বাচনে ধর্ম, সাম্প্রদায়িকতা ও আঞ্চলিকতার অপব্যবহার রোধ করা; নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণে ও নির্বাচন পরিচালনায় স্বচ্ছতা বিধান করা; নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনী আইন ও বিধির সংস্কার করা।
শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন চায় গণতন্ত্রী পার্টি : ইসির সঙ্গে সংলাপ শেষে গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আরশ আলী বলেন, ???সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ২১ দফা প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সংবিধানের আলোকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে তফসিল ঘোষণার পর দৈনন্দিন কার্যাবলী ছাড়া সরকার নীতিগত কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। দলটির অন্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- নির্বাচনকালে স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ইসির অধীনে রাখতে হবে; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংবিধানে নির্বাচন কমিশনকে যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে তা প্রয়োগ করতে হবে; যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ও জঙ্গি তৎপরতায় যুক্ত ব্যক্তি এবং মিয়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করা; প্রবাসীদের ভোটাধিকার দেয়া; ফৌজদারি দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেয়া; নির্বাচনে ধর্মের ব্যবহার, সাম্প্রদায়িক প্রচার-প্রচারণা ও ভোট চাওয়া নিষিদ্ধ করা; স্বাধীনতাবিরোধী ও ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক দলকে নিবন্ধন না দেয়া।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত